• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল
ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ফুলপুর বাংলাদেশের অন্যতম একটি বড় উপজেলা। প্রশাসনিক কারণে এ বৃহৎ উপজেলাকে ভেঙে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ফুলপুর, বাকি ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে তারাকান্দা উপজেলা গঠিত হয়। ফলে উত্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ ঘটে।

মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

১৯০৬ সালে ভারতবর্ষের মুসলমানদের প্রথম রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ গঠিত হয়। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল- (i) ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের আনুগত্য বৃদ্ধি এবং সরকারের নীতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে মুসলিম জনগণের ভুল ধারণা দূর করা; (ii) ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা; (iii) ভারতের অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। এসব লক্ষ নিয়ে কাজ করার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই মুসলিম লীগ মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সংঘে পরিণত হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে ছিলেন?

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জী।

#

উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বঙ্গভঙ্গের সাদৃশ্য রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।

১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন সুবিশাল বঙ্গপ্রদেশকে দুইভাগে বিভক্ত করেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্ব বাংলা ও আসাম নিয়ে গঠিত একটি প্রদেশ যার রাজধানী হবে ঢাকা আর পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত আরেকটি প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা। শাসনকার্যে সুবিধার কথা বলে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করেন। বঙ্গভঙ্গকে বাংলার মুসলিম সমাজ স্বাগত জানায় কিন্তু হিন্দুরা এর বিরোধিতা করতে থাকে।

অবশেষে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। তবে এ অল্প সময়ে উক্ত অঞ্চলগুলোর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে ফুলপুর বাংলাদেশের অন্যতম একটি বড় উপজেলা। প্রশাসনিক কারণে এ বৃহৎ উপজেলাকে ভেঙে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ফুলপুর, বাকি ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে তারাকান্দা উপজেলা গঠিত হয়। ফলে উক্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ ঘটে। উদ্দীপকের এমন ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে।

#

উক্ত সিন্ধান্ত ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল- পাঠ্যবইয়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।

উক্ত সিদ্ধান্ত অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল। উক্তিটির সাথে আমি একমত।

প্রশাসনিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে লর্ড কার্জন রাজনৈতিক বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করেছিলেন। বঙ্গভঙ্গের পিছনে প্রশাসনিক কারণ ছাড়াও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ব্রিটিশ সরকারের Divide and Rule Policy-এর বাস্তবায়নের ইচ্ছা ছিল। পূর্ব বাংলার মুসলমানদের স্বার্থের অনুকূলে হলেও হিন্দুদের স্বার্থের প্রতিকূল হওয়ায় বঙ্গভঙ্গ নিয়ে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এক রাজনৈতিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ বাংলার মুসলমান বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের গোড়া থেকেই কলকাতায় ছিল শিক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকের মূল কেন্দ্র। অন্যদিকে কৃষিনির্ভর পূর্ব বাংলার অর্থনীতি, শিক্ষা, সামাজিক ক্ষেত্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অনগ্রসর ও পশ্চাৎপদ। মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে থাকে। অন্যদিকে, হিন্দুরা বজাভঙ্গের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসে। হিন্দু নেতারা একে জাতীয় দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতি বলে অভিহিত করেন। স্বয়ং রবি ঠাকুর বাঙালির ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বাংলার মাটি, বাংলার জল গানটি রচনা করেন। মূলত বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে হিন্দুদের অবস্থানের কারু হলো- নতুন রাজধানী ঢাকা হলে কলকাতার সমৃদ্ধি হ্রাস পারে একচেটিয়া ব্যবসায় বিঘ্ন ঘটবে, মুসলমানদের উন্নতি হলে রাজনৈতিক চেতনা জাগ্রত হবে ফলে হিন্দু জমিদাররা কর্তৃত্ব হারাবে। কলকাতার আইনজীবী ও সাংবাদিকরা মনে করেন নতুন প্রদেশ হলে তাদে ব্যবসায় ভাটা পড়বে, কেননা অধিকাংশ মক্কেল ও গ্রাহক ছিল পূর্ববঙ্গের। তাই শ্রেণিগত স্বার্থহানির আশঙ্কায় কলকাতার হিন্দুর বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। যার ফলশ্রুতিতে বঙ্গভঙ্গ বাতিল হয়।

সুতরাং বলা যায়, উক্ত সিদ্ধান্ত অর্থাৎ, বঙ্গভঙ্গ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল।