- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ঘটনা-১: আমেরিকান তবুণী মার্গারেট কিছুদিন হলো বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছে। ফাগুনের এক ভোরে সে দেখতে পায়, বেশকিছু মানুষ খালি পায়ে রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটে চলেছে। তারা সবাই একটি দুঃখের গান গাইছে। তারা একটি স্মৃতিস্তন্ডে ফুল ও ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। একজনের কাছ থেকে সে জানতে পারল, স্মৃতিস্তম্ভটি একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের ফল।
ঘটনা-২: রহিম সাহেব একটি অঞ্চলের নেতা। অন্য আরেকটি অঞ্চল নিয়ে তাদের দেশ গঠিত। রহিম সাহেবের অঞ্চলের আয় বেশি হলেও তাদের টাকায় উন্নতি হচ্ছিল অন্য অঞ্চলটিতে। তাই রহিম সাহেব কিছু দাবি সরকারের কাছে পেশ করেন। সরকার তাদের দাবি না মানলে তারা স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হন।
ঘটনা-১-এ তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঐতিহাসিক আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘটনা-১-এ আমার পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।
১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপলাভ করে। ১৯৫২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ও ২১ ফেব্রুয়ারি (বাংলা ৮ ফাল্গুন) দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করেন। পুলিশ এ মিছিল থেকে প্রথম কয়েকজনকে গ্রেফতার করে, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন। ঢাকার ছাত্রহত্যার খবর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শোক র্যালি বের হয়। সেখানে পুলিশের হামলায় শফিউর রহমান শহিদ হন। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে পড়ে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান তাদের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলাদেশের ২১ ফেব্রুয়ারির শহিদ দিবসকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
উদ্দীপকে ঘটনা-১-এ বর্ণিত ফাল্গুনের ভোরে খালি পায়ে হেঁটে চলা, দুঃখের গানা গাওয়া, স্মৃতিস্তম্ভ তথা শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ। এগুলো সবই আমাদের শহিদ দিবস তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে নির্দেশ করে। আর এ শহিদ দিবস তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনেরই ফসল।
সুতরাং ঘটনা-১ এ ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।

