• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • সাহিত্যে খেলা [গদ্য]
সাহিত্যে খেলা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

সাহিত্যে খেলা - প্রমথ চৌধুরী

জগৎ-বিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর রোদ্যাঁ, যিনি নিতান্ত জড় প্রস্তরের দেহ থেকে অসংখ্য জীবিতপ্রায় দেবদানব কেটে বার করেছেন তিনিও শুনতে পাই, যখন তখন হাতে কাদা নিয়ে, আঙুলের টিপে মাটির পুতুল ত'য়ের করে থাকেন। এই পুতুল গড়া হচ্ছে তাঁর খেলা। শুধু রোদ্যাঁ কেন, পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন। যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন। আমাদের সঙ্গে বড় বড় শিল্পীদের তফাত এইটুকু যে, তাঁদের হাতে এক করতে আর হয় না। সম্ভবত এই কারণে কলারাজ্যের মহাপুরুষদের যা-খুশি তাই করবার যে অধিকার আছে, ইতর শিল্পীদের সে অধিকার নেই। স্বর্গ হতে দেবতারা মধ্যে মধ্যে ভূতলে অবতীর্ণ হওয়াতে কেউ আপত্তি করেন না, কিন্তু মর্তবাসীদের পক্ষে রসাতলে গমন করাটা বিশেষ নিন্দনীয়। অথচ একথা অস্বীকার করবার জো নেই যে, যখন এ জগতে দশটা দিক আছে তখন সেই সব দিকেই গতায়াত করবার প্রবৃত্তিটি মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক। মন উঁচুতেও উঠতে চায়, নিচুতেও নামতে চায়। বরং সত্য কথা বলতে গেলে সাধারণ লোকের মন স্বভাবতই যেখানে আছে তারই চারপাশে ঘুরে বেড়াতে চায়, উড়তেও চায় না ডুবতেও চায় না। কিন্তু সাধারণ লোকে সাধারণ লোককে কী ধর্ম, কী নীতি, কী কাব্য, সকল রাজ্যেই অহরহ ডানায় ভর দিয়ে থাক্তেই পরামর্শ দেয়। একটু উঁচুতে না চড়লে আমরা দর্শক এবং শ্রোতৃমগুলীর নয়ন মন আকর্ষণ করতে পারি নে। বেদীতে না বসলে আমাদের উপদেশ কেউ মানে না। রঙ্গমঞ্চে না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না, আর কাষ্ঠমঞ্চে না দাঁড়ালে আমাদের বক্তৃতা কেউ শোনে না। সুতরাং জনসাধারণের চোখের সম্মুখে থাকবার লোভে আমরাও অগত্যা চব্বিশ ঘণ্টা টঙে চড়ে থাকতে চাই, কিন্তু পারি নে। অনেকের পক্ষে নিজেদের আয়ত্তের বহির্ভূত উচ্চস্থানে ওঠবার চেষ্টাটাই মহাপতনের কারণ হয়। এসব কথা বলবার অর্থ এই যে, কষ্টকর হলেও আমাদের পক্ষে অবশ্য মহাজনদের পথ অনুসরণ করাই কর্তব্য। কিন্তু ডাইনে-বাঁয়ে ছোটখাট গলিঘুঁজিতে খেলাচ্ছলে প্রবেশ করবার যে অধিকার তাদের আছে, সে অধিকারে আমরা কেন বঞ্চিত হব। গান করতে গেলেই যে সুর তারায় চড়িয়ে রাখতে হবে, কবিতা লিখতে হলেই যে মনের শুধু গভীর ও প্রখর ভাব প্রকাশ করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম থাকা উচিত নয়। শিল্পরাজ্যে খেলা করবার প্রবৃত্তির ন্যায় অধিকারও বড়-ছোট সকলের সমান আছে। এমনকি, একথা বললেও অত্যুক্তি হয় না যে, এ পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই। রাখাল ছেলের সঙ্গে দরিদ্রের ছেলেরও খেলায় যোগ দেবার অধিকার আছে। আমরা যদি একবার সাহস করে কেবলমাত্র খেলা করবার জন্য সাহিত্যজগতে প্রবেশ করি, তাহলে নির্বিবাদে সে জগতের রাজ-রাজড়ার দলে মিশে যাব। কোনোরূপ উচ্চ আশা নিয়ে সে ক্ষেত্রে উপস্থিত হলেই নিম্নশ্রেণিতে পড়ে যেতে হবে।

লেখকেরাও অবশ্য দশের কাছে হাততালির প্রত্যাশা রাখেন, বাহবা না পেলে মনঃক্ষুণ্ণ হন। কেননা তারাই হচ্ছেন যথার্থ সামাজিক জীব, বাদবাকি সকলে কেবলমাত্র পারিবারিক।

বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্য নূতন সম্বন্ধ পাতানোই হচ্ছে কবিমনের নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম। এমনকি, কবির আপন মনের গোপন কথাটিও গীতিকবিতাতে রঙ্গভূমির স্বগতোক্তি স্বরূপেই উচ্চারিত হয়, যাতে করে সেই মর্মকথা হাজার লোকের কানের ভিতর দিয়ে মরমে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু উচ্চমঞ্চে আরোহণ করে উচ্চৈঃস্বরে উচ্চবাক্য না করলে যে জনসাধারণের নয়ন-মন আকর্ষণ করা যায় না, এমন কোনো কথা নেই। সাহিত্যজগতে যাঁদের খেলা করবার প্রবৃত্তি আছে, সাহস আছে, ক্ষমতা আছে, মানুষের নয়ন-মন আকর্ষণ করবার সুযোগ বিশেষ করে তাদের কপালেই ঘটে। মানুষ যে খেলা দেখতে ভালোবাসে তার পরিচয় তো আমরা জড় সমাজেও নিত্য পাই। টাউনহলে বক্তৃতা শুনতেই বা ক'জন যায় আর গড়ের মাঠে ফুটবল খেলা দেখতেই বা ক'জন যায়। অথচ এ কথাও সত্য যে, টাউনহলের বক্তৃতার উদ্দেশ্য অতি মহৎ, আর গড়ের মাঠের খেলোয়াড়দের ছুটোছুটি, দৌড়াদৌড়ি আগাগোড়া অর্থশূন্য এবং উদ্দেশ্যবিহীন। আসল কথা এই যে, মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কেননা তা উদ্দেশ্যহীন। মানুষে যখন খেলা করে, তখন সে এক আনন্দ ব্যতীত অপর কোনো ফলের আকাঙ্ক্ষা রাখে না। যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা। এবং যেহেতু খেলার আনন্দ নিরর্থক অর্থাৎ অর্থগত নয়, সে কারণে তা কারও নিজস্ব হতে পারে না। এ আনন্দে সকলেরই অধিকার সমান।

সুতরাং সাহিত্যে খেলা করবার অধিকার যে আমাদের আছে, শুধু তাই নয়, স্বার্থ এবং পরার্থ এ দুয়ের যুগপৎ সাধনের জন্য মনোজগতে খেলা করাই হচ্ছে আমাদের পক্ষে সর্বপ্রধান কর্তব্য। যে লেখক সাহিত্য ক্ষেত্রে ফলের চাষ করতে ব্রতী হন, যিনি কোনোরূপ কার্য-উদ্ধারের অভিপ্রায়ে লেখনী ধারণ করেন, তিনি গীতের মর্মও বোঝেন না, গীতার ধর্মও বোঝেন না। কেননা খেলা হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্কাম কর্ম, অতএব মোক্ষলাভের একমাত্র উপায়। স্বয়ং ভগবান বলেছেন, যদিচ তার কোনোই অভাব নেই তবুও তিনি এই বিশ্ব সৃজন করেছেন, অর্থাৎ সৃষ্টি তাঁর লীলামাত্র। কবির সৃষ্টিও এই বিশ্ব সৃষ্টির অনুরূপ, সে সৃজনের মূলে কোনো অভাব দূর করবার অভিপ্রায় নেই-সে সৃষ্টির মূল অন্তরাত্মার স্ফূর্তি আর তার ফল আনন্দ। এক কথায় সাহিত্য সৃষ্টি জীবাত্মার লীলামাত্র এবং সে লীলা বিশ্বলীলার অন্তর্ভূত; কেননা জীবাত্মা পরমাত্মার অঙ্গ এবং অংশ। সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। এ দুয়ের ভিতর যে আকাশ-পাতাল প্রভেদ আছে, সেইটি ভুলে গেলেই লেখকেরা নিজে খেলা না করে পরের জন্যে খেলনা তৈরি করতে বসেন।

সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য যে স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে, তার প্রমাণ বাংলাদেশে আজ দুর্লভ নয়। কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, রাজনীতির রাঙালাঠি, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল, নীতির টিনের ভেঁপু এবং ধর্মের জয়ঢাক-এইসব জিনিসে সাহিত্যের বাজার ছেয়ে গেছে। সাহিত্যরাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের মনতুষ্টি হতে পারে, কিন্তু তা গড়ে লেখকের মনতুষ্টি হতে পারে না। কারণ পাঠক সমাজ যে খেলনা আজ আদর করে, কাল সেটিকে ভেঙে ফেলে। সে প্রাচ্যই হোক আর পাশ্চাত্যই হোক, কাশীরই হোক আর জার্মানিরই হোক দুদিন ধরে তা কারও মনোরঞ্জন করতে পারে না। আমি জানি যে, পাঠক সমাজকে আনন্দ দিতে গেলে তারা প্রায়শই বেদনা বোধ করে থাকেন। কিন্তু এতে ভয় পাবার কিছুই নেই; কেননা কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।

অপর পক্ষে এ যুগে পাঠক হচ্ছে জনসাধারণ, সুতরাং তাদের মনোরঞ্জন করতে হলে আমাদের অতি সম্ভা খেলনা গড়তে হবে, নইলে তা বাজারে কাটবে না। এবং সম্ভা করার অর্থ খেলো করা। বৈশ্য লেখকের পক্ষেই শূদ্র পাঠকের মনোরঞ্জন করা সংগত। অতএব সাহিত্যে আর যাই কর-না কেন, পাঠক সমাজের মনোরঞ্জন করবার চেষ্টা কোরো না।

তবে কি সাহিত্যের উদ্দেশ্য লোককে শিক্ষা দেওয়া? অবশ্য নয়। কেননা কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত। স্কুল না বন্ধ হলে যে খেলার সময় আসে না, এ তো সকলেরই জানা কথা। কিন্তু সাহিত্য রচনা যে আত্মার লীলা, এ কথা শিক্ষকেরা স্বীকার করতে প্রস্তুত নন। সুতরাং শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্মকর্ম যে এক নয়, এ সত্যটি একটু স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেওয়া আবশ্যক। প্রথমত শিক্ষা হচ্ছে সেই বস্তু যা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়, অপর পক্ষে কাব্যরস লোকে শুধু স্বেচ্ছায় নয়, সানন্দে পান করে; কেননা শাস্ত্রমতে সে রস অমৃত। দ্বিতীয়ত শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো; কাব্য যে সংবাদপত্র নয়, একথা সকলেই জানেন। তৃতীয়ত অপরের মনের অভাব পূর্ণ করবার উদ্দেশ্যেই শিক্ষকের হস্তে শিক্ষা জন্মলাভ করেছে, কিন্তু কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা হতেই সাহিত্যের উৎপত্তি। সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়, একটি উদাহরণের সাহায্যে তার অকাট্য প্রমাণ দেওয়া যেতে পারে।

বাল্মীকি আদিতে মুনি-ঋষিদের জন্য রামায়ণ রচনা করেছিলেন, জনগণের জন্য নয়। এ কথা বলা বাহুল্য যে, বড় বড় মুনি-ঋষিদের কিঞ্চিৎ শিক্ষা দেওয়া তার উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু রামায়ণ শ্রবণ করে মহর্ষিরাও যে কতদূর আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন তার প্রমাণ তাঁরা কুশীলবকে তাঁদের যথাসর্বস্ব, এমনকি কৌপীন পর্যন্ত পেলা দিয়েছিলেন। রামায়ণ কাব্য হিসেবে যে অমর এবং জনসাধারণ আজও যে তার শ্রবণে-পঠনে আনন্দ উপভোগ করে তার একমাত্র কারণ, আনন্দের ধর্মই এই যে তা সংক্রামক। অপর পক্ষে লাখে একজনও যে যোগবশিষ্ঠ রামায়ণের ছায়া মাড়ান না তার কারণ, সে বস্তু লোককে শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল, আনন্দ দেবার জন্য নয়। আসল কথা এই যে, সাহিত্য কস্মিনকালেও স্কুলমাস্টারির ভার নেয়নি। এতে দুঃখ করবার কোনো কারণ নেই। দুঃখের বিষয় এই যে, স্কুলমাস্টারেরা একালে সাহিত্যের ভার নিয়েছেন।

কাব্যরস নামক অমৃতে যে আমাদের অরুচি জন্যেছে, তার জন্য দায়ী এ যুগের স্কুল এবং তার মাস্টার। কাব্য পড়বার ও বোঝবার জিনিস, কিন্তু স্কুলমাস্টারের কাজ হচ্ছে বই পড়ানো ও বোঝানো। লেখক এবং পাঠকদের মধ্যে এখন স্কুলমাস্টার দণ্ডায়মান। এই মধ্যস্থদের কৃপায় আমাদের সঙ্গে কবির মনের মিলন দূরে থাক, চার চক্ষুর মিলনও ঘটে না। স্কুলঘরে আমরা কাব্যের রূপ দেখতে পাই নে, শুধু তার গুণ শুনি। টীকা-ভাষ্যের প্রসাদে আমরা কাব্য সম্বন্ধে সকল নিগূঢ় তত্ত্ব জানি, কিন্তু সে কী বস্তু তা চিনিনে। আমাদের শিক্ষকদের প্রসাদে আমাদের এ জ্ঞান লাভ হয়েছে যে, পাথুরে কয়লা হীরার সবর্ণ না হলেও সগোত্র; অপর পক্ষে হীরক ও কাচ যমজ হলেও সহোদর নয়। এর একের জন্ম পৃথিবীর গর্ভে অপরটি মানুষের হাতে; এবং এ উভয়ের ভিতর এক দা-কুমড়ার সম্বন্ধ ব্যতীত অপর কোনো সম্বন্ধ নেই। অথচ এত জ্ঞান সত্ত্বেও আমরা সাহিত্যে কাচকে হীরা এবং হীরাকে কাচ বলে নিত্য ভুল করি, এবং হীরা ও কয়লাকে একশ্রেণিভুক্ত করতে তিলমাত্র দ্বিধা করিনে, কেননা ওরূপ করা যে সঙ্গত তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আমাদের মুখস্থ আছে। সাহিত্য শিক্ষার ভার নেয় না, কেননা মনোজগতে শিক্ষকের কাজ হচ্ছে কবির কাজের ঠিক উলটো। কারণ কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা, আর শিক্ষকের কাজ হচ্ছে প্রথমে তা বধ করা, তারপরে তার শবচ্ছেদ করা, এবং ঐ উপায়ে তার তত্ত্ব আবিষ্কার করা ও প্রচার করা। এই সব কারণে নির্ভয়ে বলা যেতে পারে যে, কারও মনোরঞ্জন করাও সাহিত্যের কাজ নয়। কাউকে শিক্ষা দেওয়াও নয়। সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়।

বিচারের সাহায্যে এই মাত্রই প্রমাণ করা যায়। তবে বস্তু যে কী, তার জ্ঞান অনুভূতিসাপেক্ষ তর্কসাপেক্ষ নয়। সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ ক।ে এ কথার অর্থ যদি স্পষ্ট না হয় তাহলে কোনো সুদীর্ঘ ব্যাখ্যার দ্বারা তা স্পষ্টতর করা আমার অসাধ্য।

এই সব কথা শুনে আমার জনৈক শিক্ষাভক্ত বন্ধু এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সাহিত্য খেলাচ্ছলে শিক্ষা দেয়।

সাহিত্যে খেলা [গদ্য] - অনন্যা প্রশ্ন

প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যে খেলা - প্রমথ চৌধুরীসাহিত্যে খেলা (শব্দার্থ ও টীকা)সাহিত্যে খেলা (পাঠ-পরিচিতি)সাহিত্যে খেলা (বহুনির্বাচনি প্রশ্ন)সাহিত্যে খেলা (সৃজনশীল প্রশ্ন)এই পুতুল গড়া হচ্ছে তাঁর খেলাপৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেনযিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেনমন উঁচুতেও উঠতে চায়, নীচুতেও নামতে চায়পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেইমানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কেননা তা উদ্দেশ্যহীনযে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলাতিনি গীতের মর্মও বোঝেন না, গীতার ধর্মও বোঝেন নাকবির সৃষ্টিও এই বিশ্ব সৃষ্টির অনুরূপসাহিত্য সৃষ্টি জীবাত্মার লীলামাত্রসাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য যে স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়েকাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনাকবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীতসাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানোআনন্দের ধর্মই এই যে তা সংক্রামকসাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক কে?প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম কী?বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রশ্ন মুখপত্র হিসেবে পরিচিত পত্রিকাটির নাম কী?'সবুজপত্র' কবে প্রকাশিত হয়?প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?'সনেট পঞ্চাশৎ'-কার লেখা কাব্যগ্রন্থ?প্রমথ চৌধুরী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?প্রমথ চৌধুরী কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে উল্লিখিত বিখ্যাত ভাস্করের নাম কী?ভাস্কর রোদ্যা কোন দেশের নাগরিক?পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই কীসের খেলা খেলে থাকেন?মর্ত্যবাসীদের পক্ষে বিশেষ নিন্দনীয় কী?'রসাতলে গমন' বলতে কী বোঝায়?কষ্টকর হলেও আমাদের পক্ষে কাদের পথ অনুসরণ করা কর্তব্য?কাদের শিল্পরাজ্যে খেলা করার অধিকার সমান?এ পৃথিবীতে ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই কোথায়?লেখকেরা দশের কাছে কীসের প্রত্যাশা রাখেন?প্রমথ চৌধুরীর মতে কারা বাহবা না পেলে মনঃক্ষুণ্ণ হন?কবিমনের নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম কী?মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ কোনটি?'সাহিত্যে খেলা' রচনা মতে, জীবজগতে একমাত্র নিষ্কাম কর্ম কোনটি?কবির সৃষ্টি কীসের অনুরূপ?সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী?সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে কখন?সাহিত্যরাজ্যে পাঠকের মনঃতুষ্টি হয় কী পেয়ে?শূদ্র পাঠকের মনোরঞ্জন করা সংগত কোন লেখকের পক্ষেকার মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত?শাস্ত্রমতে কাব্যরস কেমন?শিক্ষার উদ্দেশ্য কী?'রামায়ণ' কে রচনা করেছেন?আনন্দের ধর্ম কী?প্রমথ চৌধুরীর মতে, কারা একালে সাহিত্যের ভার নিয়েছেন।সাহিত্য কীসের ভার নেয় না?ফরাসি ভাস্কর রোদ্যার পূর্ণ নাম কী?রোদ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যের নাম উল্লেখ করো।ভিক্টর হুগোর প্রতিকৃতি নির্মাণ করেছেন কে?শিব কে?'কলারাজ্য' অর্থ কী?'স্বগতোক্তি' শব্দটির অর্থ কী?'মনোরঞ্জন' মানে কী?শূদ্র কী?'গলাধঃকরণ' শব্দের অর্থ কী?প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের আদিকবি কে?বাল্মীকির আসল নাম কী ছিল?যৌবনে রত্নাকরের পেশা কী ছিল?'কুশীলব' শব্দের অর্থ কী?পাঁচালী কীর্তন ইত্যাদির আসরে গায়ক-গায়িকাকে দেওয়া শ্রোতাদের পারিতোষিককে কী বলে?'যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ'-এর রচয়িতা কে?যোগবশিষ্ঠ রামায়ণে বশিষ্ঠ মুনি কার প্রতি উপদেশ দিয়েছেন?টীকাভাষ্য কী?'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধটি সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?কত বঙ্গাব্দে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধটি 'সবুজপত্র' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধটি কোন বইয়ে সংকলিত হয়?'প্রবন্ধসংগ্রহ' বইটি কত সালে প্রকাশিত হয়?সাহিত্যচর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির সুস্পষ্ট পরিচয় ফুটে উঠেছে কোথায়?সাহিত্যের সঙ্গে কীসের তুলনা চলে?'যখন তখন হাতে কাদা, নিয়ে তা আঙুলের টিপে মাটির পুতুল ই'য়ের করে থাকেন।'- কথাটি কার সম্পর্কে এবং কেন বলা হয়েছে?'পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন।' ব্যাখ্যা করো।'বেদীতে না বসলে আমাদের উপদেশ কেউ মানে না।'- বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?অনেকের পক্ষে উচ্চস্থানে ওঠার, চেষ্টা মহাপতনের কারণ হয় কেন?শিল্পরাজ্যে বড়ো-ছোটো সকলের কী রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।লেখকদের কেন যথার্থ সামাজিক জীব বলা হয়েছে?'বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্য নূতন সম্বন্ধ পাতানোই হচ্ছে কবিমনের নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।মানুষের নয়ন মন আকর্ষণ করার সুযোগ কাদের কপালে কীভাবে ঘটে? বুঝিয়ে লেখো।মানুষ বক্তৃতা শোনার চেয়ে খেলা দেখতে বেশি আগ্রস্থ কেন?'তিনি গীতের মর্মও বোঝেন না, গীতার ধর্মও বোঝেন না।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।'কবির সৃষ্টিও এই বিশ্ব সৃষ্টির অনুরূপ।'- ব্যাখ্যা করো।কবির সৃষ্টিকে বিশ্বসৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?'সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দদান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়।'- কেন?'কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।'- কারণ কী?কীভাবে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়?সাহিত্যে পাঠক সমাজের মনোরঞ্জন করতে কেন নিষেধ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।শিক্ষার উদ্দেশ্য ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের অভিমত ব্যাখ্যা করো।সাহিত্য রচনাকে খেলা করার সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন?শাস্ত্রমতে সাহিত্যের রস অমৃত কেন? ব্যাখ্যা করো।'সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।'- প্রাবন্ধিক কথাটি কেন বলেছেন? ব্যাখ্যা করো।'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে কাব্য এবং সাংবাদপত্রের অবস্থান বিপরীতধর্মী কেন?'সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষাদান করা নয়'- বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?বাল্মীকির রামায়ণ ও যোগবশিষ্ঠ রামায়ণের মৌলিক বিরোধ কোথায়?'আনন্দের ধর্মই এই যে তা সংক্রামক।'- বলতে কোন প্রসঙ্গে কী বোঝানো হয়েছে?'লেখক ও পাঠকদের মধ্যে এখন স্কুলমাস্টার দন্ডায়মান।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।সাহিত্য শিক্ষার ভার নেয় না কেন?মনোজগতে শিক্ষকের কাজ লেখকের কাজের বিপরীং কেন? ব্যাখ্যা করো।'সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।সাহিত্য জগতে লেখকের প্রকৃত কাজ কী?লেখকের মতে, সাহিত্যে কোন আত্মা খেলা করে? ব্যাখ্যা করো।

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ