• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

১৯৭০ সালে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। যুদ্ধ পরিচালনা ও বিশ্ব জনমত গড়ে তোলাই ছিল এ সরকারের উদ্দেশ্য। মুক্তিযুদ্ধে আপামর জনগোষ্ঠী ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিকটতম প্রতিবেশি দেশটির অবদান এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম স্বাধীনতার পথকে সুগম করে-যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখো।

'মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম স্বাধীনতার পথকে সুগম করে'-মন্তব্যটি যথার্থ।

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে মুজিবনগ্র সরকার গঠিত হয়। এ সরকার পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী ইপিআর (পরে বিডিআর ও বর্তমানে বিজিবি) বাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সদস্য এবং দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এ সরকার দেশকে ১১ টি সেক্টর ও কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তিনটি বিশেষ ফোর্স বা বাহিনী গঠন করা হয়। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের আহ্বানে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সমর্থন দেয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করে।

এছাড়া মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে (যেমন- দিল্লি, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, স্টকহোম) কূটনীতিকদের পাঠায়। বিদেশের মিশন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এজন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন। মুজিবনগর সরকারের এসব রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে জনমত তৈরি হয়। মূলত মুজিবনগর সরকারের সুদক্ষ পরিচালনার মাধ্যমেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()