- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ইংরেজ শাসন আমলে বাংলায় প্রতিরোধ, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
"আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে চিত্র 'B'-তে প্রদর্শিত ব্যক্তির ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য" বিশ্লেষণ কর।
"আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে চিত্র 'B'-তে প্রদর্শিত ব্যক্তি তথা রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।" মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে চিত্র-B তে দেখানো ব্যক্তি হলেন মাজা রামমোহন রায়। সমাজ সংস্কারে তার অবদান অপরিসীম। বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তার জন্ম। অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। আধুনিক ভারতের রূপকার রাজা রামমোহন তৎকালীন সমাজের সামাজিক ও রাজনৈতিক গতিধারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। নিজের চিন্তাধারার আলোকে নতুন সমাজ গঠনে প্রয়াসী হন। তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করতে প্রচেষ্টা চালান। তাছাড়া তিনি সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে আত্মীয় সভা নামে একটি সমিতি গঠন করেন। ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট তিন ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন। তার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা উপমহাদেশের ধর্মীয় ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। শুধু সামাজিক আর ধর্মীয় বিষয় নয়, শিক্ষা বিস্তারেও তার অবদান ছিল। রাজা রামমোহন ১৮২২ সালে কোলকাতায় 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'The Spirit of Islam' গ্রন্থটির লেখক কে ছিলেন?
'The Spirit of Islam' গ্রন্থের লেখক সৈয়দ আমীর আলী।
'বাংলার নীল বিদ্রোহের অবসান' ঘটে কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।
নীল চাষিরা ১৮৫৯ সালে প্রচন্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়লে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার নীল কমিশন গঠন করে। এ কমিশনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে নীল চাষকে কৃষকের ইচ্ছাধীন ঘোষণা করা হয় এবং ইন্ডিগো কন্ট্রাক্ট বাতিল করা হয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে। অতঃপর কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হলে নীল চাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
নারী শিক্ষার প্রসারে চিত্র 'A' তে প্রদর্শিত ব্যক্তির অবদান ব্যাখ্যা কর।
নারী শিক্ষার প্রসারে চিত্র 'A'-তে প্রদর্শিত ব্যক্তি অর্থাৎ বেগম রোকেয়ার অবদান অপরিসীম। তাকে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বেগম রোকেয়া সমাজের অবহেলিত নারীদের পক্ষে তখনই কলম ধরেছিলেন যখন নারীরা শিক্ষা অর্জনের অধিকার পেত না, তাদেরকে পর্দার অন্তরালে থাকতে হতো, পুরুষরা ছিল পরিবারের কর্তা আর নারীদেরকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবা হতো না। বেগম রোকেয়া তার 'মতিচুর' গ্রন্থে নারী-পুরুষের সমকক্ষতার যুক্তি দিয়ে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাবলম্বিতা. অর্জন করে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের মধ্য দিয়ে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গ সমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তার স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে: একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১১ সালে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন। ১৯৩১ সালে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৬ সালে কোলকাতায় আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের হাত ধরেই বাংলার মুসলিম জাগরণ সূচিত হয় এবং বর্তমান নারী সমাজের অগ্রগতিতে তার অবদান অপরিসীম।

