- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- ষষ্ঠ শ্রেণি
- চারু ও কারুকলার পরিচয়
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
চারুকলার পরিচয়
শিশুরা ছবি আঁকে, বড়রাও ছবি আঁকে- এই ছবি আঁকাই হলো চারুকলার প্রধান বিষয় এবং পরিচয়। এছাড়াও উপরের শ্রেণিতে তোমরা চারুকলার পরিচয় সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে। ছবি আঁকা হয় কাগজে, কাপড়ে বা ক্যানভাসে, মাটির ফলকে, সিমেন্টের ফলকে, দেয়ালে, কাঠের পাটাতনে- এমনি বিভিন্ন বস্তুর ওপর। এক সময়ে তালপাতায় বা গাছের বড় পাতায় লেখা হতো এবং সেই সঙ্গে ছবিও আঁকা হতো। জাদুঘরে গেলে তোমরা পুরোনো দিনে যত রকম বস্তু বা সামগ্রীর ওপর ছবি আঁকা হতো তা দেখতে পাবে।
এখন ছবি আঁকার জন্য নানা ধরনের কাগজ তৈরি হচ্ছে, ক্যানভাস তৈরি হচ্ছে, ধাতব প্লেট বা জমিন তৈরি করা হচ্ছে। মাটির ফলক এখন অনেক উন্নত হয়েছে। অনেকদিন থেকে কাচের ওপর রং দিয়ে যেমন আঁকা হচ্ছে, অন্যদিকে ধারালো ছুরি বা সুচালো পাথর দিয়ে আঁচড় কেটে ছবি ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। কাগজে, ক্যানভাসে, মাটিতে, পাথরে, ধাতুর পাতে ও কাচের ওপর ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য রয়েছে নানারকম উপায়, পদ্ধতি। রঙের কথা তোমরা জান। ছবি আঁকার জন্য এখন অনেক রকম রং ব্যবহার করা হয়। পানিতে মিশিয়ে যে রং তৈরি করা হয় তার নাম জলরং। মোম মেশানো এক রকম রঙের কাঠি তৈরি হয়েছে, তার নাম প্যাস্টেল রং। রঙের সাথে তেল ও তারপিন মিশিয়ে বড় বড় শিল্পীরা ক্যানভাসে বা কাঠের পাটাতনে যে ছবি আঁকেন, তার নাম তৈলরং বা তেলরং।
বর্তমানে ছবি আঁকার জন্য অ্যাক্রেলিক রং নামে এক ধরনের রঙে খুব তাড়াতাড়ি ছবি আঁকা যায়। এই রং পানি ও তেল মিশিয়ে দুরকমভাবেই করা যায়। বাংলাদেশের শিল্পীদের কাছে অ্যাক্রেলিক রং এখন বেশ প্রিয়। এই অ্যাক্রেলিক রঙে ছোটরাও ছবি আঁকতে পারে। তবে যথেষ্ট তাড়াতাড়ি আঁকতে হয় বলে ছোটদের জন্য একটু কঠিন। ছোটদের জন্য জলরং, পোস্টার রং, মোম প্যাস্টেল- এসব রংই ভালো।
ছবি আঁকার জন্য ও ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য রয়েছে নানারকম পেনসিল, কলম, কালি, ছুরি, কাঁচি, হাতুড়ি, বাটাল ইত্যাদি। আরও রয়েছে নানা ধরনের তুলি। চারুকলা চর্চা করতে করতে বা ছবি আঁকতে আঁকতে এসব বিষয়ের সঙ্গে তোমাদের পরিচয় ঘটবে।
আঁকা ছবি কী, কেমন করে হয়, ইতোমধ্যে তোমরা জানতে পেরেছ। তোমাদের মতো শিশুরা কীভাবে ছবি আঁকে তার পরিচয় নিজে আঁকতে গেলেই বুঝতে আরও সহজ হবে। ছোটদের ছবি আঁকার এখন অনেক প্রতিযোগিতা হচ্ছে, সেসব ছবির প্রদর্শনীও হচ্ছে। বাংলাদেশের শিশুদের ছবি বিশ্বের অনেক দেশেই নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে প্রতিযোগিতার জন্য। তোমাদের মতো অনেক শিশুই সেসব দেশ থেকে পুরস্কার পেয়ে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
আমাদের দেশের বড় বড় শিল্পীদের প্রদর্শনী হচ্ছে বিভিন্ন গ্যালারি, শিল্পকলা একাডেমিতে, জাদুঘরে ও বিভিন্ন স্থানে। সেসব প্রদর্শনী তোমরা নিশ্চয়ই কিছু কিছু দেখেছ। না দেখে থাকলে গিয়ে দেখে আসবে। এছাড়াও আমাদের জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সব শিল্পকলা বা চারুকলার সব সময়ের জন্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে গেলেই চারুকলার সঙ্গে তোমাদের চমৎকার পরিচয় ঘটবে।
চারু ও কারুকলার পরিচয় - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

