• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • সামরিক শাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন (১৯৫৮-১৯৬৯)
সামরিক শাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন (১৯৫৮-১৯৬৯)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বিষয়
পূর্ব পাকিস্তান
পশ্চিম পাকিস্তান
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা
১১৯ জন
৯৫৪ জন
কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা
২৯০০ জন
৪২০০০ জন
গেজেটেড কর্মকর্তা
১৩৩৮ জন
৩৭০৮ জন
নন-গেজেটেড কর্মকর্তা
২৬৩১০ জন
৮২৯৪৪ জন

১৯৬৫ সালে কাকে COP-এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হয়?

১৯৬৫ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহকে COP (Combined Opposition Party) এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মৌলিক গণতন্ত্রের কাঠামো কীরূপ ছিল?

মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে এক ধরনের সীমিত গণতন্ত্র, যাতে কেবল নির্দিষ্ট সংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল। মৌলিক গণতন্ত্র ছিল চার স্তরবিশিষ্ট। যেমন- ১. ইউনিয়ন পরিষদ, ২. থানা পরিষদ, ৩ জেলা পরিষদ ও ৪. বিভাগীয় পরিষদ। এ পরিষদগুলোতে নির্বাচিত ও মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য থাকত। মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশে ৪০০০০ করে মোট ৮০০০০ নির্বাচনি ইউনিট নিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। নির্বাচকমন্ডলীর সদস্যরা মৌলিক গণতন্ত্রী বা বিডি মেম্বার ছিল। তারাই প্রেসিডেন্ট, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচন করতেন।

#

উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে পাকিস্তানি আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি কোন ধরনের বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়েছে ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি প্রশাসনিক বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল সিভিল সার্ভিস নর্মকার্যপরি ১৯৮৯০৬৮-৯ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালমগুলোতে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ৯৫৪ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালির সংখ্যা ছিল মাত্র ২৯০০৭ ১৯৪৭ সালে করাচিতে রাজধানী হওয়ায় সকল সরকারি অফিস-আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপকহারে চাকরি লাভ করে। বলার অপেক্ষা রাখে না, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় সকল উচ্চপদে পশ্চিম পাকিস্তানিরা একচেটিয়া অধিকার ছিল। সরকারের সব দপ্তরের সদর দপ্তর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে বাঙালির পক্ষে সেখানে গিয়ে চাকরি লাভ করা সম্ভব ছিল না। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা না দেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাঙালি ছাত্রদের সাফল্য সহজ ছিল না।

উপরিউক্ত আলোচনার মধ্যে যথোপযুক্তভাবে পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্যগত দিক ফুটে উঠেছে।

#

তুমি কি মনে কর উক্ত বৈষম্যই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের একমাত্র কারণ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উদ্দীপকে ছকে বর্ণিত বৈষম্য অর্থাৎ প্রশাসনিক বৈষম্য বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের একমাত্র কারণ নয় বলে আমি মনে করি।

কেননা প্রশাসনিক বৈষম্য ছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের আরও অনেকগুলো বৈষম্য বিদ্যমান ছিল। নিচে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

১. রাজনৈতিক বৈষম্য ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী করে রাখা হয়। বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর নির্যাতন চালিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশে অচল করে রাখা হয়।

২. সামরিক বৈষম্য দুই পাকিস্তানের বৈষম্যগুলোর মধ্যে সামরিক বৈষম্য ছিল অন্যতম। সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অতি নগণ্য।

৩. অর্থনৈতিক বৈষম্য জন্মলগ্ন থেকে পাকিস্তানে তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গৃহীত হয়। প্রথমটিতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যয় ছিল যথাক্রমে ১১৩ কোটি ও ৫০০ কোটি রুপি। দ্বিতীয়টিতে বরাদ্দ ছিল ৯৫০ কোটি রুপি পূর্ব পাকিস্তানের জন্য, ১৩৫০ কোটি রুপি পশ্চিম পাকিস্তানের জনা। তৃতীয়টিতে 'পূর্ব ও পশ্চিমের জন্য বরাদ্দ যথাক্রমে ৩৬% ও ৬৩%। রাজধানী উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যয় বেশিরভাগ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য।

৪. শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের নিরক্ষর
রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। পশ্চিম পাকিস্তানে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষার বিস্তারের জন্য কোনো চেষ্টা করা হয়নি।

৫. সামাজিক বৈষম্য: রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, ডাকঘর, টেলিফোন প্রভৃতির ক্ষেত্রে বাঙালিদের তুলনায় পশ্চিম পাকিস্তান বেশি সুবিধা ভোগ করত।

৬. সাংস্কৃতিক বৈষম্য দুই অঞ্চলের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাংলা ভাষাকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে এবং বাংলা ভাষাকে আরবি বর্ণে লেখার ষড়যন্ত্র শুরু করে।

তাই বলা যায়, উপরিউক্ত বৈষম্যের শিকার হয়েই বাঙালিরা স্বাধিকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।