- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
চার বছর বয়সের মণি বারবার তার মায়ের কাছে বাবার খোঁজ নেয়। মা বলে, বাবা জানোয়ারদের সাথে যুদ করতে গিয়েছে। মণির মা নয় মাস সন্তানকে নিয়ে অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটালেন। অবশেষে ডিসেম্বর মাসের এক সকালে লাল-সবুজ পতাকা যাতে তার বাবাকে ফিরে পেল মণি।
"মণির বাবার মতো অন্যরাও উক্ত যুদ্ধের ফলাফলের নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে"- বিশ্লেষণ করো।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ যুদ্ধজয়ের নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল, যাঁদের মধ্যে মণির বাবা ছিলেন একজন।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকু হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর - অতর্কিত আক্রমণ চালায়। বাঙালি ছাত্র, জনতা, পুলিশ তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। তা সত্ত্বেও ওই রাতে পাকিস্তানি হানাদাররা এদেশের অসংখ্য নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে। এ প্রেক্ষিতে দেশপ্রেমে বলীয়ান, অসীম সাহসী এবং আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ এদেশের জনগণ মৃত্যুকে তুচ্ছ করে যুদ্ধে যোগদান করে। উদ্দীপকের মণির বাবাও সে রকমই একজন সাহসী যোদ্ধা। দেশের স্বাধীনতার জন্য চার বছরের শিশু সন্তান ও স্ত্রীর মায়া কাটিয়ে তিনি অসীম সাহসে যুদ্ধে যোগদান করেন। তবে মণির বাবার মতো মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ জনগণও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের বাঙালি অংশগ্রহণ করে। ফলে এ যুদ্ধ গণযুদ্ধ বা জনযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক ছিল জনগণ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র, পেশাজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ স্বকীয় অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দান; শত্রুর অবস্থান ও চলাচলের তথ্য, খাবার, ওষুধ প্রভৃতি সরবরাহ করে নানাভাবে সহায়তা করেছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে এদেশের আপামর জনসাধারণও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সমান ভূমিকা রেখেছে।

