- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সিনথিয়া বাবা-মায়ের সাথে কক্সবাজার বেড়াতে যায়। সন্ধ্যাবেলা পূর্ণিমার আলোয় সমুদ্রের শান্ত রূপ দেখে তারা মুগ্ধ হয়। কিছুক্ষণ পরে তারা লক্ষ করে, সমুদ্রের পানি ফুলে উঠছে এবং তীরে প্রচণ্ড বেগে আছড়ে পড়ছে। বাবা তাকে ভীত হতে নিষেধ করেন এবং বলেন যে, সমুদ্রে এরূপ অবস্থা নিয়মিত ঘটে।
মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সিনথিয়ার দেখা ঘটনাটির প্রভাব আছে কি? বিশ্লেষণ করো।
হ্যাঁ, মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সিনথিয়ার দেখা জোয়ার-ভাটার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে।
নির্দিষ্ট সময় পর পর সমুদ্রের পানি ফুলে উঠা ও নেমে যাওয়াকে জোয়ার-ডাটা বলা হয়। উদ্দীপকের সিনথিয়া বাবা-মায়ের সাথে কক্সবাজারে গিয়ে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটাই দেখেছে। প্রতিদিন দুইবার করে জোয়ার-ভাটা হওয়ার ফলে নদীর আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে পানি নির্মল হয় এবং নদী মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়, ফলে নদীর মুখ বন্ধ হতে পারে না। জোয়ার-ভাটার স্রোতে নদীখাত গভীর হয়। অনেক নদীর পাশে খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকে জমিতে সেচ দেওয়া হয়।
পৃথিবীর বহু নদীতে ডাটার স্রোতকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যেমন- ফ্রান্সের, লার্যান্স বিদ্যুৎ কেন্দ্রে, ভারতের বান্ডালা বন্দরের পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি। জোয়ার-ভাটায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার ফলে শীতপ্রধান দেশে নদীর পানি চলাচলের অনুকূলে থাকে। জোয়ারের সময় নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজ অনায়াসেই নদীতে প্রবেশ করে, আবার ভাটার টানে সমুদ্রে চলে আসে।
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে জোয়ারের সময় নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পেলে বড় বড় জাহাজ প্রবেশ করে অথবা বন্দর ছেড়ে যায়। জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানিকে আবন্ধ করে শুকিয়ে লবণ তৈরি করা হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোয়ার ভাটার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

