- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আরাফ বড়ো হয়ে লেখক হতে চায়। তাই এখন থেকেই লেখালেখির চর্চা করছে সে। সহজ-সরল শব্দ ব্যবহার তার লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। অপরিচিত বা জটিল শব্দসম্ভার সে সর্বদা পরিত্যাগ করে। সে মনে করে যে, তার লেখা পাঠককে বোধগম্য করাই আসল লক্ষ্য।
লেখক বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টাকে নিষেধ করেছেন কেন?
অনাবশ্যক বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা রচনার গুণগত মান নষ্ট করে বলে প্রাবন্ধিক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
রচনায় বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টাকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দুষণীয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, লেখকের মাঝে বিদ্যা থাকলে তা তাঁর লেখায় নিজে থেকেই প্রকাশ পায়। অনেকে নিজেকে পণ্ডিত প্রমাণের জন্য ভারি ভারি তথ্য ও বিদেশি লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। এর ফলে রচনা জটিল হয়ে পড়ে এবং পাঠক বিরক্ত বোধ করে। রচনার পারিপাট্য নষ্ট হয় বলেই বঙ্কিমচন্দ্র লেখায় বিদ্যা পরিবেশনের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশ্নোক্ত উক্তিতে।
উত্তরের সারবস্তু: রচনার গুণগত মান ঠিক রাখার প্রয়োজনে অনাবশ্যক বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা পরিহার করা প্রয়োজন বলে লেখক প্রশ্নোত্ত কথাটি বলেছেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
‘বাঙ্গালা’ শব্দটির পরিবর্তন হয়েছে কীভাবে?
‘বাঙ্গালা’ শব্দটি পরিবর্তিত হয়েছে এভাবে: বাঙ্গালা - বাঙলা - বাংলা।
উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নধ্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনার সরলতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
আলোচ্য রচনায় লেখক নবীন লেখকদের প্রতি দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ দিয়েছেন। আদর্শ লেখুকদের জন্য কোনটি উচিত আর কোনটি করা উচিত নয় এমন মতামত ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর মতে, লেখকগণ যেসব অলংকার ব্যবহার করেন, সেসবের মাঝে শ্রেষ্ঠ হলো-সরলতা। তিনি মনে করেন, সোজা কথায় স্বীয় মনের ভাব সহজে পাঠককে বোঝাতে পারা লেখকই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। কেননা, লেখার উদ্দেশ্যই পাঠককে বোঝানো।
উদ্দীপকের আরাফ বড়ো হয়ে লেখক হতে চায়। এখন থেকেই সে অল্পস্বল্প লেখালেখির চর্চা করছে এবং সহজসরল শব্দ ব্যবহার করে লিখছে। লেখালেখি হতে সর্বপ্রকার জটিলতা পরিহার করার পক্ষপাতী, যে। পাঠকের বোধগম্যতাকে সে প্রাধান্য দেয়। আর এদিকটি 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনার 'সরলতা' বৈশিষ্ট্যটিকেই সাদৃশ্যপূর্ণ করেছে।
উত্তরের সারবস্তু: 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় লেখক সরলতা গুণের কথা বলেছেন যা উদ্দীপকের আরাফের লেখায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনার আংশিক ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে।"- বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে শুধু আদর্শ রচনার সরলতার দিকটি প্রকাশিত হওয়ায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ হয়ে উঠেছে।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় লেখক নবীন লেখকদের উদ্দেশে নানা রকম পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, যশ বা খ্যাতির জন্য লেখা যাবে না। টাকার জন্য লেখা যাবে না। অসত্য এবং ধর্মবিরোধী লেখা পরিত্যাজ্য। সমাজের মজাল সাধন ও সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্য লেখা উচিত। নানাবিধ অলংকার ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সরলতা হলো শ্রেষ্ঠ অলংকার। একজন প্রকৃত লেখক সরলতা অবশ্যই গ্রহণ করবেন।
উদ্দীপকের আরাফ বড়ো হয়ে লেখক হতে চায়। এখনই অবশ্য সে লেখালেখির চেষ্টা করছে। লেখায় সে সহজসরল শব্দ ব্যবহার করে। অযথা কোনোরকম জটিলতা বা দুর্বোধ্য শব্দের ব্যবহার এড়িয়ে চলে। কেননা, সে পাঠকের বোধগম্যতাকে প্রাধান্য দেয়। এসবই 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় উল্লিখিত 'সরলতা' অলংকারের পরিচয় বহন করে।
উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য রচনার 'সরলতা' গুণের বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। তবে উদ্দীপকে শুধু এই একটি বিষয় নিয়েই আলোচিত হয়েছে। পক্ষান্তরে আলোচ্য রচনায় অলংকার ব্যবহার, মানুষের মঙ্গল সাধন, সৌন্দর্য সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয় লেখালেখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। পাশাপাশি, যশ বা খ্যাতির মোহ, বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা, অন্যের অনুকরণ ইত্যাদি পরিত্যাজ্য বলা হয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনার আংশিক ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে।
উত্তরের সারবস্তু: 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় আদর্শ রচনার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলেও উদ্দীপকে শুধু সরলতার দিকটি প্রকাশ পাওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ হয়ে উঠেছে।

