- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'A' সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত ছোট একটি দেশ। এই স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে অস্থায়ী একটি সরকারের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র 'B' যুদ্ধকালীন 'A' রাষ্ট্রের জনগণকে, আশ্রয়, প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নানাভাবে সহায়তা করে।
'A' রাষ্ট্রের স্বাধীনতা অর্জনে 'B' রাষ্ট্রের অবদান মূল্যায়ন করো।
উদ্দীপকে 'A' রাষ্ট্র তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে '৪' রাষ্ট্র তথা ভারতের অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ডারু সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশী দোসররা বাংলাদেশ জুড়ে নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। ভারত মুক্তিযুদ্ধে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বহির্বিশ্বে এ বিষয়গুলো প্রচার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্ট চালায়। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীকে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শ হয়। এসময় ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশা সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরা ও মেঘালয়া ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের তরুণ-যুবকদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়।
পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রায় ১ কোটি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার যুদ্ধের সময়জুড়ে তাদের আশ্রয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে যৌথ কমান্ড গঠন করে। এই যৌথবাহিনীর তীব্র আক্রমণের ফলেই কোণঠাসা হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ফলে অর্জিত হয় বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে 'B' চিহ্নিত রাষ্ট্র তথা ভারত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

