• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • রাষ্ট্র, নাগরিকতা ও আইন
রাষ্ট্র, নাগরিকতা ও আইন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

রাষ্ট্রের কার্যাবলি

মানুষের প্রয়োজনেই রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। মানব জীবনের সামগ্রিক কল্যাণ সাধনই রাষ্ট্রের কাজ। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র প্রধানত দুই ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে, যথা: নিয়ন্ত্রণমূলক এবং কল্যাণমূলক। এ দুই ধরনের ভূমিকার ভিত্তিতে আধুনিক রাষ্ট্রের কার্যাবলিকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যেমন-অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি এবং কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কার্যাবলি।

অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি: রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রে বসবাসরত জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেগুলোকে অপরিহার্য বা মুখ্য কাজ বলা হয়। রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজগুলো নিম্নরূপ: আর. এম. ম্যাকাইভার তাঁর The Modern State গ্রন্থে বলেছেন, 'আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক কাজ বা দায়িত্ব। নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার নিশ্চয়তা থেকে রাষ্ট্র নামক সংগঠনের সৃষ্টি হয়। জনসাধারণকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করা, সমাজের শান্তি ভঙ্গকারীদের শান্তির বিধান করা এবং সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।' এ লক্ষ্যে রাষ্ট্র স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং জাতীয় গর্যায়ে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে থাকে। রাষ্ট্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ ও অন্যান্য আধা-সামরিক বাহিনী গড়ে তোলে। বাংলাদেশে পুলিশ, আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ইত্যাদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা রাষ্ট্রের আরেকটি অপরিহার্য কাজ। দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং বৈদেশিক আক্রমণ থেকে দেশ রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। আধুনিককালে প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তুলেছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর সামর্থ্য ও আধুনিকায়ন একটি রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ সুবিধা প্রদান করে, যেমন-আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব প্রদানে তাদের দেশরক্ষা বাহিনীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রকে পরিচিত করা, রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে অবস্থিত সম্পদের ওপর দাবি প্রতিষ্ঠিত করা, অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদন, আঞ্চলিক কোর্ট গঠন, বহির্বিশ্বে অর্থনৈতিক বাজার সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ করা, বিদেশে অবস্থানরত দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সেবা প্রদান করা ইত্যাদি হচ্ছে রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক অপরিহার্য কাজ।

আইন প্রণয়ন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ। রাষ্ট্রীয় আইনসভা বা পার্লামেন্টের মাধ্যমে আইন প্রণীত হয়। দেশের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট প্রভৃতি বিচারালয়ের মাধ্যমে দেশের সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রের আবশ্যিক কাজের মধ্যে পড়ে। রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কার্যাবলি সম্পাদন, নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রত্যেক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে। এ কাঠামোয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ, তাদের কর্মবণ্টন ও নির্দেশ, কাজ তদারক এবং পরিচালনা করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।

অর্থ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রের একটি মুখ্য কাজ। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের কার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন উৎস থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করা রাষ্ট্রের আবশ্যিক কাজ। রাষ্ট্রের অধীন বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মালিকানার ওপর খাজনা ও কর নির্ধারণ এবং তা আদায় করা ও সুষ্ঠুভাবে ব্যয় করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। রাষ্ট্র বাজেট প্রণয়ন, মুদ্রা প্রবর্তন ও মুদ্রা বিনিয়োগের ব্যবস্থা, গণনা ও পরিমাপের একক নির্ধারণ এবং মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালনা, মুদ্রাস্ফীতি রোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রভৃতিও রাষ্ট্রের মুখ্য কার্যাবলি।

কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কার্যাবলি বর্তমানে প্রত্যেকটি রাষ্ট্রই কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের দাবি করে। রাজনৈতিক তাত্ত্বিকরা এখন একমত যে, রাষ্ট্রের ভূমিকা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্রকে অবশ্যই সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য, নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে কল্যাণমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। জনকল্যাণ ও উন্নয়নে রাষ্ট্রের এ কাজগুলো ঐচ্ছিক বা গৌণ কাজ। যে রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে যতবেশি উন্নত তার ঐচ্ছিক কার্যাবলি ততবেশি বিস্তৃত।

রাষ্ট্রের জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড়ো সম্পদ। শিক্ষিত নাগরিক তার অধিকার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন থাকেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন। এজন্য রাষ্ট্র শিক্ষা বিস্তারের প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করে এবং শিক্ষা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করে, নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্বসহ বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা করে ও নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং বিদ্যমান বিভিন্ন বৈষম্য ও কুপ্রথা দূরীকরণে রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং অসুস্থদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে হাসপাতাল, দাতব্য চিকিৎসালয়, শিশুসদন, মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দেশব্যাপী অস্থায়ী হেল্থ ক্যাম্পেইন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতিও পরিচালনা করে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশুদ্ধ পানীয়জলের সুব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, রোগ প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক টিকা প্রদান প্রভৃতি সেবাও রাষ্ট্র প্রদান করে। এছাড়া যৌতুক ও বর্ণ বা গোত্রপ্রথা দূরীকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ এবং জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্য, যেমন- চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনি, তেল ইত্যাদি সরবরাহ প্রক্রিয়া সচল রাখা রাষ্টের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তদুপরি খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান, সার, বীজ, কীটনাশক সরবরাহ, সেচের ব্যবস্থা করা, খাদ্য গুদামজাতকরণ প্রভৃতি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে স্বীকৃত। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে খাদ্যের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। তাই রাষ্ট্রকে খাদ্যনিরাপত্তায় পূর্বের তুলনায় অধিক মনোযোগ দিতে হচ্ছে।

যেকোনো রাষ্ট্রের অর্থনেতিক উন্নতি তার শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়ন ও প্রসারের সাথে সংশ্লিষ্ট। রাষ্ট্রে নিত্যনতুন শিল্প গড়ে তোলা, বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠায় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের উৎসাহ ও ঋণ প্রদান, শিল্পজোন প্রতিষ্ঠা, ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার, উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি ও রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করা রাষ্ট্রের কাজ। আমদানি নির্ভর না হয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন যে কোনো রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এজন্য বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণার জন্য রাষ্ট্রকে অনেক বেশি নজর দিতে হয়। এছাড়া রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কলকারখানা স্থাপন ও পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ এবং এর মাধ্যমে অধিক সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজ।

দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যথা: রাস্তাঘাট, সেতু, সড়ক, রেলপথ, নৌ-চলাচল, বিমান যোগাযোগ ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ এবং যোগাযোগের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সংযুক্ত থাকা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ। বর্তমান বিশ্বে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিপ্লব সাধিত হয়েছে। ইন্টারনেট, নেটওয়ার্কিং ও তরঙ্গের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বিশ্বে পারস্পরিক যোগাযোগ অনেক বেড়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য অপরিহার্য।

জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা রাষ্ট্রের কাজ। জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে দেশীয় শিল্প, গান-বাজনা, আঞ্চলিক বৈচিত্র্য রক্ষা, লোকশিল্পের সংরক্ষণ, জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ। জনগণের চিত্তবিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় মঞ্চ, খেলার মাঠ, পার্ক ও উদ্যান প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ হলো জনগণের স্বাধীনতা এবং অধিকার রক্ষা করা। রাষ্ট্র জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাষ্ট্র অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করে। এছাড়া জনগণের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় পরিবেশ সৃষ্টি, সংগঠন ও রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা, জনগণের বিপরীতমুখী স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় সাধন, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সংরক্ষণ, সমাজে দুর্নীতি প্রতিরোধ, বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ, শরণার্থীদের আশ্রয় দান ইত্যাদি রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক রাজনৈতিক কাজ।

সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক রাষ্ট্রসমূহ বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। রাষ্ট্রে বসবাসরত দরিদ্র, বিধবা, অনাথ ও প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা, বেকারদের জন্য ভাতা, বয়স্কদের জন্য বয়স্ক ভাতা, পেনশন প্রদান ইত্যাদি সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কার্যাবলি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।

রাষ্ট্রের বিশাল কর্মীবাহিনীকে পরিচালনা করা ও নিয়ন্ত্রনে রাখা রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজ। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার জন্য শ্রমনীতিমালা প্রণয়ন, ন্যূনতম যতম সঠিক মজুরি ও কাজের সময় নির্ধারণ, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি, বোনাস, ইন্স্যুরেন্স, পেনশন সুবিধা প্রদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি, কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শ্রম অফিসার নিয়োগ প্রভৃতি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এছাড়া রাষ্ট্র বিবিধ উন্নয়নমূলক ও জনহিতকর কাজ সম্পাদন করে থাকে, যেমন- কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বনায়ন কর্মসূচি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসন, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি প্রতিরোধ, নাগরিক সুবিধা সৃষ্টি, বিদ্যুতায়ন ও জ্বালানি সরবরাহ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নগরায়ণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, কালোবাজারি রোধ, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, নারী ও শিশু পাচার রোধ, অধিকার সচেতনতা সৃষ্টি ইত্যাদি বহুবিধ কাজ রাষ্ট্র সম্পাদন করে।

রাষ্ট্র একটি বৃহদাকার সংগঠন। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ রাষ্ট্রকে মোকাবিলা করতে হয়। তবে সার্বিকভাবে জনগণের কল্যাণ সাধনই রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্বের কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশে রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজের পরিধি দিনদিন ব্যাপক ও বিস্তৃত হচ্ছে।

রাষ্ট্র, নাগরিকতা ও আইন - অন্যান্য প্রশ্ন

রাষ্ট্রের ধারণারাষ্ট্রের উপাদানরাষ্ট্রের কার্যাবলিনাগরিকের ধারণানাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যআইনের ধারণাআইনের বৈশিষ্ট্যআইনের উৎসসুশাসনের জন্য আইনের প্রয়োজনীয়তারাষ্ট্র সামাজিক জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান'- ব্যাখ্যা কর।রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান কোনটি? ব্যাখ্যা কর।সুশাসনের জন্য আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।রাষ্ট্রের আবির্ভাব ঘটেছে কেন?রাষ্ট্র কীরূপ প্রতিষ্ঠান?রাষ্ট্রের কাজ কী?কারা রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে?ম্যাকাইভারের মতে রাষ্ট্র কী?অধ্যাপক গার্নারের মতে রাষ্ট্র কী?রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা দাও।রাষ্ট্রের উপাদানগুলোর নাম লেখ।রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক উপাদান কোনটি?রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যা কত হওয়া প্রয়োজন?রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় অপরিহার্য উপাদান সম্পর্কে লেখ।জনসমষ্টি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কীভাবে?রাষ্ট্র গঠনের তৃতীয় অপরিহার্য উপাদান সম্পর্কে লেখ।সরকার কীভাবে গঠিত হয়?সরকার বলতে কী বোঝ?রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান সম্পর্কে লেখ।সার্বভৌমত্ব কাকে বলে?সার্বভৌম ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ দিকটি সম্পর্কে লেখ।সার্বভৌম ক্ষমতার বাহ্যিক দিকটি সম্পর্কে লেখ।রাষ্ট্র গঠনে কয়টি উপাদান আবশ্যক?আধুনিক রাষ্ট্র কয় ধরনের কার্যাবলি সম্পন্ন করে?রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজ কাকে বলে?রাষ্ট্রের কাজ সম্পর্কে ম্যাকাইভার কী বলেছেন?রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পর্কে লেখ।অ্যারিস্টটল নাগরিকের সংজ্ঞায় কী বলেছেন?গ্রিক নগররাষ্ট্রে কাদেরকে নাগরিক বলা হতো?হ্যারল্ড জে. লাস্কি নাগরিকের সংজ্ঞায় কী বলেছেন?অধ্যাপক গেটেল নাগরিকের সংজ্ঞায় কী বলেছেন?নাগরিকত্ব বলতে কী বোঝায়?বৃহৎ অর্থে নাগরিক কে?নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক কেমন?নাগরিকের প্রধান কর্তব্য কী?আইন অমান্য করলে কী হয়?ভোটদানের ক্ষেত্রে নাগরিকের কর্তব্য কী?রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস সম্পর্কে লেখ।রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্য সম্পর্কে লেখ।রাষ্ট্র সামাজিক জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান'- ব্যাখ্যা কর।রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান কোনটি? ব্যাখ্যা কর।সুশাসনের জন্য আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।রাষ্ট্রের আবির্ভাব ঘটেছে কেন?রাষ্ট্র কীরূপ প্রতিষ্ঠান?রাষ্ট্রের কাজ কী?কারা রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে?ম্যাকাইভারের মতে রাষ্ট্র কী?অধ্যাপক গার্নারের মতে রাষ্ট্র কী?রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা দাও।রাষ্ট্রের উপাদানগুলোর নাম লেখ।রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক উপাদান কোনটি?রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যা কত হওয়া প্রয়োজন?রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় অপরিহার্য উপাদান সম্পর্কে লেখ।জনসমষ্টি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কীভাবে?রাষ্ট্র গঠনের তৃতীয় অপরিহার্য উপাদান সম্পর্কে লেখ।সরকার কীভাবে গঠিত হয়?সরকার বলতে কী বোঝ?রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান সম্পর্কে লেখ।সার্বভৌমত্ব কাকে বলে?সার্বভৌম ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ দিকটি সম্পর্কে লেখ।সার্বভৌম ক্ষমতার বাহ্যিক দিকটি সম্পর্কে লেখ।রাষ্ট্র গঠনে কয়টি উপাদান আবশ্যক?আধুনিক রাষ্ট্র কয় ধরনের কার্যাবলি সম্পন্ন করে?রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজ কাকে বলে?রাষ্ট্রের কাজ সম্পর্কে ম্যাকাইভার কী বলেছেন?রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পর্কে লেখ।অ্যারিস্টটল নাগরিকের সংজ্ঞায় কী বলেছেন?গ্রিক নগররাষ্ট্রে কাদেরকে নাগরিক বলা হতো?হ্যারল্ড জে. লাস্কি নাগরিকের সংজ্ঞায় কী বলেছেন?অধ্যাপক গেটেল নাগরিকের সংজ্ঞায় কী বলেছেন?নাগরিকত্ব বলতে কী বোঝায়?বৃহৎ অর্থে নাগরিক কে?নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক কেমন?নাগরিকের প্রধান কর্তব্য কী?আইন অমান্য করলে কী হয়?ভোটদানের ক্ষেত্রে নাগরিকের কর্তব্য কী?রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস সম্পর্কে লেখ।রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্য সম্পর্কে লেখ।রাষ্ট্রের সংজ্ঞা লেখ।অ্যারিস্টটলের মতে রাষ্ট্র কী?অধ্যাপক গার্নারের রাষ্ট্র সম্পর্কিত সংজ্ঞাটি লেখ।আর, এম. ম্যাকাইভারের মতে রাষ্ট্র কী?রাষ্ট্রের সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা কে দিয়েছেন?এরিস্টটল কোন দেশের অধিবাসী?রাষ্ট্র কী?রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কে?প্রত্যেক মানুষ কোথায় বাস করে?ক্ষুদ্র রাষ্ট্র মোনাকোর জনসংখ্যা কত?রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান কোনটি?রাষ্ট্র যদি হয় জীবদেহ তবে সরকার হলো এর মস্তিষ্কস্বরূপ”- উক্তিটি কার?রাষ্ট্রগঠনের মূল উপাদান কয়টি?রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান কোনটি?রাষ্ট্রের দ্বিতীয় উপাদান কোনটি?রাষ্ট্রের তৃতীয় উপাদান কোনটি?রাষ্ট্র কয় ধরনের কার্যাবলি পালন করে?রাষ্ট্রের প্রাথমিক কাজ কোনটি?রাষ্ট্রের অন্যতম অপরিহার্য কাজ কোনগুলো?রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ কী?বর্তমানে নগররাষ্ট্রের স্থলে কোন রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে?'The Modern State' গ্রন্থের লেখক কে?নাগরিক কাকে বলে?এরিস্টটল প্রদত্ত নাগরিকের সংজ্ঞাটি লেখ।নাগরিক শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?নাগরিক শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে?নাগরিক কে?রাষ্ট্রে বসবাসকারী জনগণকে কী বলা হয়?অধ্যাপক গেটেল-এর মতে নাগরিক কী?সুনাগরিক বলতে কী বোঝ?নাগরিকের প্রধান কর্তব্য কী?রাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের কী মেনে চলতে হয়?কোন দেশের অধিকাংশ আইন প্রথা থেকে এসেছে?ইসলামিক রাষ্ট্রের আইন কিসের ওপর নির্ভরশীল?আধুনিক রাষ্ট্রে আইনের প্রধান উৎস কী?আইন কাকে বলে?আইন মানুষের কী নিয়ন্ত্রণ করে?টি. এইচ. গ্রিনের মতে আইন কী?অধ্যাপক হল্যান্ড কর্তৃক প্রদত্ত আইনের সংজ্ঞাটি লেখ।কোনটি এক ধরনের আদেশ বা নিষেধ?আইনের ছয়টি প্রধান উৎসের উল্লেখ করেছেন কে?আইনের প্রধান উৎস কয়টি?আইনের সবচেয়ে প্রাচীনতম উৎস কী?কোনটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য?রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস কী?অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর কী?সাধারণভাবে আইনের অনুশাসন কয়টি ধারণা প্রকাশ করে?আইনের শাসন কী?কোনটি রাষ্ট্রের সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হয়?নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষাকবচ কোনটি?'প্রতিটি সন্তানই রাষ্ট্রের সন্তান'-ব্যাখ্যা কর।রাষ্ট্রের ধারণা ব্যাখ্যা কর।জনসমষ্টিকে রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান বলা হয় কেন?সার্বভৌমত্ব বলতে কী বোঝায়?'সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের মুখ্য উপাদান'-ব্যাখ্যা কর।রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য তৃতীয় উপাদানটির বর্ণনা দাও।লন্ডন রাষ্ট্র নয় কেন?রাষ্ট্র গঠনের যেকোনো একটি উপাদান ব্যাখ্যা কর।রাষ্ট্রের উপাদান হিসেবে জনসমষ্টির ব্যাখ্যা দাও।রাষ্ট্রের উপাদান হিসেবে নির্দিষ্ট ভূখন্ডের ব্যাখ্যা কর।'রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান হলো সরকার।' ব্যাখ্যা কর।শিক্ষা বিস্তারে রাষ্ট্র অধিক গুরুত্ব প্রদান করে কেন?রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।বর্তমানে নগর রাষ্ট্রের স্থলে জাতীয় রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে কেন? বুঝিয়ে লেখ।রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক রাজনৈতিক কাজ ব্যাখ্যা কর।জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজ।-ব্যাখ্যা কর।নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায় কী? ব্যাখ্যা কর।নাগরিকদের সময়মতো কর ও খাজনা প্রদান করা প্রয়োজন কেন?দুর্নীতি এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।সুনাগরিক আত্মসংযমী হবে কেন? ব্যাখ্যা দাও।কর প্রদান করা নাগরিকের অন্যতম দায়িত্ব ব্যাখ্যা কর।রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের প্রধান কর্তব্যের ব্যাখ্যা দাও।আইনের একটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।আইনের বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ।ধর্মীয় আইন মানুষের জীবনকে বেশি প্রভাবিত করে কেন? ব্যাখ্যা কর।আইনের একটি উৎস ব্যাখ্যা কর।আধুনিক রাষ্ট্রে আইনের প্রধান উৎস কী? ব্যাখ্যা কর।আইনের সবচেয়ে প্রাচীনতম উৎস কোনটি? ব্যাখ্যা কর।আইনের উৎস হিসেবে ন্যায়বোধ আলোচনা কর।আইনের চোখে সবাই সমান -ব্যাখ্যা কর।সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের অনুশাসন গুরুত্বপূর্ণ কেন?কীভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায়? ব্যাখ্যা কর।আমাদের আইন মেনে চলা উচিত কেন?আইনের প্রাধান্য বলতে কী বোঝ?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ