• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • মানুষ মুহম্মদ (স.) (গদ্য)
মানুষ মুহম্মদ (স.) (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

মানুষ মুহম্মদ (স.) (মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী)

হজরতের মৃত্যুর কথা প্রচারিত হইলে মদিনায় যেন আঁধার ঘনাইয়া আসিল। কাহারও মুখে আর কথা সরে না; কেহবা পাগলের মতো কাণ্ড শুরু করে। রাসুলুল্লাহর পীড়ার খবর শুনিবার জন্য বহুলোক জমায়েত হইয়াছে। কে একজন বলিলেন, তাঁহার মৃত্যু হইয়াছে। বীরবাহু ওমর উলঙ্গ তরবারি হাতে লইয়া লাফাইয়া উঠিলেন, যে বলিবে হজরত মরিয়াছেন, তাহার মাথা যাইবে।

মহামতি আবুবকর শেষ পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পার্শ্বে ছিলেন। তিনি গম্ভীরভাবে জনতার মধ্যে দাঁড়াইলেন। বলিলেন, যাহারা হজরতের পূজা করিত, তাহারা জানুক তিনি মারা গিয়াছেন; আর যাহারা আল্লাহর উপাসক, তাহাদের জানা উচিত আল্লাহ অমর, অবিনশ্বর। আল্লাহর সুস্পষ্ট বাণী: মুহম্মদ (স.) একজন রাসুল বৈ আর কিছু নন। তাঁহার পূর্বে আরও অনেক রাসুল মারা গিয়াছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) মরিতে পারেন, নিহত হইতে পারেন; তাই বলিয়া তিনি যেই সত্য তোমাদের দিয়া গেলেন তাহাকে কি তোমরা মাথা পাতিয়া গ্রহণ করিবে না? এই বিশ্বভুবনে ঐ দূর অন্তরীক্ষে যাহা কিছু দেখিতে পাও সবই আল্লাহর সৃষ্টি, তাঁহারই দিকে সকলের মহাযাত্রা।

হজরত আবুবকরের গম্ভীর উক্তিতে সকলেরই চৈতন্য হইল। হজরত ওমরের শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটাইল। তাঁহার স্মরণ হইল হজরতের বাণী: আমি তোমাদেরই মতো একজন মানুষ মাত্র। তাঁহার মনে পড়িল কুরআনের আয়াত মুহম্মদ, মৃত্যু তোমারও ভাগ্য, তাহাদেরও ভাগ্য। তাঁহার অন্তরে ধ্বনিয়া উঠিল মুসলিমের গভীর প্রত্যয়ের স্বীকারোক্তি অমর সাক্ষ্য: মুহম্মদ (স.) আল্লাহর দাস (মানুষ) ও রাসুল।

শোকের প্রথম প্রচণ্ড আঘাতে আত্মবিস্মৃতির পূর্ণ সম্ভাবনার মধ্যে দাঁড়াইয়া স্থিতধী হজরত আবুবকর (রা.) রাসুলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সীমারেখা সৃষ্টি করিয়া তুলিলেন। তিনি রাসুল, কিন্তু তিনি মানুষ, আমাদেরই মতো দুঃখ-বেদনা, জীবন-মৃত্যুর অধীন রক্ত-মাংসে গঠিত মানুষ- এই কথাই বৃদ্ধ হজরত আবুবকর সিদ্দিক (রা.) মূর্ছিত মুসলিমকে বুঝাইয়া দিলেন।

তিনি মানুষের মন আকর্ষণ করিয়াছিলেন মুখ্যত তাঁহার মানবীয় গুণাবলি দ্বারা। মক্কার শ্রেষ্ঠ বংশে তিনি জন্মিয়াছিলেন। কিন্তু বংশগৌরব হজরতের সচেতন চিত্তে মুহূর্তের জন্যও স্থানলাভ করে নাই।

জন্মদুঃখী হইয়া তিনি সংসারে আসিয়াছিলেন। এই দুঃখের বেদনা তাঁহার দেহসৌন্দর্য ও চরিত্র-মাধুরীর সহিত মিলিয়া তাঁহাকে নরনারীর একান্ত প্রিয় করিয়া তুলিয়াছিল। আবাল্য তিনি ছিলেন আল-আমিন- বিশ্বস্ত, প্রিয়ভাষী, সত্যবাদী। তাঁহার অসাধারণ যোগ্যতা, বুদ্ধি, বিচারশক্তি, বলিষ্ঠ দেহ দেখিয়া মানুষ অবাক হইয়া যাইত। এই সকল গুণ বিবি খাদিজাকে আকর্ষণ করিয়াছিল।

বস্তুত হজরতের রূপলাবণ্য ছিল অপূর্ব, অসাধারণ। মক্কা হইতে মদিনায় হিজরতের পথে এক পরহিতব্রতী দম্পতির কুটিরে তিনি আশ্রয় নেন। রাহী-পথিকদের সেবা করাই ছিল তাহাদের ব্রত। হজরত যখন আসিলেন, কুটিরস্বামী আবু মা'বদ মেষপাল চরাইতে গিয়াছিলেন। তাঁহার পত্নী উম্মে মা'বদ ছাগীদুগ্ধ দিয়া হজরতের তৃষ্ণা দূর করিলেন। গৃহপতি ফিরিলে এই নারী স্বামীর কাছে নব অতিথির রূপ বর্ণনা করেন, সুন্দর, সুদর্শন পুরুষ তিনি। তাঁহার শীর্ষে সুদীর্ঘ কুঞ্চিত কেশপাশ, বয়ানে অপূর্ব কান্তশ্রী। তাঁহার আয়তকৃষ্ণ দুটি নয়ন, কাজল-রেখার মতো যুক্ত ভূযুগল, তাঁহার সুউচ্চ গ্রীবা, কালো কালো দুটি চোখের ঢলঢল চাহনি মনপ্রাণ কাড়িয়া নেয়। গুরুগম্ভীর তাঁহার নীরবতা, মধুবর্ষী তাঁহার মুখের ভাষণ, বিনীত নম্র তাঁহার প্রকৃতি। তিনি দীর্ঘ নন, খর্ব নন, কৃশ নন। এক অপূর্ব পুলকদীপ্তি তাঁহার চোখেমুখে, বলিষ্ঠ পৌরুষের ব্যঞ্জনা তাঁহার অঙ্গে। বড়ো সুন্দর, বড়ো মনোহর সেই অপরূপ রূপের অধিকারী।

সত্যই হজরত বড়ো সুদর্শন পুরুষ ছিলেন। তাঁহার চেহারা মানুষের চিত্ত আকর্ষণে যতটুকু সহায়তা করে, তাহার সবটুকু তিনি পাইয়াছিলেন। সত্যের নিবিড় সাধনায় তাঁহার চরিত্র মধুময় হইয়া উঠিয়াছিল। কাছে আসিলেই মানুষ তাঁহার আপনজন হইয়া পড়িত। অকুতোভয় বিশ্বাসে তিনি অজেয় হইয়াছিলেন। শত্রুর নিষ্ঠুরতম নির্যাতন তাঁহার অন্তরের লৌহকপাটে আহত হইয়া ফিরিয়া যাইত। কিন্তু সত্যে তিনি বজ্রের মতো কঠিন, পর্বতের মতো অটল হইলেও করুণায় তিনি ছিলেন কুসুমকোমল। বৈরীর অত্যাচারে বারবার তিনি জর্জরিত হইয়াছিলেন, শত্রুর লোষ্ট্রাঘাতে-অরাতির হিংস্র আক্রমণে বরাঙ্গের বসন তাঁহার বহুবার রক্তরঙিন হইয়া উঠিয়াছে, তথাপি পাপী মানুষকে তিনি ভালোবাসিয়াছিলেন, অভিশাপ দেওয়ার চিন্তাও তাঁহার অন্তরে উদিত হয় নাই। মক্কার পথে প্রান্তরে পৌত্তলিকের প্রস্তরঘায়ে তিনি আহত হইয়াছেন, ব্যঙ্গবিদ্রূপে বারবার তিনি উপহাসিত হইয়াছেন; কিন্তু তাঁহার অন্তর ভেদিয়া একটি মাত্র প্রার্থনার বাণী জাগিয়াছে;-এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর।

তায়েফে সত্য প্রচার করিতে গিয়া তাঁহাকে কী ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হইতে হইয়াছিল; আমরা দেখিয়াছি। পথ চলিতে শত্রুর প্রস্তরঘায়ে তিনি অবসন্ন হইয়া পড়িতেছিলেন; তখন তাহারাই আবার তাঁহাকে তুলিয়া দিতেছিল। তিনি পুনর্বার চলা শুরু করিলে দ্বিগুণ তেজে পাথরবৃষ্টি করিতেছিল। রক্তে রক্তে তাঁহার সমস্ত বসন ভিজিয়া গিয়াছে, দেহ নিঃসৃত রুধিরধারা পাদুকায় প্রবেশ করিয়া জমিয়া শক্ত হইয়াছে, মৃত্যুর আবছায়া তাঁহার চৈতন্যকে সমাচ্ছন্ন করিবার চেষ্টা করিতেছে, তথাপি অত্যাচারীর বিরুদ্ধে তাঁহার বিন্দুমাত্র অভিযোগ নাই। রমণীর রূপ, গৃহস্থের ধনসম্পদ, নেতৃত্বের মর্যাদা, রাজার সিংহাসন সব কিছুকে তুচ্ছ করিয়া সেই সত্যকে তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠতম সম্বল জ্ঞানে আশ্রয় করিয়াছিলেন; তাঁহাকে উপহাসিত, অবহেলিত, অস্বীকৃত দেখিয়াও ক্রোধ, ঘৃণা বা বিরক্তির একটি শব্দও তাঁহার মুখে উচ্চারিত হয় নাই। অভিসম্পাত করিতে অনুরুদ্ধ হইয়াও তিনি বলিলেন: না না, তাহা কখনই সম্ভব নয়। এই পৃথিবীতে আমি ইসলামের বাহন, সত্যের প্রচারক। মানুষের দ্বারে দ্বারে সত্যের বাণী বহন করা আমার কাজ। আজ যাহারা সত্যকে অস্বীকার করিতেছে, তাঁহাকে মারিতে উদ্যত হইয়াছে, হয়ত কাল তাহারা-তাহাদের অনাগত বংশধরেরা ইসলাম কবুল করিবে।

আপনার আঘাত জর্জরিত দেহের বেদনায় তিনি কাতর। সত্যকে ব্যাহত দেখিয়া মনের ব্যথা তাঁহার সেই কাতরতাকে ছাপাইয়া উঠিল। তিনি ঊর্ধ্বদিকে বাহু প্রসারণ করিয়া বলিলেন: তোমার পতাকা যদি দিয়াছ প্রভু, হীন আমি, তুচ্ছ আমি, নির্বল আমি, তাহা বহন করিবার শক্তি আমায় দাও। বিপদবারণ তুমি অশরণের শরণ তুমি, তোমার সত্য মানুষের দ্বারে পৌঁছাইয়া তাহাকে উন্নীত করিলেন যাঁহারা- তাঁহাদের পংক্তিতে আমার স্থান দাও।

মক্কাবাসীরা হজরতের নবিত্ব লাভের শুরু হইতেই তাঁহার প্রতি কী নির্মম অমানুষিক অত্যাচার চালাইয়াছিল, আমরা দেখিয়াছি। যখন তাহাদের নির্যাতন সহনাতীত হইল, যখন দেখা গেল, কোরেশরা সত্যকে গ্রহণ করিবে না, হজরত মদিনায় চলিয়া গেলেন। পথে তাঁহাকে হত্যা করিবার জন্য, তাঁহার ও হজরত আবুবকরের ছিন্ন মুণ্ড আনিবার জন্য বিপুল পুরস্কারের লোভ দেখাইয়া, ক্ষুধার্ত ব্যাঘ্রের মতো হিংস্র শত শত ঘাতক পাঠানো হইল। বদর, ওহোদ ও আহজাব (বা খন্দক) যুদ্ধে মক্কার বাসিন্দা এবং তাহাদের মিত্রজাতিরা সম্মিলিত হইয়া ইসলামের ও মুসলিমের চিহ্নটুকু পর্যন্ত ধরাপৃষ্ঠ হইতে মুছিয়া ফেলিবার জন্য প্রাণপণ করিল। খয়বরের যুদ্ধে হজরতের পরাজয়ের মিথ্যা সংবাদ শুনিয়া হজরতের মৃত্যু সম্ভাবনায় আনন্দে আত্মহারা হইয়া পড়িল। হুদায়বিয়া সন্ধিতে হজরতের শান্তিপ্রিয়তার সুযোগ লইয়া মুসলিমের স্কন্ধে ঘোর অপমানের শর্ত চাপাইয়া দেওয়ার পরও তাহাদের সহিত বিশ্বাসঘাতকতা করিতে চাহিল এবং তারপর হজরত যেই দিন বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করিলেন, সেই দিনও তাঁহার সহিত যুদ্ধকামনা করিয়া খালিদের সহিত হাঙ্গামা বাঁধাইয়া দিল। এইভাবে শেষ পর্যন্ত যাহারা পদে পদে আনিয়া দিল লাঞ্ছনা, অপমান, অত্যাচার, নির্যাতন, প্রত্যেক সুযোগে যাহারা হানিল বৈরিতার বিষাক্ত বাণ, হজরত তাঁহাদের সহিত কী ব্যবহার করিলেন? জয়ীর আসনে বসিয়া ন্যায়ের তুলাদণ্ড হাতে লইয়া বলিলেন ভাইসব, তোমাদের সম্বন্ধে আমার আর কোনো অভিযোগ নাই, আজ তোমরা সবাই স্বাধীন, সবাই মুক্ত। মানুষের প্রতি প্রেমপুণ্যে উদ্ভাসিত এই সুমহান প্রতিশোধ সম্ভব করিয়াছিল হজরতের বিরাট মনুষ্যত্ব।

শুধু প্রেম-করুণায় নয়, মানুষ হিসেবে আপনার তুচ্ছতাবোধ আপনার ক্ষুদ্রতার অনুভূতি তাঁহার মহিমাগৌরবকে মুহূর্তের জন্যও ছাপাইয়া উঠিতে পারে নাই। মক্কাবিজয়ের পর হজরত সাফা পর্বতের পার্শ্বে বসিয়া সত্যান্বেষী মানুষকে দীক্ষা দান করিতেছেন, এমন সময় একটি লোক তাঁহার কাছে আসিয়া ভয়ে কাঁপিতে লাগিল। হজরত স্মিতমুখে তাহাকে বলিলেন, কেন তুমি ভয় পাইতেছ? ভয়ের কিছুই এখানে নাই। আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই। আমি এমন এক নারীর সন্তান, সাধারণ শুষ্ক মাংসই ছিল যাঁহার নিত্যকার আহার্য।

মহামহিমার মাঝখানে আপনার সামান্যতম এই অনুভূতিই হজরতের চরিত্রকে শেষ পর্যন্ত সুন্দর ও স্বচ্ছ রাখিয়াছিল। মানুষ ত্রুটির অধীন, হজরতও মানুষ, সুতরাং তাঁহারও ত্রুটি হইতে পারে- এই যুক্তির বলে নয়, বরং তাঁহার অনাবিল চরিত্রের স্বচ্ছ সহজ প্রকাশ মর্যাদাহানির আশঙ্কা তুচ্ছ করিয়া, লোকচক্ষে সম্ভাবিত হেয়তার ভয় অবহেলায় দূর করিয়া তিনি অকুতোভয়ে আত্মদোষ উদঘাটন করিয়াছেন।

একদিন তিনি মক্কার সম্ভ্রান্ত লোকদের কাছে সত্য প্রচারে ব্রতী। মজলিসের এক প্রান্তে বসিয়া একটি অন্ধ। সম্ভবত সে হজরতের দুইএকটি কথা শুনিতে পায় নাই। বক্তৃতার মাঝখানে একটি প্রশ্ন করিয়া সে হজরতকে থামাইল। বাধা পাইয়া হজরতের মুখে ঈষৎ বিরক্তির আভাস ফুটিয়া উঠিল, তাঁহার ললাট সামান্য কুঞ্চিত হইল।

ব্যাপারটি এমন কিছুই গুরুতর নয়। বক্তৃতায় বাধা হইলে বিরক্তি অতি স্বাভাবিক। আবার দুঃখী দুর্বল লোকদের হজরত বড়ো আদর করিতেন, কাহারও ইহা অজ্ঞাত নয়। সুতরাং তিনি অন্ধকে ঘৃণা করিয়াছেন, কাঙাল বলিয়া তাহাকে হেলা করিয়াছেন, এই কথা কাহারও মনে আসে নাই। কিন্তু তাঁহার এই তুচ্ছতম ত্রুটির প্রতি ইঙ্গিত আসিল কুরআনের একটি বাণীতে। তিনি বিনা দ্বিধায়, বিনা সঙ্কোচে তাহা সকলের কাছে প্রচার করিলেন।

মানুষ হিসেবে যে ক্ষুদ্রতাবোধ, মানুষের সহজ দৈন্যের যে নির্মল অনুভূতি হজরতকে আপনার দোষত্রুটি সাধারণের চক্ষে এমন নির্বিকারভাবে ধরাইয়া দিতে প্ররোচিত করিয়াছিল, তাহাই আবার তাঁহার মহিমান্বিত জীবনে ইচ্ছা-স্বীকৃত দারিদ্র্যের মাঝখানে প্রদীপ হইয়া জ্বলিয়াছিল। অনাত্মীয় পরিপার্শ্বের মধ্যেও নিবিড় নির্বিচার ভক্তি, শ্রদ্ধা, স্বীকৃতি ও আনুগত্য তিনি বড়ো অল্প পান নাই। শত শত, বরং সহস্র সহস্র মুসলিম তাঁহার ব্যক্তিগত পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের উপকরণ সংগ্রহ করিয়া দিতে সর্বদা শুধু ইচ্ছুক নয়, সমুৎসুক ছিল। কিন্তু হজরত আপনাকে দশজন মানুষের মধ্যে একজন গণনা করিলেন, সকলের সঙ্গী সহচররূপে সহোদর ভাইয়ের মতাদর্শ প্রয়াসী নেতার কর্তব্য পালন করিলেন। সত্যের জন্য অত্যাচার নির্যাতন সহিলেন, দুঃখে-শোকে অশ্রুনীরে তিতিয়া আল্লাহর নামে সান্ত্বনা মানিলেন, দেশের রাজা-মানুষের মনের রাজা হইয়া স্বেচ্ছায় দারিদ্র্যের কণ্টক মুকুট মাথায় পরিলেন। তাই তাঁহার গৃহে সকল সময় অন্ন জুটিত না, নিশার অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালিবার মতো তৈলটুকুও সময় সময় মিলিত না। এমনি নিঃস্ব কাঙালের বেশে মহানবি মৃত্যু রহস্যের দেশে চলিয়া গেলেন।

স্বামীর মহাপ্রয়াণে বিয়োগবিধুরা আয়েশার বক্ষ ভেদিয়া শোকের মাতম উঠিল, মানুষের মঙ্গল সাধনায় যিনি অতন্দ্র রজনী যাপন করিলেন, সেই সত্যাশ্রয়ী আজ চলিয়া গেলেন।

নিঃস্বতাকে সম্বল করিয়া যিনি বিশ্বমানবের জন্য আপনাকে বিলাইয়া দিলেন, তিনি আজ চলিয়া গেলেন। সাধনার পথে শত্রুর আঘাতকে যিনি অম্লান বদনে সহিলেন। হায়, সেই দয়ার নবি, মানুষের মঙ্গল বহিয়া আনিবার অপরাধে প্রস্তরঘায়ে যাঁহার দাঁত ভাঙিয়াছিল, প্রশস্ত ললাট রুধিরাক্ত হইয়াছিল, আর সেই আহত জর্জরিত মুমূর্ষু দশাতেও যিনি শত্রুকে প্রেমভরে আশীর্বাদ করিয়াছিলেন, তিনি আজ জীবন-নদীর ওপারে চলিয়া গেলেন। দুই বেলা পূর্ণোদর আহারও যাঁহার ভাগ্যে হয় নাই, ত্যাগ ও তিতিক্ষার মূর্ত প্রকাশ মহানবি আজ চলিয়া গেলেন। বিবি আয়েশার মর্মছেঁড়া এই বিলাপ সমস্ত মানুষের, সমগ্র বিশ্বের। শুধু সত্য সাধনায় নয়, শুধু ঊর্ধ্ব লোকচারী মহাব্রতীর তত্ত্বানুসন্ধানে নয়, মানুষের সঙ্গে মানুষের ব্যবহারে হযরত মোস্তফা ইতিহাসের একটি অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, তিতিক্ষা, সাহস, শৌর্য, অনুগ্রহ, আত্মবিশ্বাস, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও সমদর্শন চরিত্র- সৌন্দর্যের এতগুলি দিকের সমাহার ধুলোমাটির পৃথিবীতে বড়ো সুলভ নয়। তাই মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ, আমাদের অতি আপনজন হইয়াও তিনি অনুকরণীয়, বরণীয়।

মানুষ মুহম্মদ (স.) (গদ্য) - অন্যান্য প্রশ্ন

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী (লেখক-পরিচিতি)মানুষ মুহম্মদ (স.) (মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী)মানুষ মুহম্মদ (স.) (শব্দার্থ ও টীকা)মানুষ মুহম্মদ (স.) (পাঠ-পরিচিতি)মানুষ মুহম্মদ (স.) (কর্ম-অনুশীলন)মানুষ মুহম্মদ (স.) (বহুনির্বাচনি প্রশ্ন)মানুষ মুহম্মদ (স.) (সৃজনশীল প্রশ্ন)'পৌত্তলিক' শব্দের অর্থ কী?হজরত মুহম্মদ (স.)-কে কারা উপহাস ও ব্যঙ্গবিদ্রূপ করেছিল?হজরত মুহম্মদ (স.)-কে মক্কায় প্রস্তরঘায়ে আহত করেছিল কারা?হজরত মুহম্মদ (স.) শত্রুর প্রস্তরঘায়ে অবসন্ন হয়ে পড়েছিলেন কোথায়?কোন যুদ্ধে হজরতের পরাজয়ের মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়েছিল?হজরতের শান্তিপ্রিয়তার সুযোগে মুসলিমদের ওপর ঘোর অপমানের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল কোন সন্ধিতে?'এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা করো'- মহানবি (স.) এ প্রার্থনা কাদের জন্য করেছিলেন?শত্রুদের দ্বারা আহত হলেও মহানবি (স.)-এর অন্তরে কোন চিন্তা উদিত হয়নি?সকল মানবীয় গুণাবলির ধারক কে ছিলেন?মক্কাবাসীদের ক্ষমা করার মাধ্যমে মহানবি (স.)-এর চরিত্রে কী প্রকাশ পেয়েছে?মহানবি (স.) কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?মক্কার শ্রেষ্ঠ বংশে জন্মেও মহানবি (স.)-এর মধ্যে কোন অনুভূতি ছিল?'আমি এমনই এক নারীর সন্তান, সাধারণ শুষ্ক মাংসই ছিল যাহার নিত্যকার আহার্য।'— কথাটিতে মহানবি (স.)-এর কী প্রকাশ পেয়েছে?মহানবি (স.) মানুষের মন জয় করেছিলেন মূলত কী দিয়ে?হজরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবনযাপন কেমন ছিল?হজরত মুহম্মদ (স.) অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও কোন কাজে পিছপা হননি?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর জন্মস্থান কোথায়?অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানের সময় মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোন শ্রেণির ছাত্র ছিলেন?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী পেশা হিসেবে কী গ্রহণ করেন?সাংবাদিক হিসেবে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোন কোন বাংলায় পত্রিকায় কাজ করেন?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোন ইংরেজি পত্রিকায় কাজ করতেন?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থের নাম কী?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর প্রবন্ধগ্রন্থটির নাম কী?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?হজরতের মৃত্যুর কথা শুনে কোথায় আঁধার ঘনিয়ে আসে?যে বলিবে হজরত মরিয়াছেন, তাহার মাথা যাইবে— উক্তিটি কার?মুহম্মদ (স.) একজন রাসুল বৈ আর কিছু নন— এটি কার বাণী?"কার উক্তিতে সকলের চৈতন্য হলো?কার শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল?আমি তোমাদেরই মতো একজন মানুষ মাত্র— বাণীটি কার?হজরতের চিত্তে মুহূর্তের জন্য কোনটি স্থান লাভ করেনি?সত্যের নিবিড় সাধনায় হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্র কেমন হয়ে উঠেছিল?ছাগীদুগ্ধ দিয়ে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর তৃষ্ণা দূর করেছিলেন কে?মহানবি (স.)-এর তুচ্ছতম ত্রুটির ইঙ্গিত আসে কোথা থেকে?'বীরবাহু' শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?'স্থিতধী' শব্দের অর্থ কী?পরের উপকারে নিয়োজিত—এক কথায় কী বলে?'লোস্ট্রাঘাত' শব্দের অর্থ কী?'রাহী' শব্দের অর্থ কী?'অরাতি' শব্দের অর্থ কী?হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মাজার কোথায় অবস্থিত?তায়েফ কী?সাফা ও মারওয়া কী?হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর পর বহু হাদিস উদ্ধৃত করেন কে?'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধটি কে রচনা করেছেন?'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের মূল বিষয় কী?'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে কী বিশ্লেষিত হয়েছে?মানুষের পক্ষে আচরণীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন কে?বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসার মধ্যে থেকেও সাধারণ জীবনযাপন করতেন কে?বিশ্বের সকল মানুষের জন্য অনুকরণীয় ছিল কী?হজরত মুহম্মদ (স.)-এর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান কোনটি ছিল?হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারীদের মধ্যে কী দেখা দিয়েছিল?হজরত আবুবকর (রা.) প্রচণ্ড শোককে কীভাবে শান্ত করেন?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর জন্ম কত সালে?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?ছাত্রজীবনে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোন আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন?'স্মার্ণানন্দিনী' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কত সালে কলকাতা ছেড়ে বাঁশদহ ফিরে আসেন?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?মহানবি (স.)-এর মৃত্যু সংবাদ শুনে কে উলঙ্গ তরবারি হাতে লাফিয়ে উঠলেন?'যে বলিবে হজরত মরিয়াছেন, তাহার মাথা যাইবে'- উক্তিটি কার?শেষ পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পাশে কে ছিলেন?অমর অবিনশ্বর কে?সকলের মহাযাত্রা কার দিকে?কার গম্ভীর উক্তিতে সকলের চৈতন্য হয়েছিল?কার শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটাল?'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে 'স্থিতধী' বলা হয়েছে কাকে?মহানবি (স.) কোন গুণ দ্বারা মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন?হজরত মুহম্মদ (স.) কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন?হজরত মুহম্মদ (স.) আবাল্য কী ছিলেন?আবু মা'বদ কী চরাতেন?উম্মে মা'বদ হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মুখের ভাষণকে কেমন বলেছেন?কীসের সাধনায় মহানবি (স.)-এর চরিত্র মধুময় হয়েছিল?কখনও অভিশাপ দেওয়ার চিন্তা কার অন্তরে উদিত হয়নি?'এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর'- এই প্রার্থনা করেছিলেন কে?কোথায় সত্য প্রচার করতে গিয়ে হজরত মুহাম্মদ (স.) ভীষণ বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন?কার বিরুদ্ধে মুহম্মদ (স.)-এর বিন্দুমাত্র অভিযোগ নেই?উপহাসিত, অপমানিত হয়েও হজরতের মুখ দিয়ে কী উচ্চারিত হয়নি?হজরত মুহম্মদ (স.) মানুষের দ্বারে দ্বারে কীসের বাণী বহন করেছেন?যখন দেখা গেল কোরেশরা সত্যকে গ্রহণ করবে না, তখন হজরত মুহম্মদ (স.) কী করলেন?কাদের ছিন্ন মুণ্ডু আনার জন্য বিপুল পুরস্কারের লোভ দেখানো হয়েছিল?হুদায়বিয়ার সন্ধিতে মুসলিমদের স্কন্ধে কী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল?মুহম্মদ (স.) মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কেন?'মানুষ মুহম্মদ (স.)' রচনায় মজলিসের একপ্রান্তে কে বসেছিল?'বীরবাহু' শব্দের অর্থ কী?'স্থিতধী' শব্দের অর্থ কী?'ধী' শব্দের অর্থ কী?'পরহিতব্রতী' অর্থ কী?'লোষ্ট্রাঘাত' শব্দের অর্থ কী?'অরাতি' শব্দটির অর্থ কী?'পৌত্তলিক' শব্দের অর্থ কী?'সমাচ্ছন্ন' শব্দের অর্থ কী?ইসলামের দ্বিতীয় খলিফার নাম কী?'রাহী' শব্দের অর্থ কী?'পুলকদীপ্তি' অর্থ কী?'অনুরুদ্ধ' শব্দের অর্থ কী?হজরত মুহম্মদ (স.) এর রওজা মোবারক কোথায়?'হিজরত' অর্থ কী?সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি উর্বর প্রদেশটির নাম কী?তায়েফ কোথায় অবস্থিত?'হুদায়বিয়া' কী?হুদায়বিয়ার সন্ধি রাসুল (স.)-এর কীসের পরিচায়ক?হজরত আয়েশা (রা.) কার কন্যা ছিলেন?'মরুভাস্কর' গ্রন্থের লেখক কে?'মানুষ মুহম্মদ (স.)' রচনাটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য কী?'মদিনায় অন্ধকার ঘনিয়ে এলো'- কেন? ব্যাখ্যা করো।'মুহম্মদ (স.) একজন রাসুল বৈ আর কিছু নয়।' উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?'মুহম্মদ (স.) আল্লাহর দাস, মানুষ ও রাসুল' কথাটির দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?হজরতের মৃত্যুর পরে মহামতি আবুবকর (রা.) কীভাবে জনতাকে শান্ত করেছিলেন?মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত মহানবি মানুষের মন আকর্ষণ করতেন কীভাবে?খাদিজা (রা.)-এর হজরত মুহম্মদ (স.)-কে পছন্দ করার কারণ ব্যাখ্যা করো।'এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর।'- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।হজরত মুহম্মদ (স.) মানুষকে অভিশাপ দেননি কেন?'মহানবি (স.) উদারতার পরিচয় দিয়েছেন সবসময়'- বুঝিয়ে বলো।হজরত মুহম্মদ (স.) মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করলেন কেন?'সুমহান প্রতিশোধ' বলতে কী বোঝায়?'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত 'আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই'- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?মহানবি (স.)-এর ঘরে অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালানোর মতো তেল ছিল না কেন?'তিনি আজ জীবন নদীর ওপারে চলিয়া গেলেন।'- বুঝিয়ে লেখো।'মানুষের একজন হইয়াও হজরত মুহম্মদ (স.) দুর্লভ' কেন?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ