- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্যপট-১: রাজু এবং কক্সবাজারের আরও কিছু শিক্ষার্থী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা করতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নাম লেখাল। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আরও কিছু মানুষ তাদের কর্মকাণ্ডে যোগ দিল। তারা প্রথমে সার্বিক কার্যক্রমের 'একটি পরিকল্পনা তৈরি করল। রোহিঙ্গাদের শরণার্থী শিবিরকে ১৫টি ভাগে বিভক্ত করা হলো। প্রতিটি ভাগকে বলা হলো ব্লক। প্রতিটি ব্লকের দায়িত্ব দেওয়া হলো একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষকে।
দৃশ্যপট-২: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন 'জলসিঁড়ি' তিনদিনের বাউল ও লোকসংগীত উৎসবের আয়োজন করল। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য সংগঠনের সদস্যরা অনেক কষ্ট করল। সংগঠনটির চেয়ারম্যান বললেন, উৎসবটি আয়োজনের মূল। উদ্দেশ্য হচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা।
তুমি কি মনে কর মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের জনগণ। দৃশ্যপট-২ এর মতো ঘটনার মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
হ্যাঁ, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের জনগণ দৃশ্যপট-২ এর মতো ঘটনার মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছিল।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজন করা হয়েছিল 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'। ভারতের বিখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর এবং বিটল্স সংগীত দলের লিড গিটারবাদক জর্জ হ্যারিসন এই কনসার্টে অংশ নেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলকে অবহিত করা এবং বাংলাদেশের শরণার্থীদের ত্রাণ তহবিল গড়তে এই কনসার্টের আয়োজন করা হয়। এই কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্য পাঠানো হয়েছিল।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের। একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন বাউল ও লোকসংগীত উৎসবের আয়োজন করে। উৎসবটি আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রোহিফলা, শরণার্থীদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা। এর সজো ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত কনসার্টের মিল আছে। এ কনসার্ট আয়োজনেরও উদ্দেশ্য ছিল রাংলাদেশি শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা।
সামগ্রিক আলোচনার পর বলা যায়, উদ্দীপকে দৃশ্যপট-২ এর ঘটনার মতো মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের জনগণও সহায়তা পেয়েছিল।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কী কী শর্ত দিয়েছিলেন?
৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সামরিক আইন প্রত্যাহার, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, সেনাবাহিনীর গণহত্যার তদন্ত, সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এই চারটি শর্ত দিয়েছিলেন।
বাঙালিরা ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেছিল কেন?
ইয়াহিয়া খান হঠাৎ করে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করার কারণে ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বন্ধের অব্যবহিত পরেই পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলনের ঢেউ রইতে থাকে। ঢাকায় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২রা ও ৩রা মার্চ ঢাকা ও সারা দেশে। হরতাল পালিত হয়। জনগণকে দমনের জন্য সান্ধ্য আইন জারি হয়। বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর গুলিতে বহু লোক হতাহত হয়। রাঙালিরা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগিতা শুরু করে।
কক্সবাজারের শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনার মধ্যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কোন বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের কক্সবাজারের শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনার মধ্যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকার কর্তৃক পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভাজনের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার পর দেশের সকল এলাকায় জনগণ স্বাধীনতার লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেি দুই সপ্তাহ পর গঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার তথী মুজিবনগর সরকার। এ সরকার সঠিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার-সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে এগারোটি সেক্টর ও বিভিন্ন সাব-সেক্টরে বিভক্ত করে। প্রতিটি সেক্টরের নেতৃত্ব উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রদান করা হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রাজু এবং কক্সবাজারের আরও কিছু শিক্ষার্থী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা করতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নাম লেখায়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আরও কিছু মানুষ তাদের কর্মকাণ্ডে যোগ দেয়। তারা প্রথমে সার্বিক কার্যক্রমের একটি পরিকল্পনা তৈরি করে। শরণার্থী শিবিরকে ১৫টি ভাগে বিভক্ত করা হয়। প্রতিটি ব্লকের দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষকে। এ থেকে বলা যায় বিষয়টি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সেক্টর বিভাজনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ মুক্তিযুদ্ধেই ছাত্রসমাজের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে এবং যুদ্ধক্ষেত্রকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।

