• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সামরিক শাসক জনগণকে শোষণ ও নির্যাতন শুরু করলে জনগণ শাসকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু করে। সামরিক শাসক জনগণের অধিকারের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে তাদের নেতাকে গ্রেফতার করে। একপর্যায়ে ছাত্র, জনতা, রাজনীতিবিদসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে এসে ব্যাপকভাবে আন্দোলন শুরু করে। অবশেষে গণআন্দোলনের ফলে স্বৈরশাসক পদত্যাগ করে অন্য একজন সামরিক শাসকের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

মৌলিক গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা কর।

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে যে পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু করেন, তা-ই মৌলিক গণতন্ত্র নামে পরিচিত। মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করার কথা বলা হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। এটি ছিল পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিমূলক ব্যবস্থা।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

তমদ্দুন মজলিস কোন ধরনের সংগঠন?

তমদ্দুন মজলিস এক ধরনের সাংস্কৃতিক সংগঠন।

#

উদ্দীপকে নির্দেশিত আন্দোলনটির সাথে বাঙালির কোন আন্দোলনের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে নির্দেশিত আন্দোলনটির সাথে বাঙালির ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মিল রয়েছে।

আগরতলা মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ১৯৬৯ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন সংঘটিত হয়। ইতিহাসে এটি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। সকল গণতান্ত্রিক দল, ছাত্র, পেশাজীবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ যার যার অবস্থান থেকে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়। আন্দোলনে যুক্ত হতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন। প্রদেশব্যাপী ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিকসহ সকল শ্রেণির মানুষ রাস্তার নেমে আসে। আন্দোলনের তীব্রতা দেখে সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং ইয়াহিয়া খান নতুন সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতায় বসেন।

উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন সামরিক শাসক জনগণের অধিকারের প্রতি পুরুত্ব না দিয়ে তাদের নেতাকে গ্রেফতার করে। একপর্যায়ে ছাত্র, জনতা, রাজনীতিবিদসহ সকল শ্রেণির মানুষ আন্দোলন শুরু করে।

অবশেষে গণআন্দোলনের ফলে স্বৈরশাসক পদত্যাগ করে একজন। সামরিক শাসকের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে, যা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আন্দোলনটির সাথে বাঙালিদের ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মিল আছে।

#

উক্ত আন্দোলনের গুরুত্ব ও প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের নামক আন্দোলনের গুরুত্ব প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর পূর্বে তিনি ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা তুলে নেন। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে। গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে। ফলে ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দল ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাষে অবস্থান গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাঙালি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় হয় বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের। উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উদ্দীপকের আন্দোলনটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকেই নির্দেশ করে।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এই আন্দোলনের প্রভাবেই বাঙালিরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করেছে।