- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইংরেজ উপনিবেশিক শাসন: ব্রিটিশ আমল
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একটি বৃহৎ রাষ্ট্রে সকল জনগণের স্বার্থে একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হয়। কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ঐ রাজনৈতিক দলের নিকট বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে তারা নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করে। শাসকগোষ্ঠী নতুন রাজনৈতিক দলকে স্বাগত জানায় এবং তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করে।
উক্ত রাজনৈতিক দল গঠনের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উক্ত রাজনৈতিক দল অর্থাৎ মুসলিম লীগ ১৯০৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হওয়ার পর প্রায় এক বছর মুসলিম লীগ নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় থেকে আসা এবং র্যাডিক্যাল চিন্তাধারার তরুণ প্রজন্মের মুসলমানগণ মুসলিম লীগের রাজনীতিতে এগিয়ে আসেন। তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকের বিরোধিতা তো করেনই, অধিকন্তু ভারতে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত সরকার প্রতিষ্ঠারও দাবি করেন। ১৯১০-এর দশকে মুসলিম'লীগ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের আদলে একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ গ্রহণ করে। ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইনের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে জিন্নাহ মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক শাখাসমূহ পুনর্গঠিত করে নতুন কাঠামো প্রদান করেন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে বাংলায় মুসলিম লীগ বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করে। ১৯৩৭ সালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং এর ফলে তার মন্ত্রিসভা কার্যত মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভায় পরিণত হয়। তিনি মুসলিম লীগের মঞ্চ থেকে উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য স্বাধীন আবাসভূমি দাবি করে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬-এর মধ্যে মুসলিম লীগ একটি যথার্থ জাতীয় সংগঠনে পরিণত হয়। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে বাংলার মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ১১৭টি আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ ১১০টি আসন অর্জন করে। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে মুসলিম লীগ ভারতীয় মুসলমানদের প্রায় সকলের সংগঠনে পরিণত হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড কার্জন।
আলীগড় আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পর ইংরেজ শাসকদের পাশাপাশি হিন্দু জমিদাররা মুসলমানদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। ফলে মুসলমানগণ শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে পড়ে। এসময় স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য উত্তর ভারতে আলীগড়কেন্দ্রিক যে আন্দোলন সৃষ্টি করেন তা ইতিহাসে আলীগড় আন্দোলন নামে খ্যাত। মূলত মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষাদীক্ষা বিস্তার এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য স্যার সৈয়দ আহমদ খান আলীগড় আন্দোলন পরিচালনা করেন এবং 'আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকের নতুন রাজনৈতিক দলের উদ্ভব পাঠ্য পুস্তকের কোন ঘটনাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের নতুন রাজনৈতিক দলের উদ্ভব আমার পাঠ্যবইয়ের মুসলিম লীগ নামক রাজনৈতিক দলের গঠনকে ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকে একটি বৃহৎ রাষ্ট্রে সকল জনগণের স্বার্থে একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হয়। কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ঐ রাজনৈতিক দলের নিকট। বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে তারা নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করে। শাসকগোষ্ঠী নতুন রাজনৈতিক দলকে স্বাগত জানায় এবং তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করে। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের মিল রয়েছে। ব্রিটিশ শাসনাধীনে ঐক্যবদ্ধ ভারতের প্রথম জাতীয়ভিত্তিক সংগঠন হচ্ছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। প্রথমদিকে, অল্প কয়েকজন মুসলমান এতে যোগদান করেন। কিন্তু কংগ্রেসের কর্মসূচি মুসলমানদের স্বার্থের পরিপন্থি হওয়ায় মুসলমানরা কংগ্রেস থেকে দূরে সরে আসেন। তারপর মুসলিম নেতৃবৃন্দ মুসলমানদেরকে রাজনৈতিকভাবে একত্রিত করার জন্য একটি পৃথক সংগঠন গড়ে তোলার চিন্তা করেন। তাদের এ চিন্তা থেকেই ১৯০৬ সালে গড়ে ওঠে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ। এ রাজনৈতিক সংগঠন মুসলমানদের দৈন্যদশা থেকে গড়ে ওঠে। মুসলমানরা নিজেদেরকে কংগ্রেসের নিকট অসহায় মনে না করলে এ রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে উঠত না।
অতএব বলা যায় যে, উদ্দীপকের নতুন রাজনৈতিক দলের উদ্ভবের সাথে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সাদৃশ্য রয়েছে।

