- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
এক ঐতিহাসিক দিনে জামান সাহেব তার পরিবারের সদস্যদের সাথে টিভি দেখছিলেন। টিভির পর্দায় একজন নেতার বলিষ্ঠ কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছিল, "প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো....।" জামান সাহেব বললেন, "এই ভাষণটি ছিল আমাদের স্বাধীনতার দিক নির্দেশক।"
কত তারিখে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়?
৩রা মার্চ, ১৯৭১ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদস্বরূপ পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে এবং অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারা বাংলাদেশে হরতাল পালনের ডাক দেওয়া হয়। পূর্ব পাকিস্তান থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার এবং জনগণের দাবি মানা না হলে খাজনা ও ট্যাক্স প্রদানে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হ্যা। পূর্ব পাকিস্তানের অসহযোগ আন্দোলনের বিস্তার আমাদের মুক্তি সংগ্রামের সূচনা করেছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষণের পটভূমি ব্যাখ্যা করো।
'৭০-র সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু ৭মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন।
বাঙালির রাজনৈতিক জীবনে ৭ই মার্চের ভাষণ অনন্য হয়ে আছে। ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে মিরচকুণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমত্র হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা শুরু করে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডেকেও ১লা মার্চ তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ ও বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ২রা মার্চ ঢাকা এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে হরতাল পালিত হয়। এ রকম একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় ৭মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেন।
'৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং জনগণকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। উদ্দীপকে দেখা যায়, জামান সাহেব এক ঐতিহাসিক দিনে টিভিতে একজন মহান নেতার ভাষণ দেখছিলেন। বলিষ্ঠ কণ্ঠে সেই নেতা জনগণকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মূলত তিনি টিভিতে যে ভাষণ দেখেন তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।
জামান সাহেবের বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
"এই ভাষণটি ছিল আমাদের স্বাধীনতার দিকনির্দেশক"- উদ্দীপকে জামান সাহেবের এ বক্তব্য ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্যকে তুলে ধরে।
পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব ঐতিহাসিক ভাষণের নজির আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ তার মধ্যে অন্যতম। রাঙালির সংকটময়
পরিস্থিতিতে তিনি এ ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন এবং সাধারণ জনগণকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসন, শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস এবং নির্বাচনে জয়ের পরও ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রতারণার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ভাষণে অনিয়ম ও বথানার বেড়াজাল ছিন্ন করতে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা ও নির্দেশনা দেয়া হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত জামান সাহেব টিভিতে যে মহান নেতার ভাষণ দেখেন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক এ ভাষণের মাধ্যমেই বাঙালি জাতি সম্মিলিতভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিল। মূলত এ ভাষণেই বঙ্গবন্ধু প্রতিরোধ সংগ্রাম, যুদ্ধের কলা-কৌশল ও শত্রু মোকাবিলার উপায় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন। এ ঘোষণা ও কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে সকল স্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নয় মাস যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। উদ্দীপকের জামান সাহেবের বক্তব্যে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

