- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য সহপাঠীদের সংগঠিত করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধে তাদের অনেকেই শহীদ হলেও দেশটি শত্রুমুক্ত হয়।
মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলেও ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। পারেনি। বরং যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে মার্কিন। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়। প্রকৃতপক্ষে। 'ভেটো' ('না' ভোট দিয়ে প্রস্তাব বাতিল করা) ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি দেশের (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন) সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জাতিসংঘের নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষমতা বরাবরই অত্যন্ত সীমিত।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী।
মাহমুদ যে সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছে, মুক্তিযুদ্ধে সে সমাজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের মাহমুদ যে সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেছে তা হলো ছাত্রসমাজ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ধীরে ধীরে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি বড় অংশ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। অনেক ছাত্র প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করে।
মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। এই বাহিনীর অনিয়মিত শাখার এক বিরাট অংশও ছিল ছাত্র। মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়েই গঠন করা হয় মুজিব বাহিনী। তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ও কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরাও সংগঠিত হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। উদ্দীপকে মাহমুদ ও তার সহপাঠীদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকারই অনুরূপ। তাই বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হতো।
উক্ত সমাজের ভূমিকাতেই কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্ভব হয়েছিল? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
না, শুধুমাত্র ছাত্রসমাজের ভূমিকাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব ছিল না। এদেশের আপামর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে সহায়ক হয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছাত্রসমাজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে তাদের একক অংশগ্রহণেই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়নি। শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মীসহ সব শ্রেণির মানুষ 'স্বতঃস্ফূর্তভাবে রণাঙ্গনে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। পাশাপাশি নারীসমাজ, গণমাধ্যম, প্রবাসী বাঙালি, বৃদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আপামর জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী ভারতের অনেক সেনাও যুদ্ধে অংশ নেন। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীও অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা ও তথ্য সরবরাহের কাজ করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের ঘটনা, রণাঙ্গনের খবর দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়াতে অবদান রাখে। এছাড়া প্রবাসী বাঙালিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানি হানাদারদের গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন করেন। শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা অনুপ্রেরণামূলক গান, কবিতা, নাটক, কথিকা ইত্যাদি রচনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে উজ্জীবিত করতেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা সমাজের অর্জন নয়; বরং সব শ্রেণির মানুষের অবদান ও তাদের অনেকের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা।

