• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

১৬ই ডিসেম্বর দুই বন্ধুর মধ্যে কথোপকথন নিম্নরূপ:

আখি: ১৯৭১ সালে আমার মা আর তার বান্ধবীরা গেরিলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন।

সাথি: আমার বাবা ছিলেন একজন বাউল শিল্পী। তিনি পাড়ায় পাড়ায় গান গেয়ে অর্থ সংগ্রহ করে তা মুক্তিবাহিনীর নিকট প্রেরণের ব্যবস্থা করতেন।

আখির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী যাদের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

আখির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী নারীদের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা অপরিসীম।

মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকে সারা দেশে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় তাতে বহু ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তাদের কেউ | কেউ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

অপরদিকে আধত মুক্তিযো্যাদের সেবা, মুস্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও পরপক্ষের তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নারীরা। এছাড়া পাক সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লক্ষ নারী। তারা আমাদের মুক্তিযুস্থের সহযাত্রী। তাই উপরের আলোচনায় পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয় কেন?

মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল 'মুজিবনগর সরকার' গঠন করা হয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য এ সরকার গঠনের কোনো বিকল্প ছিল না।

#

অপারেশন সার্চলাইট কী?

পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকাসহ কয়েকটি খানে ভয়াবহ গণহত্যা চালায়, তারই সাংকেতিক নাম ছিল অপারেশন সার্চলাইট।

#

সাথির বক্তব্যে নির্দেশিত ব্যক্তিরা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বিরুদ্ধে দুর্দমনীয় করে তুলেছিল- বিশ্লেষণ করো।

সাথির বক্তব্যে নির্দেশিত ব্যক্তিরা হলেন বাংলাদেশের শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকা মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্দমনীয় করে তুলেছিল। ১৯৭১ সাল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মূল নিয়ামক শক্তি ছিলো জনগণ। যুদ্ধ চলাকালীন মানুষকে উদ্বুদ্ধ করায় ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন সংস্কৃতি কর্মীর অবদান ছিলো খুষই প্রশংসনীয়। পত্র-পত্রিকায় লেখা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠ, দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান প্রচার, কবিতা পাঠ, নাটক, কথিকা প্রভৃতি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, সাথির যাবা ছিলেন একজন বাউল শিল্পী। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাড়ায় পাড়ায় গান গেয়ে অর্থ সংগ্রহ করে মুক্তিবাহিনীর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার মতো বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মীরা ছাড়াও বিদেশি অনেক শিল্পীও ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে বিখ্যাত ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন, পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও আলী আকবর খান মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি ও দান সহায়তা পরিচালনা জন্য 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজন করেন। এ কনসার্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ শরণার্থীদের সহায়তায় ব্যয় হয়।'

ওপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশ ও বধিবিশ্বের শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবলকে বাড়িয়ে দেয়। তাদের মানসিক ও নৈতিক বল ধরে রেখে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণকে শত্রুর বিরুদ্ধে দুর্দমনীয় করে তোলে।