- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- সামরিক শাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন (১৯৫৮-১৯৬৯)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রফিক একটি চলচ্চিত্র দেখছিল। ছবিতে একটি অঞ্চলের জনগণের সংগ্রামের ঘটনা দেখাচ্ছিল। ঐ অঞ্চলের জনগণের সাহস, বুদ্ধি ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সরকারের একপেশে নীতির কারণে সংসদে তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। তারা চাকরি, শিক্ষা ও অর্থনীতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত। তাদের বঞ্চনা ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেন এক আপসহীন নেতা। তিনি জনগণের। মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক আইনসভা গঠন, রাজস্ব আদায়ের স্বার্থরক্ষার লক্ষ্যে ব্যবসায় বাণিজ্য, ব্যাংক পরিচালনার ক্ষমতা, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক, সর্বজনীন ভোটের ক্ষমতা ইত্যাদি উক্ত অঞ্চলের হাতে দেওয়ার দাবি জানান।
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার দাবিনামায় বঙ্গবন্ধুর কোন কর্মসূচির প্রতিফলন ঘটেছে- ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার দাবিদাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির কর্মসূচির প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রফিকের বর্ণিত চলচ্চিত্রে দেখা যায়, এক আপসহীন নেতা তার অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ রক্ষার্থে ব্যবসায় বাণিজ্য, ব্যাংক, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতাসহ আরও কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন। তার দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের হাত থেকে মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ভারত-পাকিস্তান ভাগাভাগির পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের চরম অবহেলা, পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সোচ্চার হন। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলনের আহ্বান করেন। উক্ত সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' প্রস্তাব পেশ করেন। ১৩ই মার্চ ১৯৬৬ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে ছয় দফা গৃহীত হবার পর বঙ্গবন্ধু ছয় দফার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য দেন। ছয় দফার পক্ষে দ্রুত ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। ছয় দফা আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের ফলে বাঙালি জাতির মধ্যে ঐক্যের চেতনা জাগ্রত হয়। ফলে বাঙালি তার অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিজয় অর্জন করে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কার মধ্যস্থতায় তাসখন্দ শহরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বিরতি স্বাক্ষরিত হয়?
সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় তাসখন্দ শহরে ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
মতিউর হত্যার প্রেক্ষাপট কী ছিল?
মতিউর হত্যার প্রেক্ষাপট ছিল ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান। ১৯৬৯ সালেল ২০শে জানুয়ারি, ছাত্রদের নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করে। হরতাল চলাকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ২২, ২৩ ও ২৪ই তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষিত হয়। ২৪ তারিখে সারা দেশে হরতাল পালনকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। ঢাকায় নবকুমার ইনস্টিটিউশনের ছাত্র মতিউরসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন যেন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আর পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির এ কিশোর ছাত্র মতিউর নিহত হয়।
তুমি কি মনে কর উক্ত দাবিনামা বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল? যুক্তি দাও।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকে উল্লিখিত দাবিনামায় শেখ মুজিবুর রকমালের ঐতিহাশিক ছয় দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের স্বাধিদলগ আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।
শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ছয় দফা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালিরা অধিকার সচেতন হয়ে ওঠে। ছয় দফা দাবি বাঙালিদেরকে অধিকার আদায়ের সোচ্চার করে তোলে। বাঙালিদের ছয় দফা দাবি দমিয়ে রাখার জন্য আইয়ুব সরকার ছয় দফাকে রাষ্ট্রদ্রোহী ও পাকিস্তানের অখন্ডতার প্রতি হুমকি বলে আখ্যা দেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেন। ছয় দফার প্রবর্তক বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করলে প্রতিবাদে ১৯৬৬ সালের' ৭ই জুন দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। এসময়ে পুলিশের গুলিতে অনেক লোক প্রাণ হারায়। তবুও বাঙালিদেরকে দমিয়ে রাখতে পারেনি তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান। তাই ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার প্রতিবাদে বাংলার ছাত্রজনতা ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান ঘটান। ফলে মামলা প্রত্যাহারসহ সকল আসামিকে বিনাশর্তে মুক্তি দিতে হয়। তারপর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ছয় দফা কর্মসূচি ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনের মূল ইশতেহার। ছয় দফার প্রতি এদেশের সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ছিল। ছয় দফা আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের ফলে বাঙালি জাতির মধ্যে ঐক্যের চেতনা দৃঢ়ভাবে জাগ্রত হয়। অতঃপর বাঙালি ছয় দফার দাবিনামা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে স্বাধিকার আন্দোলনের পথে ধাপে ধাপে এগিয়ে যায়।
তাই বলা যায়, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবিই পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।

