- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া
প্রাচীন গ্রিসের নগর রাষ্ট্রগুলোতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল। নাগরিকগণই সরাসরি শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারত। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র আয়তনে বিশাল এবং এর জনসংখ্যাও বেশি। সবার পক্ষে সরাসরি রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। সুতরাং ভোটদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে জনগণ পরোক্ষভাবে এ দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পায়।
নির্বাচন হলো রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নাগরিকবৃন্দ কর্তৃক বিভিন্ন প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি বাছাই প্রক্রিয়া। অন্যকথায়, যে প্রক্রিয়ায় বা পদ্ধতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দ অনুযায়ী প্রতিনিধি বাছাই করে তাকেই নির্বাচন বলে। প্রায় সকল রাষ্ট্রেই গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যারা প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা অর্থাৎ ভোটদানের অধিকার ভোগ করেন তাদের ভোটার বা নির্বাচক বলে। সকল ভোটারকে একত্রিতভাবে নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়। প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য সারা দেশকে কতকগুলো নির্বাচনি এলাকায় (constituency) ভাগ করা হয়। এভাবে প্রতিটি এলাকা থেকে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে পার্লামেন্ট বা আইনসভা গঠিত হয়। বাংলাদেশে নির্ধারিত ৫ বছর মেয়াদান্তে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দুই প্রকার নির্বাচন পদ্ধতি চালু আছে, যথা: প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও পরোক্ষ নির্বাচন। যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটারগণ সরাসরি ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে, তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি বলা হয়। বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু রয়েছে। আর পরোক্ষ নির্বাচন বলতে সাধারণত ঐ নির্বাচন পদ্ধতিকে বোঝায় যেখানে ভোটারগণ ভোট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা গঠন করে। এ নির্বাচনি সংস্থা ইলেক্টোরাল কলেজ (electoral college) নামে পরিচিত। ইলেক্টোরাল কলেজ চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি এ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
সংসদ নির্বাচনের সুবিধার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ এবং 'নির্বাচনি তফসিল' ঘোষণা করে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে প্রার্থীরা প্রাথমিকভাবে মনোনীত হন। প্রধানত রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়েই প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পান। স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। এছাড়াও জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে যা নির্বাচিত আসনের আনুপাতিক হারে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচন প্রক্রিয়া অর্থাৎ নির্বাচন অনুষ্ঠান সংক্রান্ত কাজকর্ম শুরু হয়। এ কাজের তালিকার মধ্যে আছে- ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ, রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, মনোনয়নপত্র বিতরণ, গ্রহণ ও বাছাই প্রভৃতি। প্রার্থীদের প্রতীক বণ্টন, ব্যালট পেপার ছাপানো, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ, ব্যালট বাক্স বিতরণ, ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনা, ফলাফল ঘোষণা প্রভৃতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ও নিয়ন্ত্রণে এ সকল কাজ সম্পাদিত হয়।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

