- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মুক্তিযোদ্ধা মালেক সাহেবের ছেলে রাফি ইউরোপের একটি দেশে বাস করে। দেশটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে মালেক সাহেব বলেন, তিনি একজন মহান নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সে আহ্বানটি এখন সারাবিশ্বে সমাদৃত।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাফির বসবাসকৃত দেশটির ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে, রাফির বসবাসকৃত দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা বর্তমান রাশিয়া ইউরোপের একটি শক্তিশালী দেশ। দেশটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। এই দেশটি ১৯৭১. সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগসহ নানাভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছিল। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রাফি ইউরোপের একটি দেশে বাস করে। দেশটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল। এতে বোঝা যায়, রাফির বসবাসকৃত দেশটি হলো তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা বর্তমান রাশিয়া।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন
সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে সমর্থন করে। পাকবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান। যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এ প্রস্তাবে 'ভেটো' দেয়। দেশটি জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো বিল নিরাপত্তা পরিষদে পাস হতে দেয়নি। এছাড়া ভারতের সক্রিয় সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক ফোরামে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণা চালায়। এভাবে দেশটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছিল।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের রাফির বসবাসকৃত দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের কার্যক্রম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

