- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বহিপীর (নাটক)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বহিপীর নাটক ও নাট্যকার পরিচিতি: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ আহমাদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। মাতা নাসিম আরা খাতুন ছিলেন উচ্চশিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মাত্র আট বছর
বয়েসে মাতৃহারা হন। তিনি ১৯৩৯ সালে কুড়িগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৪১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তাঁর আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি ছিল ডিস্টিঙ্কশনসহ বিএ। তাঁর পেশাজীবন শুরু হয় 'দৈনিক স্টেটসম্যান' পত্রিকায় সাংবাদিকতা করার মধ্য দিয়ে। মাঝখানে কিছুদিন বেতারে চাকরি করেন। তারপর বিদেশে তৎকালীন পাকিস্তান দূতাবাসে কাজ করেন। ইউনেস্কো সদর দপ্তর প্যারিসে সর্বশেষ কাজ করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্যারিসে থেকেই বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করেন।
তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ 'নয়নচারা' প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। তারপর একে একে প্রকাশিত হয় উপন্যাস 'লালসালু' (১৯৪৯), নাটক 'বহিপীর' (১৯৬০), সুড়ঙ্গ (১৯৬৪), উপন্যাস 'চাঁদের অমাবস্যা' (১৯৬৪), গল্পগ্রন্থ 'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প" (১৯৬৫), নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ' (১৯৬৫), উপন্যাস 'কাঁদো নদী কাঁদো' (১৯৬৮)। তিনি সাহিত্যকর্মের জন্য 'পিইএন পুরস্কার' (১৯৫৫), 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার' (১৯৬১), 'আদমজী পুরস্কার' (১৯৬৫) ও 'একুশে পদক' (মরণোত্তর, ১৯৮৪) লাভ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।
বহিপীর
'বহিপীর' নাটকটি ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯৫৫ সালে ঢাকায় 'পিইএন ক্লাবে'র উদ্যোগে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে সেখানে বাংলা নাটকের প্রতিযোগিতায় 'বহিপীর' নাটকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে।
'বহিপীর' নাটকের কাহিনি গড়ে উঠেছে এক পিরকে কেন্দ্র করে। এই পির সারা বছর বিভিন্ন জেলায় তাঁর অনুসারীদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ান। এক এক এলাকায় এক এক ধরনের ভাষা। তাই তিনি বিভিন্ন এলাকার ভাষা শিক্ষা না করে বইয়ের ভাষায়ই কথা বলে থাকেন। এ জন্য তাঁর নাম হয়েছে 'বহিপীর'। নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। নামটির একটি প্রতীকী তাৎপর্যও রয়েছে। মূলত ইসলাম ধর্মের সুফিবাদী ব্যাখ্যার সূত্র ধরেই পির সমাজের সৃষ্টি। এ হিসেবে তাঁরা মানুষের সংস্কারকে পুঁজি করে সমাজে ছড়িয়ে পড়েন। নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর পিতা ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। পিতার বদলির চাকরি সূত্রে ওয়ালীউল্লাহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পান। তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে তখন জেঁকে বসা পির প্রথা কাছে থেকে দেখার সুযোগ পান। ফলে তিনি 'লালসালু' উপন্যাসে যেমন, তেমনি এই নাটকেও সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপিরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনিকে কেন্দ্র করে নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপির। তিনি দুই বছরান্তে একবার শিষ্য বা মুরিদদের বাড়িতে ঘুরে বেড়ান। তখন মুরিদরা সর্বস্ব দিয়ে তাঁর সেবা করেন। এবার এক মুরিদ তাঁর মাতৃহারা কন্যা তাহেরাকে এই বৃদ্ধ পিরের সাথে জোর করে বিয়ে দেন। তাহেরা তা মেনে না নিয়ে পালিয়ে যায়। সে পালিয়ে হাতেম আলি জমিদারের শহরগামী বজরায় আশ্রয় গ্রহণ করে। বহিপির তাঁর সঙ্গী হকিকুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে তার সন্ধানে বের হন। পথিমধ্যে বহিপিরের নৌকা দুর্ঘটনায় পতিত হয় এবং তিনি ঘটনাচক্রে হাতেম আলির বজরাতেই আশ্রয় লাভ করেন। একসময় তিনি জানতে পারেন, এই বজরাতেই তাঁর নববিবাহিত স্ত্রী তাহেরাও আছে। তখন তিনি তাকে পাওয়ার জন্য নানারকম কূটকৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করতে থাকেন। অন্যদিকে বজরায় জমিদারপুত্র হাশেম আলি তাহেরার করুণ কাহিনি জেনে তার পক্ষ নেয়। এতে বজরায় দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। বহিপির জঘন্য কূটকৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করতে থাকেন। এমনকি জমিদারের অসহায়ত্বের সুযোগও গ্রহণ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বহিপির জয়ী হতে পারেন না। তাহেরা ও হাশেম আলি সব বাধার জাল ছিন্ন করে পালিয়ে যায়। বহিপির অবশেষে বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
বহিপীর (নাটক) - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

