• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ঘটনা-১: আমেরিকান তবুণী মার্গারেট কিছুদিন হলো বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছে। ফাগুনের এক ভোরে সে দেখতে পায়, বেশকিছু মানুষ খালি পায়ে রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটে চলেছে। তারা সবাই একটি দুঃখের গান গাইছে। তারা একটি স্মৃতিস্তন্ডে ফুল ও ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। একজনের কাছ থেকে সে জানতে পারল, স্মৃতিস্তম্ভটি একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের ফল।

ঘটনা-২: রহিম সাহেব একটি অঞ্চলের নেতা। অন্য আরেকটি অঞ্চল নিয়ে তাদের দেশ গঠিত। রহিম সাহেবের অঞ্চলের আয় বেশি হলেও তাদের টাকায় উন্নতি হচ্ছিল অন্য অঞ্চলটিতে। তাই রহিম সাহেব কিছু দাবি সরকারের কাছে পেশ করেন। সরকার তাদের দাবি না মানলে তারা স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হন।

জাতীয়তাবাদ কী?

নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নিজস্ব ভাষা, ইতিহাস, ধর্ম, সংস্কৃতি প্রভৃতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ যে স্বাতন্ত্র্যবোধ তাই জাতীয়তাবাদ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

আমরা দেশের স্বার্থরক্ষায় সচেতন হব কেন?

আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ও দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। অনেকে তাদের জীবনকে উৎসর্গ করে আমাদের এই প্রিয় স্বাধীন মাতৃভূমি উপহার দেন। সুতরাং আমাদের উচিত তাদের এ মহান আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে দেশের স্বার্থ রক্ষায় সচেতন হওয়া। কারণ দেশের স্বার্থ সঠিকভাবে রক্ষিত হলে আমাদেরই স্বার্থ রক্ষিত হবে।

#

ঘটনা-১-এ তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঐতিহাসিক আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘটনা-১-এ আমার পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।

১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপলাভ করে। ১৯৫২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ও ২১ ফেব্রুয়ারি (বাংলা ৮ ফাল্গুন) দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করেন। পুলিশ এ মিছিল থেকে প্রথম কয়েকজনকে গ্রেফতার করে, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন। ঢাকার ছাত্রহত্যার খবর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শোক র‍্যালি বের হয়। সেখানে পুলিশের হামলায় শফিউর রহমান শহিদ হন। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে পড়ে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান তাদের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলাদেশের ২১ ফেব্রুয়ারির শহিদ দিবসকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উদ্দীপকে ঘটনা-১-এ বর্ণিত ফাল্গুনের ভোরে খালি পায়ে হেঁটে চলা, দুঃখের গানা গাওয়া, স্মৃতিস্তম্ভ তথা শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ। এগুলো সবই আমাদের শহিদ দিবস তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে নির্দেশ করে। আর এ শহিদ দিবস তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনেরই ফসল।

সুতরাং ঘটনা-১ এ ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।

#

"রহিম সাহেবের পেশকৃত দাবির সঙ্গে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে ধারণাটির মিল আছে তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে সুগম করে।" তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।

ঘটনা-২-এ বর্ণিত রহিম সাহেবের পেশকৃত দাবির সঙ্গে আমার পাঠ্যবইয়ের ৬ দফার মিল রয়েছে এবং এ ব্যাপারে আমি সহমত পোষণ করি।

১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান তথা পাকিস্তান রাষ্ট্র সকল ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুবিধা লাভকরছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। ৬ দফায় পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি, প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা তথা আথালিক নিরাপত্তার কথা, নিজস্ব মুদ্রার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। কিন্তু আইয়ুব সরকার ৬ দফাকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি' হিসেবে আখ্যায়িত করে। একে অগ্রাহ্য করে। ফলে আইয়ুব খানের এ মন্তব্য বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়।

পাকিস্তান সরকার ৬ দফা গ্রহণ না করে দমনপীড়ন শুরু করলে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে। এরপর তা ক্রমে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়। স্বায়ত্তশাসনের ৬ দফা দাবিই পরবর্তীতে বাঙালির মনে যে সুপ্ত বাসনা জাগিয়েছিল, তা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত আন্দোলনে রূপ নিয়ে এদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরিশেষে এ কথা বলা যায়, রহিম সাহেবের পেশকৃত দাবি আমাদের মুক্তির সনদ ৬ দফার সাথে মিল আছে।