• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

'A' ও 'B' একটি দেশের দুটি অঞ্চল। কিন্তু দেশ শাসনের ক্ষেত্রে 'A' অঞ্চলের মানুষের প্রাধান্য বেশি। বাজেটে 'B' অঞ্চলের জন্য। মোট বরাদ্দের চার ভাগের এক ভাগ রাখা হতো। 'B' অঞ্চলের একজন নেতা এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি কিছু পরিকল্পনা হাতে নেন ফলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু 'B' অঞ্চলের মানুষের তীব্র আন্দোলনের মুখে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

উদ্দীপকের ১ম অংশে কোন বৈষম্যের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের ১ম অংশে পাকিস্তান শাসনাধীনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি কৃত অর্থনৈতিক বৈষমের প্রতিফলন ঘটেছে।

পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বে পূর্ব পাকিস্তান, পশ্চিম পাকিস্তান অপেক্ষা সবদিক দিয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের সৃষ্ট বৈষম্য এ অঞ্চলকে সবদিক থেকে পিছিয়ে দেয়। পূর্ব পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। এ বৈষম্যের ফলে পূর্ব পাকিস্তানের চেয়ে পশ্চিম-পাকিস্তান অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। যেমন- (১৯৫৫-১৯৫৬) থেকে (১৯৫৯-১৯৬০) অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেট বরাদ্দের মাত্র ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অপরদিকে, পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা, এছাড়া পূর্ব বাংলার পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ, ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প-উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকপুর পিছিয়ে পড়ে। উদ্দীপকে আলোচনার প্রথম অংশে দেখা যায় 'A' ও 'B' একটি দেশের দুটি অঞ্চল হলেও 'A' অন্যলের মানুষ দেশ শাসনে প্রাধান্য পাওয়ায় 'B' অঞ্চল ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হয়। যার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

২১ দফার আঠারো নম্বর দফাটি কী?

২১ দফার ১৮ নম্বর দফাটি হলো- একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ও সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।

#

মৌলিক গণতন্ত্র কী? ব্যাখ্যা কর।

মৌলিক গণতন্ত্র হলো পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খান কর্তৃক গৃহীত একটি অভিনব গণতন্ত্র। এ. ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমন্ডলী গঠিত হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। এটি ছিল মূলত একটি পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি।

#

উদ্দীপকের ২য় অংশের প্রভাবই ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়"- তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? যৌক্তিক বিশ্লেষণ কর।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশটি হলো ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি। ঐতিহাসিক এ ছয় দফার প্রভাবই ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়- বক্তব্যের সাথে আমি একমত।

৬ দফা বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা ওঠে এসেছে। আইয়ুব সরকার একে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি আখ্যা দিয়ে ব্যাপক দমনপীড়ন শুরু করে। ফলে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে। এ আন্দোলনের ফলে ১৯৬৯ সালে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন হয়। ইয়াহিয়া খান একটি সাধারণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯৭০ সালে আয়োজিত এ সাধারণ নির্বাচনে ৬ দফাকে নির্বাচনি ইশতেহার হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এ নির্বাচনকে ৬ দফার পক্ষে গণভোট হিসেবে অভিহিত করেন।

সুতরাং, উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে আলোচিত ঐতিহাসিক ৬ দফার প্রভাবই যে ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।