- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্যকল্প-১: বাংলাদেশি হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে নাবিল বেশ গর্ববোধ করে। তার দেশের জনগণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিশ্বাবাসী পেয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে মায়ের ভাষা পালনের অধিকার।
দৃশ্যকল্প-২: 'A' এলাকা একসময় 'B' এলাকার অধীনে ছিল। সে সময়ে 'A' এলাকার একজন নেতা জনগণের বিভিন্ন বিষয়ের অধিকারের বৈষম্য নিয়ে প্রতিবাদ করায় এবং কিছু গোপন পরিকল্পনা। করার কারণে গ্রেফতার হন। 'A' এলাকার লোকজনের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ‘B' এলাকার শাসকগোষ্ঠী তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
'দৃশ্যকল্প-২: এ নির্দেশিত ঘটনাটিই 'A' অঞ্চলের জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে ঠেলে দেয়।" তুমি কি একমত? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ নির্দেশিত ঘটনাটি হলো ১৯৬৮ সালে দায়ের করা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। আর আমি একমত যে, এ ঘটনাটিই উক্ত অনালের জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে ঠেলে দেয়। এখানে 'A' এলাকার নেতা দ্বারা তৎকালীন নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্দেশ করা হয়েছে। তার বিশ্বাস ছিল শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম ব্যতীত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই তিনি সে সময় গোপনে গঠিত বিপ্লবী পরিষদের সদস্যদের তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্মতি দিয়েছিলেন। পরিকল্পনাটির ব্যাপারে একবার শেখ মুজিবুর রহমান ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় গিয়েছিলেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হওয়ার পূর্বেই তা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান সরকার তাকে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আগরতলা আগরতলা মামলা দায়ের করেন। ৬ দফা ও ১১ দফাকে একীভূত করে 'আগরতলা মামলা' প্রত্যাহারের দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানের কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে গণআন্দোলনের সৃষ্টি করে, তাতে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার বাধ্য হয়ে ১৯৬৯ সালের, ২২ ফেব্রুয়ারি 'আগরতলা মামলা' প্রত্যাহার ও সব আসামিদের মুক্তি দেয়। ১৯৬৯ সালে সৃষ্ট এ গণজোয়ার ও এর সফলতার প্রেরণাই পরবর্তীতে বাঙালিদের স্বাধীনতার পথে ধাবিত করে।
সুতরাং উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২- এ নির্দেশিত ঘটনাটিই যে পরবর্তীতে উক্ত অঞ্চলের জনগণকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে ঠেলে দেয় তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

