• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি কী?

১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচিকে আইয়ুব সরকার 'বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি' বলে আখ্যায়িত করেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

যুক্তফ্রন্ট কেন গঠন করা হয়? ব্যাখ্যা কর।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তারা নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে শাসক দল মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর সমমনা পাঁচটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।

#

'X' কোন আন্দোলনকে ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে ছক-১-এ ভাষা আন্দোলনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ভাষা আন্দোলন পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক বৈষম্যের পটভূমিতে সংঘটিত হয়।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, সংস্কৃতি কোনো কিছুরই মিল ছিল না। ফলে পাকিস্তান নামক এ নতুন রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই বাঙালিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে। ১৯৪৮ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কিন্তু মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এ ঘটনায় পূর্ব বাংলার ছাত্রসমাজ ব্যাপক প্রতিবাদ করতে থাকে। ছাত্ররা ২৬ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ছাত্র ধর্মঘট পালন করে এবং ২ মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। উপস্থিত ছাত্ররা তীব্র প্রতিবাদে না না ধ্বনি দিয়ে ওঠে। এসময় সারা পূর্ব পাকিস্তানেই ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৮ সালের ১৮ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এবং ১৯৫২ সালে খাজা নাজিমুদ্দীনের বক্তব্যে জিন্নাহর কথার প্রতিধ্বনি হলে ভাষা আন্দোলন নতুন মাত্রা ও সর্বাত্মক রূপ লাভ করে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ছক-১ এ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি জাগ্রত করা হয়েছে। যার পটভূমি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক বৈষম্য।

#

'X' এর নির্দেশিত ঘটনার ফলাফল 'Y' ঘটনার মধ্যে নিহিত।

উদ্দীপকের 'X' এবং 'Y' ঘটনা দুটি হলো যথাক্রমে ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণাদায়ক শক্তি হিসেবে ঘটনা দুটির তাৎপর্য অত্যধিক।

১. ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির জীবনে একটি অবিস্মরণীয় সংগ্রামী বিজয়ের নাম। এ সংগ্রামের অন্যতম দুই সৈনিক ছিলেন আবদুল মতিন এবং কাজী গোলাম মাহবুব। ভাষা আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে তাদের নেতৃত্বেই সংগ্রাম, পরিষদ গড়ে উঠেছিল এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব তারাই দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক এ ভাষা আন্দোলনের বিজয়'ও তার সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য হিসেবে বাঙালি জাতি মুক্তির অনুপ্রেরণায় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

২. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান মহান মুক্তিযুদ্ধকে পিছন থেকে ত্বরান্বিত করেছিল এরূপ অপার একটি প্রভাব বিস্তারকারী সংগ্রাম ছিল ঐতিহাসিক ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানে দ্বৈর শাসক আইয়ুব সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর, ইয়াহিয়া খান কর্তৃক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি,
সর্বোপরি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন, বাঙালিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা প্রভৃতি ঘটনাক্রমের ধারাবাহিকতায় পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

সুতরাং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণাদায়ক শক্তি হিসেবে উদ্দীপকের ঘটনাদ্বয়ের ভূমিকা যে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।