• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • ষষ্ঠ শ্রেণি
  • স্রষ্টা ও সৃষ্টি
স্রষ্টা ও সৃষ্টি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

স্রষ্টা ও সৃষ্টির ধারণা

এ পৃথিবী বড় সুন্দর ও বিচিত্র। এখানে রয়েছে মানুষ, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, গাছ-পালা, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, মরু-প্রান্তরসহ আরও কত রকমের বিচিত্রতা। পৃথিবীর উপরে রয়েছে সুনীল আকাশ। আকাশে বিরাজ করছে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, ছায়াপথ ইত্যাদি।

এ পৃথিবীর সকল জীবের মধ্যে মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব। সে নিজের প্রয়োজনে অনেক কিছু তৈরি করতে পারে, যা অনেক জীবই পারে না। যেমন- সহজেই একজন কাঠমিস্ত্রি কাঠ দিয়ে চেয়ার, টেবিল, নৌকা প্রভৃতি প্রস্তুত করতে পারেন। কিন্তু অন্য প্রাণীরা তা করতে পারে না। এ চেয়ার, টেবিল, নৌকা ইত্যাদি তৈরির জন্য কাঠের প্রয়োজন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- কাঠ কীভাবে তৈরি হয়েছে? উত্তরটা খুবই সহজ। গাছ কেটে কাঠ প্রস্তুত হয়েছে এবং কাঠ থেকে নৌকা বানানো হয়েছে। এর পরের প্রশ্ন- গাছ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, কে সৃষ্টি করেছেন? এ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করা যাক।

আমরা আগেই বলেছি, সকল সৃষ্টির মূলে একজন স্রষ্টা আছেন। তাহলে গাছও সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। তেমনি ভাবে পাহাড়-পর্বত, নদী-সমুদ্র, সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, তারা, ধূমকেতু, ছায়াপথ, মানুষ, পশু-পাখি-কীট-পতঙ্গ একই সৃষ্টিকর্তার আলাদা আলাদা সৃষ্টি। সারকথা এ মহাবিশ্ব ও জীবকুলের একজন স্রষ্টা আছেন। স্রষ্টা সবকিছু সৃষ্টি করেন। আর মানুষ স্রষ্টার কোনো সৃষ্টির সাহায্য নিয়ে অন্য কিছু তৈরি করে। যেমন, স্রষ্টা গাছ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ তা থেকে চেয়ার, টেবিল, নৌকা ইত্যাদি তৈরি করতে পেরেছে। তাই মানুষের সৃষ্টিও স্রষ্টার সৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু স্রষ্টার সৃষ্টি তাঁর নিজের ইচ্ছাধীন।

হিন্দুধর্ম অনুসারে স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তাকে ঈশ্বর নামে অভিহিত করা হয়। ঈশ্বরের অনেক নাম, অনেক পরিচয়। যেমন- ব্রহ্ম, ভগবান, পরমাত্মা ইত্যাদি। আবার পরমাত্মা যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাঁকে আত্মা বা জীবাত্মা বলে। জীবাত্মা পরমাত্মারই অংশ। তাহলে দেখা যাচ্ছে মানুষ মহাবিশ্ব এবং মহাবিশ্বের সবকিছুই হচ্ছে সৃষ্টি। এ সকল সৃষ্টির যিনি স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা তাঁর নাম ঈশ্বর।

ঈশ্বরকে কেউ দেখতে পায় না। তাঁর কোনো আকার নেই। তিনি নিরাকার। কিন্তু তাঁর সৃষ্টির আকার আছে। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে আমরা তাঁকে অনুভব করি। তাঁকে তাঁর সৃষ্টির যে-কোনো আকৃতিতে অর্থাৎ সাকার রূপে উপলব্ধি করা যায়। সাধকেরা সাধনার মাধ্যমে এবং ভক্তেরা ভক্তির মাধ্যমে তাঁর সান্নিধ্য উপলব্ধি করে থাকেন।

পূর্ববর্তী

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ