- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সামিনা ইসলাম শিক্ষা অধ্যয়ন করে জেনেছে, সুদূর ইয়েমেন থেকে একজন অলি ভারতবর্ষে আগমন করেন এবং তিনি বিশেষত বাংলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও সংস্কৃতি বিস্তারে বিরাট অবদান রাখেন। সামিনার পিতা আরিফ একজন বিত্তবান মানুষ। তিনি গরিব-দুঃখীদের মধ্যে দান খয়রাত করেন, তবে সিয়াম পালন করেন না, কিন্তু এ বছর আর্থিক-শারীরিক ইবাদতটি সম্পন্ন করেন, যেটি একটি বিশেষ দেশে গিয়ে পালন করতে হয়।
উদ্দীপকে কোন অলির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে—ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে হযরত শাহজালাল (র) এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল (র) ১২৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরআন, হাদিস, ফিকহশাস্ত্রসহ ইসলামি জ্ঞানের প্রায় সব শাখায় গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। এরপর তিনি আধ্যাত্মিক সাধনায় মনোনিবেশ করেন। হযরত শাহজালাল (র) জীবনের একপর্যায়ে ইসলাম প্রচারের জন্য ভারতবর্ষে আসেন। ১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতের দিল্লি থেকে বাংলাদেশের সিলেটে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও নোয়াখালীর বহু লোক শাহজালাল (র) এর হাতে ইসলামের দীক্ষালাভ করেছে। সামিনা ইসলাম শিক্ষা বই পড়ে তাঁর সম্পর্কেই জেনেছে । উদ্দীপকের সামিনা ইসলাম শিক্ষা বই পড়ে জেনেছে, সুদূর ইয়েমেন থেকে আল্লাহর একজন অলি ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তিনি বাংলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও ইসলামি সংস্কৃতির বিস্তারে অবদান রাখেন। এখানে হযরত শাহজালাল (র) এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার এবং ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর পথে দাওয়াত দিয়েছেন। মধ্যযুগে বাংলা ভ্রমণ করা মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতার মতে, এদেশের অধিকাংশ লোক শাহজালাল (র) এর হাতেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। তিনি কুফর, শিরক ও বিদআতের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই তাকে শ্রদ্ধা করতো। হযরত শাহজালাল (র) ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন ।

