- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
১৯৭০ সালে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। যুদ্ধ পরিচালনা ও বিশ্ব জনমত গড়ে তোলাই ছিল এ সরকারের উদ্দেশ্য। মুক্তিযুদ্ধে আপামর জনগোষ্ঠী ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিকটতম প্রতিবেশি দেশটির অবদান এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।
মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশি দেশটির অবদান মূল্যায়ন করো।
মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ তথা ভারত অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সুস্পষ্ট সমর্থন জানায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা বাংলাদেশ জুড়ে নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। ভারত মুক্তিযুদ্ধে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বহির্বিশ্বে এ বিষয়গুলো প্রচার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এসময় ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে সহায়তা করে। এপ্রিলের শেষ দিকে ত্রিপুরা ও মেঘালয়সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের তরুণ-যুবকদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়।
পাকিস্তানি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রায় ১ কোটি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ভারত সরকার যুদ্ধের সময় জুড়ে তাদের আশ্রয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে। এছাড়া কলকাতায় অবস্থান করে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে মিলে যৌথ কমান্ড গঠন করে। এই যৌথবাহিনীর তীব্র আক্রমণের ফলেই কোণঠাসা হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ফলে অর্জিত হয় বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়।

