• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

নিলা: ১৯৭১ সালের ৪র্থ মাসে খুলনা বিভাগের একটি জেলায় একটি সরকার নতুন যাত্রা শুরু করে। এই সরকারের মাধ্যমে যুদ্ধে বাঙালি সৈনিকদের গতি আসে।

পলি: একটি পরাশক্তির দেশ মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সাহায্য করেছে। শক্তিধর দেশটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের পক্ষে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পলির বর্ণিত দেশটির অবদান মূল্যায়ন করো।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পলির বর্ণিত দেশ তথা রাশিয়ার (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) অবদান অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)। পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী-ধর্ষণসহ যাবতীয় মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান। তিনি ইয়াহিয়া খানকে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন। সোভিয়েত পত্র-পত্রিকা ও প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃস্টিতে সহায়তা করে। জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' (বিরোধিতা করা) প্রদান করে তা বাতিল করে দেয়।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে পলি বলেছে, একটি পরাশক্তির দেশ মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সাহায্য করেছে। শক্তিধর দেশটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের পক্ষে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এখানে পরাশক্তির দেশ বলতে সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা বর্তমান রাশিয়াকে বোঝানো হয়েছে। দেশটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষ নেয়। এ সময় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বন্ধ করার প্রস্তাব তোলে। কারণ যুদ্ধ বন্ধ হলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এ দেশে আবার শোষণ করার সুযোগ পাবে। এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা তথা ভেটো প্রদান করে।

উদ্দীপকে পলির বর্ণিত পরাশক্তির দেশ তথা বর্তমান রাশিয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। তাই বলা যায়, রাশিয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

‘কালরাত্রি’ কী?

কালরাত্রি অর্থ হলো অশুভ বা ভয়ঙ্কর রাত। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের রাতকে কালরাত্রি বলা হয়।

#

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন 'জনযুদ্ধ' বলা হয়?

মুক্তিযুদ্ধে বাংলার সকল শ্রেণি তথা গণমানুষের অংশগ্রহণ ছিল বলে একে জনযুদ্ধ বলা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলার নিরস্ত জনগণের ওপর আক্রমণ চালায়। বাঙালি কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, সেনা, পুলিশ, ইপিআর সদস্যরা সাহসিকতার সাথে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বাঙালিরা শক্তিশালী ও অস্ত্রে সুসজ্জিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বিনা প্রতিরোধে ছাড় দেয়নি। সর্বস্তরের জনসাধারণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে 'গণযুদ্ধ' বা 'জনযুদ্ধ' বলা হয়।

#

নিলা কোন সরকারের ভূমিকাকে তুলে ধরেছে? ব্যাখ্যা করো।

নিলা মুজিবনগর সরকারের ভূমিকাকে তুলে ধরেছে।

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এর কয়েকদিন পর ১০ই এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং এর পক্ষে বিশ্বসম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের জন্য মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় 'মুজিবনগর সরকার' গঠন করা হয়। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ'।

উদ্দীপকে নিলা বলেছে যে, ১৯৭১ সালের ৪র্থ মাসে খুলনা বিভাগের একটি জেলায় একটি সরকার যাত্রা শুরু করে যার মাধ্যমে যুদ্ধে বাঙালি সৈনিকদের গতি আসে। নিলার এ বক্তব্যটির মাধ্যমে উপরে বর্ণিত মুজিবনগর সরকারের ভূমিকাকেই নির্দেশ করা হয়েছে। মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।