• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল
ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রহমান সাহেব ছিলেন ভারতীয় মুসলিম সমাজের অগ্রদূত। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, ধার্মিক, দেশপ্রেমিক ছিলেন। তিনি শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে একটি সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূত্রপাত করে তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।

সাইমন কমিশন কী?

ব্রিটিশ সরকার ভারতবাসীদের দাবিদাওয়া পরীক্ষা করে দেখার জন্য ১৯২৭ সালের নভেম্বর মাসে স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন প্রেরণ করেন। যা ইতিহাসে সাইমন কমিশন নামে খ্যাত। এ কমিশনে কোনো ভারতীয় সদস্য না থাকায় একে সাদা কমিশন বলে বিদ্রুপ করা হয়। এ কমিশন ১৯৩০ সালের মে মাসে দুখন্ডে এক রিপোর্ট পেশ করেন। এ রিপোর্টে ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার পদ্ধতি এবং স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব করা হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মুসলিম লীগ গঠিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?

মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালে পঠিত হয়।

#

উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মুসলিম মনীষীর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে রহমান সাহেবের কাজের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের স্যার সৈয়দ আহমদ খানের কাজের মিল পরিলক্ষিত হয়।

স্যার সৈয়দ আহমদ খান ছিলেন একজন স্বনামধন্য মুসলিম সমাজ সংস্কারক ও চিন্তাবিদ। তিনি তার দূরদর্শিতা, প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার আলোকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অনীহা ভারতে মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। উপরন্তু মুসলমানদের ইংরেজ বিদ্বেষী মনোভাব শাসক ইংরেজদের এ সম্প্রদায়ের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। এ অবস্থায় স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের আধুনিক পাশ্চাত্য তথা ইংরেজি শিক্ষাগ্রহণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন। পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে প্রগতিশীল ভাবধারার প্রসারের লক্ষ্যে তিনি আলীগড় আন্দোলনের সূচনা করেন। তিনি শাসক ইংরেজদের সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করতেন।

উদ্দীপকে আমরা যে মনীষীর কর্মকান্ডের পরিচয় পাই, তিনি ছিলেন ভারতীয় মুসলিম সমাজের অগ্রদূত। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, ধার্মিক, দেশপ্রেমিক ছিলেন। তিনি শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে একটি সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূত্রপাত করে তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তাই বলা যায়, রহমান সাহেবের কাজের সাথে পাঠ্যবইয়ের স্যার সৈয়দ আহমদ খানের কাজের মিল পরিলক্ষিত হয়।

#

উক্ত মুসলিম মনীষীর কর্মকান্ড পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

উক্ত মুসলিম মনীষী অর্থাৎ স্যার সৈয়দ আহমদ খানের কার্যক্রম তার সম্প্রদায় তথা মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিল।

ব্রিটিশশাসিত ভারতে যেসব মনীষী ও সমাজ সংস্কারক পশ্চাৎপদ মুসলমানদের অজ্ঞতা, সামাজিক শোষণ ও রাজনৈতিক বঞ্চনা থেকে উদ্ধার করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, তাদের মধ্যে স্যার সৈয়দ আহমদ খান অন্যতম প্রধান। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রগতিশীল ভাবধারা প্রসারের লক্ষ্যে তিনি আলীগড় আন্দোলনের সূচনা করেন। ১৮৬৪ সালে তিনি 'অনুবাদ সমিতি' নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করে ইতিহাস, বিজ্ঞান ও সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থাবলি অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। এটি পরবর্তীকালে 'সাহিত্য ও বিজ্ঞান পরিষদ' নামে পরিচিত হয়। সংগঠনটি মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক - পাশ্চত্য শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রচারের প্রধান কেন্দ্র ছিল। এছাড়া ১৮৭০ সালে তাহযিব উল-আখলাক পত্রিকা, ১৮৭৫ সালে মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ, ১৮৭৭ সালে আলীগড় কলেজ এবং ১৮৮৬ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সৈয়দ আহমদ মুসলিম সমাজের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা বিস্তার, উদার নৈতিক মনোভাবের চর্চা ও কুসংস্কার দূর করায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

পরিশেষে বলা যায় যে, স্যার সৈয়দ আহমদ খান উপরিউক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা করে মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। এর মধ্য দিয়ে মুসলমানরা আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করে ব্রিটিশবিরোধী চিন্তাভাবনা থেকে নিজেদের মুক্ত করার প্রয়াস পায় এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও রাজনীতির জগতে প্রবেশ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।