- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অর্ধাঙ্গী [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রহিম ভালোবেসে বিয়ে করেছে মনিকাকে। কিন্তু রহিম মনিকাকে কোনো রকম স্বাধীনতা দিতে নারাজ। রহিম তার স্বামিত্বের হলো আনা মনিকার উপর চাপিয়ে দিতে চায়। স্ত্রীকে সে ঘরের বাইরে বের করতে চায় না। তাই মনিকার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সে চাকরি রতে পারে না। পাঁচ বছর যাবৎ সে রান্নাবান্না ঘরকন্না নিয়েই জীবন অতিবাহিত করছে। আজ সে পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে বুঝতে শিখেছে-ইৎনটনকে শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সে তার স্বামীর কাছে চাকরি করার কথা বলে। সে স্বামীকে বোঝায় তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্য প্রার্থী, মেথও সেইরূপ তরুর সাহায্য চায়। তবেই না সংসারের যথার্থ সুখ।
'তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্যপ্রার্থী, মেঘও সেইরূপ তরুর সাহায্য চায়।'- কথাটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
নারী ও পুরুষ একে অপরের সহযোগী, সমাজের উন্নতি সাধনের জন্য নারী ও পুরুষ উভয়কেই একসঙ্গে পথ চলতে হবে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য উত্তিতে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া নারীসমাজের বিশেষ করে মুসলমান নারীসমাজের উন্নতি কামনা করেছেন। আর এ উন্নতির জন্য নারী সমাজ কোনো না কোনোভাবে পুরুষের উপর নির্ভরশীল। সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নারীরা সমাজের, একটি বৃহত্তর অংশ, তাই তাদের উন্নতি মানেই সমাজের উন্নতি বলে লেখক মনে করেন।
উদ্দীপকে মনিকা নারী-পুরুষের সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট করতে গিয়ে তরুলতার সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের বিষয় উদাহরণস্বরূপ এনেছে। এ পৃথিবীতে প্রত্যেকে প্রত্যেকের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও নারীরা মেধা, মনন ও মানসিক শক্তিতে পুরুষকে সহযোগিতা করে সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে। তাই মনিকা বলতে চেয়েছে, তরুলতার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যেমন মেঘ অর্থাৎ পানি দরকার; তেমনই মেঘের অস্তিত্বের জন্যও দরকার তরুলতা বা উদ্ভিদ। এভাবেই নারী-পুরুষ একে অপরের সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজ ও সংসারের উন্নতি সম্ভব হয়। এক অংশ বাদ দিয়ে অন্য অংশের উন্নতি বা সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন যে, সমাজের অগ্রগতি নারী ও পুরুষ উভয়ের উপর নির্ভরশীল। এ কারণে নারী ও পুরুষ নিজ নিজ উন্নতি 'সাধনের জন্যও একে অপরের উপর নির্ভরশীল। উদ্দীপকেও এ বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে যে, নারী ও পুরুষ যদি একে অন্যকে সহায়তা করে তবেই সংসার সুখের হয়ে ওঠে।
উত্তরের সারবস্তু: 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধ ও উদ্দীপক উভয় জায়গাতেই নারী ও পুরুষ একে অপরের উপর নির্ভরশীল- এই বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।

