- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রফিক তার বাবার সাথে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখতে পেল। যে, একটি সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের কার্যক্রমের বর্ণনা শুনে রফিকের ইতিহাস জানার কৌতূহল বেড়ে গেল। সে প্রধান অতিথির বক্তব্য থেকে জানতে পারল- এই সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্ম হয়। অন্য আরেকদিন তারামন বিবির স্মরণসভায় গিয়ে সে জানতে পারল যে, তার মতো। আরো অনেক সাহসী মা-বোনের ত্যাগের মাধ্যমে দেশমাতৃকার যুদ্ধে সফলতা অর্জিত হয়েছে।
উদ্দীপকে স্মরণ সভায় তারামন বিবি যে শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন, স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকের তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধে নারী শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাদের ভূমিকা অপরিসীম।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাছাড়া প্রত্যেকেই নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করে। পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও ছিল গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের প্রত্যেক অঞ্চলে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল। এতে অনেকের মতো ছাত্রীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। এছাড়া অন্যান্য পেশাজীবী নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ খেতাবপ্রাপ্ত তারামন বিবির মতো রণাফাণে গিয়ে বিভিন্নভাবে যুদ্ধে অংশ নেন। এছাড়া সর্বস্তরের সাধারণ নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা; আশ্রয় ও খাদ্য দেওয়া, খবর আদান-প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে সহায়তা করে মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রফিক তারামন বিবির স্মরণসভায় গিয়ে জানতে পারে, তার মতো অনেক মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে সম্ভ্রম হারান প্রায় তিন লক্ষ নারী। নারীরা মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্নভাবে সহায়তা ছাড়াও এভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা প্রকৃতই ছিল অনস্বীকার্য।

