• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি
পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব শিহাব একজন বাংলাদেশি নাগরিক। কিন্তু কাজের জন্য তিনি বিদেশে অবস্থান করেন। অবসর সময়ে তিনি টিভিতে বাংলাদেশের খবরাখবর মনোযোগ সহকারে দেখেন। নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ও কর্তব্যবোধ তাকে দেশ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করে তোলে। তিনি লাইব্রেরি থেকে বাংলাদেশের একটি সংবিধান কৃষ করেন।

সবাই জনাব শিহাবের মতো সচেতন নাগরিক হলে তা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কতটুকু সহায়ক হবে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

সচেতন নাগরিকরা নিজের দেশকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও কল্যাণধর্মী হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালান। তাই সবাই জনাব শিহাবের মতো সচেতন নাগরিক হলে তা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিরাট ভূমিকা পালন করবে। রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কল্যাণমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই হলো সুশাসন। আর সুশাসনের লক্ষ্য নাগরিকের কল্যাণ সাধন। নাগরিকরা সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অনেকটাই সহজসাধ্য হয়ে ওঠে। প্রত্যেক নাগরিক দেশের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হয়ে আইনের শাসন মানা, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে পারে। সচেতন নাগরিক রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি। রাষ্ট্রের প্রতি তারা দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে। সচেতন নাগরিকরা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণেও ভূমিকা রাখে, আর এটি সুশাসনের প্রধান উপাদান। সচেতন নাগরিকরা দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এবং দেশের প্রচলিত ন্যায়-নীতি, মূল্যবোধের চর্চা করে। পাশাপাশি সহনশীলতা, ভাতৃত্ববোধ, সমতা ইত্যাদি গুণের চর্চার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার চেষ্টা করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আবার সচেতন নাগরিক দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলে এবং অন্যদেরকেও এ কাজে উৎসাহিত করে। ফলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। পরিশেষে বলা যায়, দেশ ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য পালনের গুরুত্ব অনেক। এর মধ্য দিয়েই নাগরিক জীবন সুসংহত ও উন্নত হয়। আর রাষ্ট্রে নাগরিক জীবন উন্নত হলে সাম্য, স্বাধীনতা ও অধিকার ভোগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ ধরনের পরিবেশই রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()