• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ইসলামে জ্ঞান অর্জনের প্রতি অপরিসীম গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কুরআন মজিদের প্রথম বাণীতেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে ইকরা অর্থাৎ পড়, জ্ঞান অর্জন কর। শিক্ষা তথা জ্ঞান আল্লাহর দান। ইসলাম জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে কী পরিমান গুরুত্বারোপ করে তা মুসলিম জাতির ইতিহাস পড়লেই বোঝা যায়। এ শিক্ষার বা জ্ঞান অর্জনের বদৌলতে মুসলিম জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করেছিল।

আল কিন্দি সম্পর্কে কী জান? লেখ।

আল কিন্দি মুসলিম দর্শনের জনক।

আল-কিন্দি ছিলেন একজন অসাধারণ ব্যক্তি। তৎকালীন সময়ের সকল প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান, চিন্তাধারাকে তিনি আয়ত্ত করেছিলেন। তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, গণিতবিদ, ভূগোলবিদ, ইতিহাসবিদ, ভাষাতত্ত্ববিদ ও চিকিৎসক।

আরবি, সিরীয়, সংস্কৃত, পাহলবী ও গ্রিক ভাষায় তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কমপক্ষে ৩৬৯ খানা গ্রন্থ রচনা করেন। মুসলিম চিন্তাধারার বিকাশে বিরাট অবদানের জন্য আল-কিন্দিকে মুসলিম দর্শনের জনক বলা হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কিতাবুল মানাযির কে রচনা করেন?

কিতাবুল মানাযির হাসান ইবনে হায়সাম রচনা করেন।

#

উদ্দীপকের বিষয়টিতে খোলাফায়ে রাশেদিন কী ভূমিকা রেখেছিলেন? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয় তথা জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে খুলাফায়ে রাশেদিনদের ভূমিকা অপরিসীম।

ইসলামে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। কুরআন মজিদের প্রথম বাণীতেই 'ইকরা' শব্দটি দ্বারা জ্ঞান অর্জনের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এজন্যই রাসুল (স.) ও খোলাফায়ে রাশেদিন জ্ঞান অর্জনের পথকে সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে খোলাফায়ে রাশেদিনদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

ইসলামের আবির্ভাব বিশ্ব ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। পবিত্র কুরআন ও হাদিস থেকে জ্ঞান অর্জনের অনুপ্রেরণা পেয়ে মুসলিম জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় এবং এর উন্নয়ন ও বিস্তারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে মহানবি (স.) থেকে শুরু করে খোলাফায়ে রাশেদিনের সময় পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কুরআন মজিদ সংকলিত হয়।

হযরত আবু বকর (রা.) থেকে শুরু করে হযরত আলী (রা.) পর্যন্ত সবাই এ ব্যাপারে ভূমিকা রেখেছেন। এসময় রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে শিক্ষা বিস্তারের জন্যও ব্যবস্থা করেছিলেন। হযরত উমর (রা.) রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য মক্তব ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষাদানের জন্য উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ করতেন এবং বায়তুল মাল থেকে তাদের বেতনভাতা দিতেন। সুতরাং জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে খোলাফায়ে রাশেদিনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় তথা শিক্ষা প্রচারে মহানবি (স.) এর অবদান অনস্বীকার্য।

#

উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি প্রচারে মহানবি (স) কী অবদান রেখেছিলেন? বিশ্লেষণ কর।

ইসলামে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যান্য জীবজন্তু ও সৃষ্টির ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মূল কারণ হলো মানুষ জ্ঞানচর্চা করে, অন্যরা করে না। সৃষ্টির উষালগ্নে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। সুষ্ঠু-সুন্দর, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য জ্ঞান অনিবার্য।

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বিপুলসংখ্যক আয়াতে, রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ ও প্রয়োজনীয়তা বিবৃত হয়েছে। আর এ ব্যাপারে রাসুল (স.) সদা তৎপর ছিলেন।

উদ্দীপকে উল্লেখিত শিক্ষা প্রচারে মহানবি (স.) অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। কুরআন মজিদ ও হাদিস শরিফের বাণীতেই শুধু শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়নি; শিক্ষা বিস্তারের জন্য মহানবি (স.) কতগুলো বাস্তব ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ইসলামের একেবারে প্রাথমিক যুগেই তিনি মক্কায় হযরত আরকাম (রা.)-এর বাড়িতে 'দারুল আরকাম' নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। এখানে নওমুসলিমগণ গোপনে শিক্ষাগ্রহণ করতেন। এছাড়া যখনই কোনো গোত্রের লোক ইসলাম গ্রহণ করত তখনই তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য সাহাবিদের শিক্ষক হিসেবে পাঠাতেন।

মদিনায় হিজরতের পর মসজিদে নববি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। মহানবি (স.) মসজিদে নববি সংলগ্ন স্থানে 'সুফফা' নামের একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন। আবার তিনি শিক্ষা বিস্তারের জন্য ইসলামি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে সাহাবিদের পাঠাতেন।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, শিক্ষা বিস্তারে রাসুল (স.) অপরিসীম ভূমিকা পালন করেন। মহানবি (স.)-এর জীবদ্দশাতেই শিক্ষা ব্যবস্থার যে সূচনা হয়েছিল তাই পরবর্তীকালে বাগদাদ, কায়রো এবং কর্ডোভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ পরিগ্রহ করেছিল।