• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

চোখের সামনে রাজাকার, আলবদররা সখিনার স্বামী আর সন্তানকে হত্যা করে এবং তাকে ক্যাম্প নিয়ে গিয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। প্রতিশোধের আগুনে প্রজ্জ্বলিত হয় সখিনা। একদিন সে বুকে পিঠে বোমা বেধে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাক ক্যাম্পটি ধ্বংস করে দেয়। এভাবে সখিনার মতো নারীর আত্মত্যাগে রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধের আরো একটি সাফল্য গাথা। এমনিভাবে সর্বস্তরের বাঙালির অংশগ্রহণে গণযুদ্ধের মাধ্যমেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।

স্বাধীনতা ঘোষণার সময় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রটির নাম কী ছিল?

স্বাধীনতা ঘোষণার সময় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রটির নাম ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

৭ মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মূল বক্তব্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

রেসকোর্স ময়দানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির ওপর পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, নিপীড়ন, অত্যাচার, বঞ্চনা এবং প্রতারণার পটভূমি তুলে ধরেন এবং এই সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নির্দেশ দেন। তাঁর বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল- 'এবারের সংগ্রাম-আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' ৭ই মার্চের এই ভাষণ থেকেই বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা ও মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা পায় এবং বাঙালি জাতির একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠে স্বাধীনতা।

#

সখিনার আত্মত্যাগ মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা মূল্যায়নের। একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ- ব্যাখ্যা করো।

সখিনার আত্মত্যাগ মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা মূল্যায়নের একটি যথার্থ উদাহরণ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীরা গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছিলো। ১৯৭১ সালে মার্চের শুরু থেকেই প্রতিটি অঞ্চলে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলে নারী বিশেষত ছাত্রীরা মতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে অস্ত্র চালনা এবং গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে একদিকে যেমন তারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়; অন্যদিকে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা শুশ্রুষা, আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহের মাধ্যমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনা কর্তৃক প্রায় তিন লক্ষ নারী ধর্ষিত হয় যারা পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী ছিলো। তাদের এই ত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূণ ধীরাজানা উপাধিতে ভূষিত করা হয়'। উদ্দীপকের সখিনাও সে রকম একজন বীরাঙ্গনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার স্বামী ও সন্তানকে তার সামনে হত্যা করা হ্যা এবং ক্যাম্পে নিয়ে সখিনাকে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে সখিনা বুকে পিঠে বোমা বেঁধে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাক ক্যাম্প ধ্বংস করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রচনা করেন নারীদের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তাই বলা যায়, সখিনার আত্মত্যাগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকাকে মূল্যায়ন করা যায়।

#

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ- তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ।

বাংলার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মুক্তিযুদ্ধকে এক অনন্য মাত্রা দান করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ, তাই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র, পেশাজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ চালায় বাঙালি ছাত্র-জনতা, পুলিশ, ইপিআর সাহসিকতার সাথে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বিনা প্রতিরোধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাঙালিরা ছাড় দেয়নি। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে বহু মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে শহিদ হন। আবার অনেকে গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হন।

এদেশের লাখো মুক্তিযোদ্ধা দেশকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে মৃত্যুকে তুচ্ছ করে যুদ্ধে যোগদান করেছিল। তারা ছিল দেশপ্রেমিক, অসীম সাহসী এবং আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক, পুলিশ, আনসার, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল স্তরের মানুষ সর্বাত্মকভাবে অংশগ্রহণ করেছিল বলেই মাত্র নয় মাসে স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।