• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মেহের আলী একজন ধার্মিক ব্যক্তি। তিনি এলাকার কিছু শিক্ষিত লোকের সাথে আলোচনা করে কাশিমপুর গ্রামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে এলাকার ছোট ছেলে-মেয়েরা কুরআন তিলাওয়াত, বিভিন্ন দোয়া ও মাসায়ালা শিক্ষা লাভ করে। ঐ প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষক ইমদাদ সাহেব ইমামতি ছাড়াও প্রয়োজনে রোগীদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগণকে সচেতন করেন।

মেহের আলীর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের মেহের আলীর গড়ে তোলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হলো 'মন্তব'।

আরবি 'মক্তব' শব্দের বাংলা অর্থ হলো লেখার স্থান, বিদ্যালয় বা শিক্ষাকেন্দ্র। এটি ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান ও মৌলিক বিষয়গুলো শেখার একটি আদর্শ স্থান। মক্তব বলতে সাধারণত সে প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেখানে ছোট ছোট মুসলিম ছেলেমেয়েদেরকে কুরআন তেলাওয়াত, হাদিস ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। সাধারণত মসজিদের বারান্দায়, মাদরাসার সাথে, বৈঠকখানায় বা বাড়ির আঙিনায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। ইসলামের মূলগ্রন্থ আল কুরআন ও হাদিস ছাড়াও ওযু, গোসল, নামাজ, রোজা প্রভৃতির সঠিক নিয়মকানুন ও বিভিন্ন দোয়া শিক্ষা দেওয়া হয়। মক্তবের মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের যোগ্য ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করে। এ মত্তবের শিক্ষা শিশুকে শৈশবেই নীতিবান করে তোলে। জনাব মকবুল এ ধরনের প্রতিষ্ঠানই গড়ে তোলেন।

উদ্দীপকে উল্লেখিত মেহের আলী এলাকার মুরব্বি লোকদের সাথে আলোচনা করে সাপাহার গ্রামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কুরআন তেলাওয়াত, বিভিন্ন দোয়া ও মাসয়ালা শিক্ষা লাভ করে। এ ধরনের শিক্ষা মূলত মক্তবেই দেওয়া হয় । তাই বলা যায়, মেহের আলীর গড়ে তোলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হলো মক্তব ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ইসলাম শব্দের অর্থ কী?

ইসলাম শব্দের অর্থ— আনুগত্য করা, আত্মসমর্পণ করা, শান্তির পথে চলা ইত্যাদি।

#

ইসলামি শিক্ষা একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা— ব্যাখ্যা কর।

জীবনের প্রয়োজনীয় সব ধরনের শিক্ষা ইসলাম শিক্ষার আলোচ্য বিষয় । ইসলাম শিক্ষা একটি পরিপূর্ণ শিক্ষা। মানুষের জীবনের এমন কোনো দিক বা বিভাগ নেই যা এ শিক্ষায় আলোচিত হয়নি। সম্ভাব্য সব সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা আছে ইসলাম শিক্ষায়। বস্তুত জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলাম যেমন— পূর্ণাঙ্গ, তেমনি শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবেও ইসলাম পূর্ণাঙ্গ ।

#

উদ্দীপকে ইমদাদ সাহেবের কর্মকাণ্ডের সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

উদ্দীপকের ইমদাদ সাহেবের সেবামূলক কর্মকাণ্ড সমাজজীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

ইসলামি সমাজব্যবস্থায় ইমাম হলেন নেতা বা পথ প্রদর্শক। ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাজে নেতৃত্ব দেওয়া তার দায়িত্ব। একজন ইমাম যদি তার ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও সমান গুরুত্বের সাথে পালন করেন তাহলে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন— নিরক্ষরতা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদকাসক্তি, বাল্যবিবাহ, নারী-পুরুষের বৈষম্য ইত্যাদি দূর করা সহজ হয় ।

উদ্দীপকে দেখা যায়, ইমদাদ সাহেব মক্তবে পাঠদান ও ইমামতির পাশাপাশি রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করেন। তার এসব কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সমাজের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের চেয়েও একজন ইমামের কথা ও কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার সাথে পরামর্শ করেন এবং সে অনুযায়ী চলার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ইমামদের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ড মানবসম্পদ উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ইমামদের নেতৃত্বে সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হলে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পশুপালন, মৎস্য চাষস্হ প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নতির মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন— ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ইত্যাদি কীভাবে ধৈর্যসহকারে মোকাবিলা করা যায় সে বিষয়েও ইমাম সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দিতে পারেন। তাদের এ শিক্ষা সমাজের মানুষকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে; যা উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের কর্মকাণ্ডে ফুটে ওঠেছে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইমদাদ সাহেব কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় জনসাধারণ অপরকে সাহায্য করার বিষয়ে আন্তরিক হবে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করবে। এর ফলে তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।