- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য সহপাঠীদের সংগঠিত করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধে তাদের অনেকেই শহীদ হলেও দেশটি শত্রুমুক্ত হয়।
উক্ত সমাজের ভূমিকাতেই কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্ভব হয়েছিল? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
না, শুধুমাত্র ছাত্রসমাজের ভূমিকাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব ছিল না। এদেশের আপামর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে সহায়ক হয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছাত্রসমাজ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে তাদের একক অংশগ্রহণেই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়নি। শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মীসহ সব শ্রেণির মানুষ 'স্বতঃস্ফূর্তভাবে রণাঙ্গনে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। পাশাপাশি নারীসমাজ, গণমাধ্যম, প্রবাসী বাঙালি, বৃদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আপামর জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী ভারতের অনেক সেনাও যুদ্ধে অংশ নেন। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীও অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রুষা ও তথ্য সরবরাহের কাজ করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের ঘটনা, রণাঙ্গনের খবর দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়াতে অবদান রাখে। এছাড়া প্রবাসী বাঙালিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানি হানাদারদের গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন করেন। শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা অনুপ্রেরণামূলক গান, কবিতা, নাটক, কথিকা ইত্যাদি রচনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে উজ্জীবিত করতেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা সমাজের অর্জন নয়; বরং সব শ্রেণির মানুষের অবদান ও তাদের অনেকের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা।

