- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়। বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়। বাংলার মানুষ, তারা আজ তাদের অধিকার চায়।'
সূত্র: চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর
কোন রাতকে 'কালরাত্রি' বলা হয়?
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতকে 'কালরাত্রি' বলা হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকাকে' 'গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা' বলা হয় কেন?
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এদেশের ছাত্রসমাজ। এদেশের শিক্ষার্থীদের বিরাট অংশ জীবনের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। এমনকি মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে তাদের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। কার্যত মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রসমাজের আত্মত্যাগ ছাড়া বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তো। তাই মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজের ভূমিকাকে গৌরবোজ্জ্বল বলা হয়।
উদ্দীপকের ভাষণটির পটভূমি বর্ণনা করো।
'৭০-র সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল জয়ের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা বঙ্গবন্ধুকে ৭মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদানে উদ্বুদ্ধ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কথাগুলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের অংশ। সারা দেশব্যাপী নানারকম উদ্বেগ, উত্তেজনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের এ ভাষণ ছিল জাতির জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। এ ভাষণটি বিশ্বের ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছে।
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ই মার্চের ভাষণ একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পাকিস্তানের ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়। ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ থেকে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডেকেও ১লা মার্চ তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ ও বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ২রা মার্চ ঢাকা ও ৩রা মার্চ সারাদেশে হরতাল পালিত হয়। এ রকম একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াদী উদ্যান) এক বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেন। সেই ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি কৌশলগত কারণে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং জনগণকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
তুমি কি মনে কর, ঐ ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক ছিল? বিশ্লেষণ করো।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লেখিত ভাষণটি ছিল আমাদের স্বাধীনতার দিকনির্দেশক এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক।
বিশ্বের ইতিহাসে যেসব ঐতিহাসিক ভাষণের নজির আছে বজাবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ তার অন্যতম। রাজানৈতিকভাবে চরম দুর্যোগময় একটি পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন এবং জনগণকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসন ও শোষণ, বঞ্চনার ইতিহাস, নির্বাচনে জয়ের পরও ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ভাষণে বঞ্চনার বেড়াজাল ছিন্ন করতে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা ও নির্দেশনা দেয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক এ ভাষণের মাধ্যমেই বাঙালি জাতি সম্মিলিতভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিল। মূলত ৭ই মার্চের ভাষণেই বাঙালি জাতির গন্তব্য নির্ধারিত হয় এবং জনগণ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু প্রতিরোধ সংগ্রাম, যুদ্ধের কলাকৌশল ও শত্রু মোকাবিলার উপায় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন। এ ঘোষণা ও কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে সকল স্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নয় মাস যুদ্ধের দেশ স্বাধীন হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ধারাবাহিকতায়ই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর ভাষণটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক।

