- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা
শক্তিশালী ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাফল্যের প্রধান শর্ত। অধ্যাপক ফাইনার (Finer) বলেছেন, 'আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন'। একটি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক, একনায়কতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক যে ধরনের সরকার ব্যবস্থাই বিদ্যমান থাকুক না কেন, সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব স্বীকৃত। বস্তুত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব সর্বাধিক। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিম্নে আলোচনা করা হলো:
দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তার আলোকে প্রতিটি রাজনৈতিক সংগঠন দলীয় নীতিমালা ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই নীতিমালা ও কর্মসূচি সাধারণত রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে (ম্যানিফেস্টো) উল্লেখ থাকে।
দলের নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণকে জানানোর জন্য রাজনৈতিক দল সভাসমিতি, টকশো আয়োজনসহ পত্রপত্রিকায় মতামত ব্যক্ত করে তাদের নীতি ও কর্মসূচি প্রচার করে এবং জনসমর্থন সৃষ্টি করে।
দেশের জাতীয় নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়ন এবং তার পক্ষে দলীয় প্রচারকার্য চালানো রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মনোনীত প্রার্থীদেরকে নির্বাচিত করার জন্য রাজনৈতিক দল তাদের সমর্থনে ব্যাপক নির্বাচনি প্রচারণা চালায়।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করা। সাধারণত নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তারাই সরকার গঠন করে থাকে। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজনৈতিক দল তার দলীয় নীতিমালা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করে। নাগরিকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক চেতনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে যে সকল দল বা দলসমূহ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না তারাই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল পার্লামেন্টে বিতর্ক, সরকারের নীতির সমালোচনা, মুলতবি প্রস্তাব উপস্থাপন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করে সংসদকে কার্যকর রাখে। সংসদের বাইরেও বক্তব্য, বিবৃতি ও সমালোচনার মাধ্যমে বিরোধী দল সরকারকে আইনের শাসন অনুশীলনে সহায়তা করে।
এ ছাড়া বিরোধী দল জনগণের সামনে সরকারের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসূচি তুলে ধরে। বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা এবং কার্যকর চাপে সারকারি দল জনকল্যাণকর কাজে উদ্যোগী হয়।
রাজনৈতিক দলের সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় জনগণের মাঝে মিশে থাকে। সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তসমূহ মানুষের কাছে তুলে ধরে। জনগণ তাদের মতামত ও অভিযোগ রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দের মাধ্যমে সরকারের নিকট উত্থাপন করে এবং সরকারের করণীয় দাবি করে। মূলত রাজনৈতিক দল সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বা সেতুবন্ধন রচনা করে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অপরিহার্য। জনগণের অভাব, অভিযোগ, দুঃখদুর্দশাকে চিহ্নিত করে তারা সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে কর্মসূচি প্রণয়ন করে। এছাড়া সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দল হলো বিকল্প সরকার। সরকার সমর্থন হারালে বা কোনো কারণে পতন হলে বিরোধী দলের ক্ষমতা লাভ বা সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

