• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সামিনা ইসলাম শিক্ষা অধ্যয়ন করে জেনেছে, সুদূর ইয়েমেন থেকে একজন অলি ভারতবর্ষে আগমন করেন এবং তিনি বিশেষত বাংলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও সংস্কৃতি বিস্তারে বিরাট অবদান রাখেন। সামিনার পিতা আরিফ একজন বিত্তবান মানুষ। তিনি গরিব-দুঃখীদের মধ্যে দান খয়রাত করেন, তবে সিয়াম পালন করেন না, কিন্তু এ বছর আর্থিক-শারীরিক ইবাদতটি সম্পন্ন করেন, যেটি একটি বিশেষ দেশে গিয়ে পালন করতে হয়।

সাওম ইবাদত লৌকিকতা পরিহারে সহায়তা করে --ব্যাখ্যা করো।

সাওম একমাত্র মৌলিক ইবাদত যেখানে লোক দেখানো বা অহংকার প্রদর্শন করার কোনো সুযোগ নেই।

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের মধ্যে সাওম অন্যতম। এটি এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে দেবেন। যিনি সাওম পালন করেন, তিনি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করেন। সাওম পালনকারীকে আল্লাহ অত্যন্ত ভালোবাসেন। এখানে লোক দেখানো বা অন্যের কাছে নিজেকে প্রদর্শন করার কোনো সুযোগ নেই । সাওম পালন ব্যক্তিকে অন্যান্য ইবাদতে লৌকিকতা পরিহারে সহায়তা করে। আল্লাহ তায়ালা হাদিসে কুদসিতে ইরশাদ করেন- সাওম আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ইমাম গাজ্জালির (র) প্রধান পরিচয় কোনটি?

ইমাম গাজজালির (র) প্রধান পরিচয় হলো তিনি একজন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও দার্শনিক।

#

আরিফ সাহেবের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

আরিফ সাহেব ইসলামের মৌলিক ইবাদতসমূহ পরিপূর্ণভাবে পালন না করে আংশিকভাবে পালন করেন, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয় । ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের (ভিত্তি) ওপর প্রতিষ্ঠিত। ১. সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (স) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, ২. সালাত কায়েম করা, ৩. জাকাত দেওয়া, ৪. রমজানের সাওম পালন ও ৫. হজ পালন করা (বুখারি ও মুসলিম)। সত্যিকারের ইমানদার হতে হলে ইসলামের সব মৌলিক ইবাদত পালন করা অত্যাবশ্যক। এগুলোর কোনোটিকে অস্বীকার করে প্রকৃত মুমিন হওয়া যায় না। অথচ সামিনার পিতা আরিফ সাহেব সাওম পালন করেন না।

উদ্দীপকের আরিফ সাহেব একজন বিত্তবান ব্যক্তি। তিনি গরিব-দুঃখীদের মধ্যে দান-খয়রাত করেন এবং হজ পালন করেন। অথচ একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ইবাদত সাওম পালন করেন না। অর্থাৎ তিনি ইসলামের বিধান আংশিকভাবে পালন করেন। পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আরিফ সাহেব সাওম পালন না করে আল্লাহর এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। তার এ কাজটি ইসলামি শরিয়তের আলোকে গ্রহণযোগ্য নয় ।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলাম যে পাঁচটি মূলভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এর কোনোটিকে অস্বীকার করে প্রকৃত ইমানদার হওয়া যায় না। সত্যিকার মুমিন হতে হলে সবগুলো মৌলিক ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা অত্যাবশ্যক।

#

উদ্দীপকে কোন অলির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে—ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে হযরত শাহজালাল (র) এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল (র) ১২৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরআন, হাদিস, ফিকহশাস্ত্রসহ ইসলামি জ্ঞানের প্রায় সব শাখায় গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। এরপর তিনি আধ্যাত্মিক সাধনায় মনোনিবেশ করেন। হযরত শাহজালাল (র) জীবনের একপর্যায়ে ইসলাম প্রচারের জন্য ভারতবর্ষে আসেন। ১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতের দিল্লি থেকে বাংলাদেশের সিলেটে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও নোয়াখালীর বহু লোক শাহজালাল (র) এর হাতে ইসলামের দীক্ষালাভ করেছে। সামিনা ইসলাম শিক্ষা বই পড়ে তাঁর সম্পর্কেই জেনেছে । উদ্দীপকের সামিনা ইসলাম শিক্ষা বই পড়ে জেনেছে, সুদূর ইয়েমেন থেকে আল্লাহর একজন অলি ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তিনি বাংলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও ইসলামি সংস্কৃতির বিস্তারে অবদান রাখেন। এখানে হযরত শাহজালাল (র) এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার এবং ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর পথে দাওয়াত দিয়েছেন। মধ্যযুগে বাংলা ভ্রমণ করা মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতার মতে, এদেশের অধিকাংশ লোক শাহজালাল (র) এর হাতেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। তিনি কুফর, শিরক ও বিদআতের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই তাকে শ্রদ্ধা করতো। হযরত শাহজালাল (র) ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন ।