- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
১ম অংশ: লুনা তার মায়ের সাথে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যায়। সেই বাসার দেয়ালে একটি ছবি লাগানো ছিল। ছবিতে একজন লোক কিছু বলছেন এবং তার সামনে অসংখ্য লোক বসে আছে। লুনা তার মায়ের কাছে ছবিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এই ছবির ঘটনার সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জড়িত।"
২য় অংশ: দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নিলে জেনারেণ ডি গ্যালে লন্ডনে ফ্রান্সের একটি প্রবাসী সরকার গঠন করেছিলেন। সেই সরকারের দৃঢ় পরিচালনার মাধ্যমে জার্মানিদের পরাজিত করে ফ্রান্স নিজেদের সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছিল।
দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত বিষয়টির মতো একটি বিষয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছিল-বিশ্লেষণ করো।
দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত প্রবাসী সরকারের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে মুজিবনগর সরকার যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছিল।
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এ সরকার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (পরে বিডিআর ও বর্তমানে বিজিবি) বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এ সরকার দেশকে ১১টি সেক্টর ও কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। এছাড়া বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের আহ্বানে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোদ্যাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে।
এছাড়া মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) কূটনীতিকদের পাঠায়। বিদেশের মিশন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এজন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এসব রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে জনমত তৈরি হয়। মূলত মুজিবনগর সরকারের সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

