- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সিনথিয়া বাবা-মায়ের সাথে কক্সবাজার বেড়াতে যায়। সন্ধ্যাবেলা পূর্ণিমার আলোয় সমুদ্রের শান্ত রূপ দেখে তারা মুগ্ধ হয়। কিছুক্ষণ পরে তারা লক্ষ করে, সমুদ্রের পানি ফুলে উঠছে এবং তীরে প্রচণ্ড বেগে আছড়ে পড়ছে। বাবা তাকে ভীত হতে নিষেধ করেন এবং বলেন যে, সমুদ্রে এরূপ অবস্থা নিয়মিত ঘটে।
জোয়ার-ভাটা কয়টি?
জোয়ার-ভাটা চারটি।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কেন্দ্রাতিগ শক্তি কী? ব্যাখ্যা করো।
পৃথিবী তার অক্ষ বা মেরুদণ্ডের ওপর প্রতিনিয়ত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। এ আবর্তনের ফলে পৃথিবীর কেন্দ্রের বিপরীত দিকে যে শক্তির সৃষ্টি হয় তাকে কেন্দ্রাতিগ শক্তি (Centrifugal Force) বলে।
পৃথিবী ও চাঁদের আবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া কেন্দ্রাতিগ শক্তি ভূ-পৃষ্ঠের জলরাশির ওপর প্রবল প্রভাব বিস্তার করে। এ শক্তির কারণে পৃথিবীর জলরাশি ভূ-ভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায়। এ কারণেই জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়।
সমুদ্রের পানিতে উক্ত সময়ে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের সিনথিয়া পূর্ণিমার সন্ধ্যায় সমুদ্রের পানিতে যে প্রতিক্রিয়া দেখেছিল, তার কারণ হলো কেন্দ্রাতিগ ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।
সমুদ্রের পানি ফুলে তীরে প্রচণ্ড বেগে আছড়ে পড়াকে বলা হয় জোয়ার এবং পানি, নেমে যাওয়াকে বলা হয় ডাটা। উদ্দীপকের সিনথিয়া বাবা-মায়ের সাথে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রের পানি ফুলে উঠতে দেখেছে, যা মূলত জোয়ার-ভাটাকে নির্দেশ করে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি এবং পৃথিবীর ওপর চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা হয়। পৃথিবীর সকল পদার্থের আকর্ষণ আছে এবং একটি অপরটিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বলে। এই মাধ্যাকর্ষণের ফলে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে এবং চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। যে যত বড় তার আকর্ষণ শক্তি তত বেশি। কিন্তু দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে আকর্ষণ শক্তি কমে যায়। সূর্য চন্দ্রে অপেক্ষা ২.৬০ কোটি গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব চন্দ্রের দূরত্ব থেকে অনেক বেশি বলে পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তি সূর্য অপেক্ষা প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ চন্দ্রের আকর্ষণেই জোয়ার-ভাটা হয়।
মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সিনথিয়ার দেখা ঘটনাটির প্রভাব আছে কি? বিশ্লেষণ করো।
হ্যাঁ, মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সিনথিয়ার দেখা জোয়ার-ভাটার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে।
নির্দিষ্ট সময় পর পর সমুদ্রের পানি ফুলে উঠা ও নেমে যাওয়াকে জোয়ার-ডাটা বলা হয়। উদ্দীপকের সিনথিয়া বাবা-মায়ের সাথে কক্সবাজারে গিয়ে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটাই দেখেছে। প্রতিদিন দুইবার করে জোয়ার-ভাটা হওয়ার ফলে নদীর আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে পানি নির্মল হয় এবং নদী মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়, ফলে নদীর মুখ বন্ধ হতে পারে না। জোয়ার-ভাটার স্রোতে নদীখাত গভীর হয়। অনেক নদীর পাশে খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকে জমিতে সেচ দেওয়া হয়।
পৃথিবীর বহু নদীতে ডাটার স্রোতকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যেমন- ফ্রান্সের, লার্যান্স বিদ্যুৎ কেন্দ্রে, ভারতের বান্ডালা বন্দরের পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি। জোয়ার-ভাটায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার ফলে শীতপ্রধান দেশে নদীর পানি চলাচলের অনুকূলে থাকে। জোয়ারের সময় নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজ অনায়াসেই নদীতে প্রবেশ করে, আবার ভাটার টানে সমুদ্রে চলে আসে।
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে জোয়ারের সময় নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পেলে বড় বড় জাহাজ প্রবেশ করে অথবা বন্দর ছেড়ে যায়। জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানিকে আবন্ধ করে শুকিয়ে লবণ তৈরি করা হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোয়ার ভাটার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

