- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অর্ধাঙ্গী [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
শিশির এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। বালিকা বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার খুব শখ থাকলেও সে পারিবারিক শাসন ডিঙিয়ে স্কুলে যেতে পারেনি। মায়ের কাছে সে আরবি বর্ণমালা শিখেছে। এরপর কায়দা শিখে যখনই আমপারা শিখতে শুরু করে তখনই তার বিয়ের প্রস্তাব আসে। তার পিতা-মাতা কালবিলম্ব না করে মেয়ের বিয়ে দেন। ভাগ্যগুণে শিশির ভালো স্বামী পেয়ে যায়। সে স্বামীর সংসারে থেকে নিজের প্রচেষ্টা ও স্বামীর উৎসাহে বিদ্যা অর্জন করে। তাতে সে সমাজে নারীর হীন অবস্থা বুঝতে পারে। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সে নারীশিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে তার এলাকার নারীদের শিক্ষিত করে তোলে।
উদ্দীপকে শিশিরের পিতৃ-পরিবারে ব্যস্ত নারীর প্রতি মনোভাব 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে নারীর প্রতি সমালের যে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন উদ্দীপকের শিশিরের পিতৃতান্ত্রিক পরিবারেও সেই মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লক্ষ করা যায়, নারীর প্রতি সমাজ বা পরিবারের অবহেলা রয়েছে, যার ফলে একজন কন্যাসন্তান পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থায় বেড়ে উঠতে পারে না। আলোচ্য প্রবন্ধে নারীর শিক্ষার দিকটি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এ প্রবন্ধে বিশ্লেষিত 'সমাজচিত্রে দেখা যায়, নারীদের নামেমাত্র শিক্ষা দিয়ে অল্পবয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়।
উদ্দীপকের শিশির মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। অনেক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সে স্কুলে যেতে পারেনি। মায়ের কাছে আরবি শেখার সময় অল্পবয়সে তার বিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে সে নারীর প্রাপ্য অধিকার নিয়ে বিকশিত হতে পারেনি। শিশিরের মানসিক বিকাশ সেখানে অবদমিত হয়েছে। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে নারীর সমাজ-বাস্তবতার এসব দিকই আলোচিত হয়েছে। প্রাবন্ধিকের মতে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ মনে করে মেয়েদের শিক্ষার কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের শুধু প্রাথমিক শিক্ষাটুকু দিলেই চলে। তারা ভালোভাবে রাঁধতে ও সেলাই করতে পারলেই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, নামেমাত্র যে শিক্ষা তাদের দেওয়া হয় তাও পর্যাপ্ত সুযোগ ও উপকরণের অভাবে ধীরগতিতে চলে। ওই পাঠ শেষ হওয়ার আগেই তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। বলা যায়, শিশিরের পরিবারের সঙ্গে আলোচ্য প্রবন্ধে বর্ণিত এ সমাজচিত্রের অনেক মিল রয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের শিশিরের পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে নারীর প্রতি সংকীর্ণ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, যা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও উঠে এসেছে। শিশির বাবার বাড়িতে থাকাকালীন নারীর প্রাপ্য অধিকার পায়নি। সে নানাভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছে। 'অর্ধালী' প্রবন্ধেও এরকম সমাজচিত্রই দেখতে পাওয়া যায়।

