• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জায়েদ ও তাকী গাড়িতে ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাচ্ছিল। তারা ইসলামে জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করছিল। জায়েদ বলল, জ্ঞান চর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদে নিয়োজিত ব্যক্তির সমান সওয়াব লাভ করে। জ্ঞান চর্চার ফলে গুনাহ মাফ হয়। তাকী বলল, আমাদের মহানবি (স.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক। তাঁদের অনুসারী হিসেবে আমাদেরও উচিত জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় আত্মনিয়োগ করা।

দারুল আরকাম কোথায় অবস্থিত?

মক্কার সাফা পাহাড়ের পাদদেশে দারুল আরকাম অবস্থিত।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতায় উমাইয়া খলিফাদের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

উমাইয়া খলিফাগণ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিস্তার ও এর উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন ।

উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) সরকারিভাবে হাদিস সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে দামেস্ক, কুফা, মক্কা, মদিনা, বসরা প্রভৃতি অঞ্চলে অসংখ্য ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। উমাইয়া পৃষ্ঠপোষকতায় গণিতশাস্ত্র, ভূগোলশাস্ত্র, চিকিৎসাশাস্ত্র ও জোতির্বিদ্যায় ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। ফিকহশাস্ত্রের ওপর বিভিন্ন ধরনের গবেষণার কাজ তাদের শাসনামলেই সূচনা হয় ।

#

জায়েদের উক্তিটি কুরআন ও হাদিসের আলাকে ব্যাখ্যা কর।

জায়েদের বক্তব্যে জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব ও ফজিলত প্রকাশ পেয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ।

জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদে নিয়োজিত ব্যক্তির সমান সওয়াব লাভ করে। হাদিসের আলোকে জায়েদ এ কথা বলেছে। মহানবি (স) বলেছেন, مَنْ خَرَجَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ فَهُوَ فِي سَبيلِ اللهِ حَتَّى يَرْجِع -

অর্থ: যে ব্যক্তি ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণে বের হয় সে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত আল্লাহর পথে জিহাদে নিয়োজিত থাকে (তিরমিযি)। এ হাদিস থেকে জানা গেল, কোনো ব্যক্তি ইসলামি জ্ঞান অর্জনকালে জিহাদের সমান সওয়াব লাভ করে। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে জায়েদ ও তাকী ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাওয়ার সময় গাড়িতে বসে ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করছিল। আলোচনায় জায়েদ জ্ঞানচর্চার ফজিলত সম্পর্কে অত্যন্ত সুন্দর কথা বলেছে, যা হাদিসের আলোকে যথার্থ।

জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব সম্পর্কে জায়েদ বলেছে, ইসলামি জ্ঞান চর্চা করলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেন। মহানবি (স) বলেছেন, مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ كَانَ كَفَّارَةٌ لِمَا مَضَى

অর্থ: কোনো ব্যক্তি দীনি জ্ঞান অন্বেষণ করলে উক্ত জ্ঞান তার পূর্বেকৃত গুনাহের কাফফারা। (জামে তিরমিযি) অর্থাৎ দীনি জ্ঞান অর্জনের কারণে আল্লাহ জ্ঞান অর্জনকারীর গুনাহ মাফ করে দেন। সুতরাং জ্ঞানচর্চার গুরুত্বের ব্যাপারে জায়েদের উক্তিটি কুরআন ও হাদিসের আলোকে যৌক্তিক।

#

তাকীর উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

তাকীর উক্তিটি জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় রাসুল (স) এবং সাহাবায়ে কেরামদের অসাধারণ ভূমিকার কথাই তুলে ধরে। এবার আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে মহানবি (স) ও সাহাবায়ে কেরামের (রা) ভূমিকা লক্ষ করি ।

জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পথ সুগম করার জন্য মহানবি (স) হযরত আরকাম (রা) এর বাড়িতে 'দারুল আরকাম' নামক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন এবং এর পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী তৈরি হয়েছেন। মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স) মসজিদে নববির বারান্দাকে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন। এর নাম ছিল 'সুফফা'। যেসব সাহাবি (রা) এ প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করে জ্ঞানচর্চা করতেন তাদেরকে বলা হয় 'আহলুস সুফফা'। রাসুলুল্লাহ (স) নিজের গৃহকে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র বানিয়েছিলেন । জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় সাহাবায় কেরামরা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ।

হযরত আবু বকর (রা) এর শাসনামলে কুরআন মাজিদ গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়। হযরত উসমান (রা) এর শাসনামলে কুরআন মাজিদকে এক কিরাআতে আনা হয় এবং বিশুদ্ধতা রক্ষার্থে পুনঃসংকলন করা হয়। খোলাফায়ে রাশেদিন ও অন্যান্য সাহাবিদের প্রচেষ্টায় অসংখ্য মক্তব ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।

উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, জায়েদ ও তাকী গাড়িতে ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাওয়ার সময় জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনার কালে তাকী বলল, মহানবি (স) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা) ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক। মহানবি (স) ও সাহাবায়ে কেরামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাকীর উক্তিটি পুরোপুরি সত্য এবং যথার্থ ।