- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্য-১: বিংশ শতকের ষাটের দশকের শেষ দিকে পূর্ব বাংলার। সাধারণ জনগণ তাদের দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নামে। এই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক শহিদ হন।
দৃশ্য-২:
ক্রম | অঞ্চলের নাম | স্থল বাহিনীতে কর্মরত অফিসারের শতকরা হার | নৌবাহিনীতে কর্মরত অফিসারের শতকরা হার | বিমান বাহিনীতে কর্মরত অফিসারের শতকরা হার |
|---|---|---|---|---|
১ | পূ. পাকিস্তান | ১.৩ | ১.১ | .০৫ |
২ | প. পাকিস্তান | ৯৮.৭ | ৯৮.৯ | ৯৯.৯৫ |
'উদ্দীপকের দৃশ্য-২-এ বৈষম্যের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা মোকাবিলায় ছয় দফা কর্মসূচি উত্থাপিত হয়েছিল'- পক্ষে যুক্তি দেখাও।
উদ্দীপকের দৃশ্য-২-এ পাকিস্তান আমলে বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তান সরকারের সামরিক শোষণের নিখুঁত চিত্র ফুটে উঠেছে। চিত্রিত এ বৈষম্যের প্রতিবাদ বা মোকাবিলায়ই ১৯৬৬ সালে ঘোষিত হয়েছিল ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি। বস্তুত পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম গভীর ও সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবিনামায়। এই ৬ দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সামগ্রিক অধিকারের দলিল। এ দলিলের ৬টি দাবির মধ্যে ২টি ছিল প্রশাসনিক, ৩টি ছিল অর্থনৈতিক এবং ১টি ছিল সামরিক। ১৯৪৭-১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এই ১৯ বছরে বাঙালির প্রতি পাকিস্তানের সামগ্রিক শোষণের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর ছিল। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দীর্ঘ ১৯ বছরের সে শোষণের আংশিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে উদ্দীপকের দৃশ্য-২-এ। সুতরাং বৈষম্য মোকাবিলার জন্যই ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষিত হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

