• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • অর্ধাঙ্গী [গদ্য]
অর্ধাঙ্গী [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

করিমের বান্ধবী মালতী। তারা একসঙ্গে বিএ শ্রেণিতে পড়ে। একদিন কথা প্রসঙ্গে তারা নারী-পুরুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক শুরু করে। করিম পুরুষ তাই নারীর বিপক্ষে মতবাদ পোষণ করে বলে, সর্বক্ষেত্রে নারীকে এতটা স্বাধীনতা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো উচিত নয়। কিছু মালতী করিমের কথার ধিরোধিতা করে বলে, নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনে সমাজের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। কেননা মানুষের যদি শুধু ডান হাত থাকে বাম হাত না থাকে, তাহলে যেমন মানুষটির পক্ষে উন্নয়নমূলক কাজে ভালোভাবে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়, তেমনই নারীকে বাদ দিয়ে সমাজ ও সংসারে উন্নয়ন আসতে পারে না।'

উদ্দীপকে উল্লিখিত মালতীর মন্তব্যটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সামাজিক উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীর যথাযথ অংশগ্রহণ কামনা করেছেন যা উদ্দীপকে মালতীর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের মতে, সমাজের বৃহত্তর এ অংশ বাদ দিয়ে সামগ্রিক সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়। নারী-পুরুষের সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না। সমাজ এবং পারিবারিক উন্নয়ন সাধনের জন্য নারী ও পুরুষ দুজনকেই সমানভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

উদ্দীপকে মালতী সামাজিক উন্নতিতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা বলেছে। তার মতে; নারীকে বাদ দিয়ে সমাজ ও সংসারে উন্নতি আসতে পারে না। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্য চায়, তেমনই মেঘও তবুর সাহায্য চায়। ডাক্তার যেমন ব্যারিস্টারের সাহায্য প্রার্থী, তেমনই ব্যারিস্টারও ডাক্তারের সাহায্য চায়। সুতরাং নারীসমাজকে বাদ দিয়ে সমাজের বৃহত্তর উন্নতি হতে পারে না। অতএব উদ্দীপকের মালতীর মন্তব্যটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমাজ ও সংসারের উন্নয়নে সমানভাবে অংশগ্রহণের দিকটিকে ইঙ্গিত করে।

উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের মালতী সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ কামনা করেছে। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সমাজের উন্নয়নে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ কামনা করেছেন। মালতীর মন্তব্যটি আলোচ্য প্রবন্ধে নির্দেশিত নারী ও পুরুষের সমান অংশীদারিত্বের দিকটিকে ইঙ্গিত করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সীতার স্বামীর নাম কী?

সীতার স্বামীর নাম রামচন্দ্র।

#

পুরুষরা নারীর প্রতি উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করে না কেন? ব্যাখ্যা করো।

নারীর প্রতি পুরুষদের উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন না করার কারণ হলো তাদের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।

পুরুষশাসিত সমাজে নারীর অধিকার সম্পর্কে নারীরাই সচেতন নয়। পুরুষেরাও এ সুযোগে তাদের আধিপত্যকামী মানসিকতাকে কাজে লাগিয়েছে। পুরুষেরা চায় নারীদের প্রতি প্রভুসুলভ আচরণ করতে, তাই তারা নারীদের প্রতি উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শনে অনুদার।

উত্তরের সারবস্তু: পুরুষদের আধিপত্যকামী মানসিকতা, প্রভুসুলভ আচরণ ও নারীসমাজের অসচেতনতার কারণে তারা নারীদের প্রতি উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করে না।

#

'উদ্দীপকের মালতীর প্রদত্ত মন্তব্যটি নারীদের সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার শিক্ষা দেয়।'- 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যয়ন করো।

'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত নারীসমাজের উন্নয়ন সাধনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি উদ্দীপকের মালতীর বক্তব্যে ফুটে উঠায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের পরাধীন জীবনের চিত্র তুলে ধরে এর জন্য পুরুষসমাজকে যেমন দায়ী করেছেন তেমনি নারীদেরকেও অধিকার সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আরামপ্রিয়তা ছেড়ে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করার কথা বলেছেন। কেননা সমাজের উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও সমান ভূমিকা রয়েছে।
উদ্দীপকের মালতী সমাজের উন্নয়নে নারীর ভূমিকার কথা বলেছে। সে নারী ও পুরুষকে দুই হাতের সঙ্গে তুলনা করেছে। এক হাত না থাকলে আমরা যেমন পূর্ণাক্তা মানুষ নই, ঠিক তেমনই নারী ছাড়া সমাজের উন্নয়ন অসম্ভব।

উদ্দীপকে নারী ও পুরুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে করিম ও মালতীর মধ্যে বিতর্ক হয়। করিম সব ক্ষেত্রে নারীদের নিয়োগ দেওয়ার বিরোধী। কিন্তু বান্ধবী মালতী করিমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজের উন্নতির জন্য নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা বলে। সুতরাং উদ্দীপকে করিমের বক্তব্যের বিরোধিতা করে মালতীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমরা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের এ শিক্ষাই লাভ করি যে, নারীদের উন্নয়ন তথা বৃহত্তর সমাজের উন্নয়নে যেমন করিমদের মতো পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন দরকার, তেমনই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে সামাজিক উন্নয়নে নারীর অন্তর্ভুক্ত হওয়াও একান্ত প্রয়োজন।

উত্তরের সারবস্তু: রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে সামাজিক উন্নতির জন্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন এবং নারীদের সামাজিক সচেতনতা কামনা করেছেন। উদ্দীপকের মালতীও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।