• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রফিক, আশরাফ, রনি, বুলবুল এরা সবাই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের জীবনের পণ ছিল হয় বিজয় না হয় মৃত্যু। এদের মতো শিক্ষার্থীরা ১৯৪৮ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত বিভিন্ন দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়। এর মাঝামাঝি তারা অন্য কিছু কল্পনা করতে পারেনি। অন্যদিকে, তাদের সহায়তা করার জন্য ছিল এক বিশাল কার্যক্রম যারা দেশের ভিতরে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনাসহ বিশ্ব জনমত গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল।

উদ্দীপকের শেষাংশে যাদের কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে, তাদেরকে কি মুক্তিযুদ্ধের প্রাণ বলা যায়? যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।

উদ্দীপকের শেষাংশে মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ সরকারই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রাণ।

মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমৃত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে 'মুজিবনগর সরকার' গঠন করা হয়। এ সরকার ঐ সালের ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এ সরকারের রাষ্ট্রপতি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং প্রধানমন্ত্রী হন তাজউদ্দীন আহমদকে।

বাঙালি কর্মকর্তাদের নিয়ে মুজিবনগর সরকার প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেন। এতে মোট ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল। মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মিশন স্থাপন করেন। এসব মিশন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ে চেষ্টা করে। সঠিকভাবে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি সামরিক জোনে বিভক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১১ই এপ্রিল তা ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং মুক্তিফৌজ গঠন করা হয় যা পরবর্তীতে মুক্তিবাহিনী হিসেবে নামকরণ করে। প্রতিটি সেক্টরে গেরিলা বাহিনী গঠন করা হয়। এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষকসহ সকল পেশার লোক অংশগ্রহণ করে।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে পরোক্ষভাবে বর্ণিত মুজিবনগর সরকারই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রাণ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()