• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ছবিটি দেখে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রভাব কি?

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর পূর্বে তিনি 'ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' তুলে নেন। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে। এর মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার বিকাশ এ ঘটে। ১৯৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৬৯- এর গণঅভ্যুত্থানের ব্যাপক প্রভাব ছিল।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

উদ্দীপকের চিত্রটি ইতিহাসের কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের চিত্রটি হলো ঢাকা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে।

পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই তার ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে এপ্রিল মাসে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা যখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, তখনই বিতর্কটি পুনরায় শুরু হয়। ১৯৪৭সালের ১৭ মে চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. মুহাম্মদ এনামূল হকসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী এর প্রতিবাদ করেন। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। সর্বশেষ ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানে জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করলে আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে অগ্রসর হয়। একপর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলার দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। উদ্দীপকের চিত্রটি শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের উদ্দেশে নির্মাণ করা হয়েছে জাতীয় শহিদ মিনার। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নির্মিত হয়েছে।

#

পাকিস্তান সরকারের ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার এক নম্বর আসামি কে ছিলেন?

পাকিস্তান সরকারের ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

#

"উদ্দীপকের ঐতিহাসিক ঘটনাটি বাঙালির সকল রাজনৈতিক আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে"- মূল্যায়ন কর।

উদ্দীপকের ঐতিহাসিক ঘটনাটি ভাষা আন্দোলন যা, বাঙালির সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে- মন্তব্যটি যথার্থ।

বাঙালি, জাতীয়তাবাদ বিকাশের প্রথম ও ভিত্তিমূল হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়ের সূত্রটি নিশ্চিত হয়। বাঙালিরা তাদের অধিকার আদায় করতে সমর্থ হয়। আন্দোলনের যৌক্তিক দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় আলাদা জাতিসভার পরিচয়, যা থেকে পরবর্তীকালে জন্ম হয় একটি স্বাধীন দেশের। দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বাংলা আংশিক স্বাধীন হয় ১৯৪৭ সালে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তার স্বীকৃতি দিতে রাজি ছিল না প্রথম থেকেই। এজন্য প্রথমে তারা আঘাত করার চেষ্টা করে বাংলা ভাষার ওপর। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদে বাঙালিরা রাস্তায় নেমে আসে।

আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা দাবি আদায় করে নেয়। এর মাধ্যমে যে শিক্ষা অর্জিত হয়, তাকে কাজে লাগিরে ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালিরা সফল হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের বিজয় আসে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন এসব আন্দোলন-সংগ্রামের ভিত্তিমূল রচনা করে দেয়। এ ভিত্তির ওপরই প্রতিষ্ঠিত হ্যা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

তাই বলা হয়ে থাকে, উদ্দীপকের ঐতিহাসিক ঘটনাটি তথা ভাষা আন্দোলন বাঙালির সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।